বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:১৫ পি.এম
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় তিন আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এই আদেশ প্রদান করেন।
গ্রেফতার হওয়া তিন আসামির মধ্যে রয়েছেন মো. আকাশ আহমেদ সামির ওরফে আবদুল্লাহ (২৫), মো. শাখাওয়াত হোসেন (৪৮) এবং মো. নুর নবী (৩০)।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আদালতে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, "দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা বের করতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।"
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুর রহিম আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসাইন সুমনসহ অন্যান্য আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিন দেয়ার আবেদন করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও থানার জাহাঙ্গীর গেট থেকে আগারগাঁওগামী লিংক রোডের মাথায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সংলগ্ন সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার সঙ্গে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকদের জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার সদর উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর রুকন উদ্দিন (৪০) নামে এক মিশুকচালকের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার সিংহের বাংলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার ‘বুদিয়ার জঙ্গল’ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রুকন উদ্দিন সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ ইউনিয়নের গিডুরপাড়া গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে। তিনি ব্যাটারিচালিত তিন চাকার মিশুক গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে প্রতিদিনের মতো উপার্জনের উদ্দেশ্যে মিশুক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন রুকন উদ্দিন। এরপর আর বাড়িতে ফেরেননি তিনি। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিংহের বাংলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার বুদিয়ার জঙ্গলে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্বজনেরা। পরে তাঁরা মরদেহটি রুকন উদ্দিনের বলে শনাক্ত করেন।
মরদেহ উদ্ধারের সময় তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই পা সাদা রঙের মোটা স্কচটেপ দিয়ে প্যাঁচানো ছিল। এ ছাড়া দুই হাত পেছনে নিয়ে গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে। এ ঘটনায় হত্যার সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
খবর পেয়ে নেত্রকোনা সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নেত্রকোনা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
রুকন উদ্দিনের এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কী কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে এবং কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির কুমিল্লা মহানগর আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রদান করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। একই সঙ্গে তাঁকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না কেন, তা জানাতে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশও পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে দলীয় সূত্র জানায়, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে একটি সভা চলাকালে কয়েকজন যুবক সেখানে ঢুকে হইচই সৃষ্টি করেন। পরে তারা চলে যাওয়ার সময় কার্যালয়ের সামনে থাকা একটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। সিসিটিভি ফুটেজে মুখে মাস্ক পরা এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করতে দেখা যায়। ওই যুবককে গোলাম মোহাম্মদ সামদানী বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তার সংশ্লিষ্টতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা এবি পার্টির আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক বলেন, ‘গোলাম সামদানীর বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়ার কয়েকটি কারণ রয়েছে। দলের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি এবং বুধবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জামায়াতের কার্যালয়ে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাই দলীয় সিদ্ধান্তের জন্য তাকে নোটিশ দেয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বুরকিনা ফাসো সরকার দেশব্যাপী রূপচর্চা ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নারীদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশে একটি জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু করেছে।
চলতি বছরের জুন মাসে, জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবমর্যাদা রক্ষার উদ্দেশ্যে বুরকিনা ফাসো কর্তৃপক্ষ নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করার সময় সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত করে।
এরপর আগস্ট মাসে ‘হাকিলি মুসো’ নামের একটি প্রতিযোগিতা শুরু হয়, যার উদ্দেশ্য হলো মেধাবী তরুণী ও নারীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করা এবং পুরস্কৃত করা। এই প্রতিযোগিতায় গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে মোট ৮৪ জন তরুণী অংশগ্রহণ করেন, যেখানে সেরা প্রতিযোগীদের পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান করা হয়।
প্রতিটি বিষয়ে সেরা পাঁচজন প্রতিযোগী পুরস্কার লাভ করেন। প্রথম স্থান অধিকারীরা ২০ লাখ সিএফএ ফ্রাঙ্ক, একটি মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপ এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় পুরস্কার পান।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরে বিজয়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদেরকে নিজেদের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখতে, বৈজ্ঞানিক ক্যারিয়ার বেছে নিতে এবং উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণে উৎসাহিত করেন।
এই পদক্ষেপটি দেশটির সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বজায় রাখার পাশাপাশি বিজ্ঞানে নারীদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার পদ্ধতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করা যে বিজ্ঞানভিত্তিক পেশা কেবল পুরুষদের জন্য এবং এর মাধ্যমে আরও বেশি নারীকে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা।
বুরকিনা ফাসো কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার নজর কাড়ে। বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা ও পেশা বেছে নিতে তরুণীদের অনুপ্রাণিত করার সম্ভাবনা থাকায় অনেকেই এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
কিছু ব্যবহারকারী এটিকে নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাঁদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানান। ইনস্টাগ্রামে এক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘এটি সত্যিই দূরদর্শী উদ্যোগ! ভাবুন তো, এটি কত তরুণীকে অনুপ্রাণিত করবে! দারুণ!’
আরেকটি মন্তব্যে বলা হয়, ‘আমি এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই! তিনি নিজের দেশের জন্য কাজ করছেন। একজন নারীকে শিক্ষিত করলে পুরো পরিবার শিক্ষিত হয়। তা ছাড়া, সৌন্দর্যশিল্প যত মেয়ের ক্ষতি করেছে, উপকার করেছে তার চেয়ে বেশি।’
তবে এই সিদ্ধান্ত নারীর স্বাধীনভাবে পছন্দ করার অধিকার নিয়ে বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ যুক্তি দেন, বিজ্ঞানকে উৎসাহিত করার অর্থ এই নয় যে সৌন্দর্যচর্চা ও নারীত্বকে উপেক্ষা করতে হবে।
তাদের মতে, নারীদের বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহী হওয়া এবং নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত। এক্সে এক পোস্টে বলা হয়, ‘দুটোই কেন নয়? নারীত্ব ও সৌন্দর্যকেও উদ্যাপন করা উচিত!’
তথ্যসূত্র: দ্য প্রিন্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করার ‘অপচেষ্টার’ অভিযোগ তুলে দলটি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, কোনো প্রকার নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, "দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। তবে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক সংগঠন।" তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হলে তার বিচার আইন ও আদালতের দায়িত্ব। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা কাউকে গণপিটুনি দিয়ে বিচারবহির্ভূতভাবে শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। জামায়াতে ইসলামী এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না।
তিনি আরও বলেন, "যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে, তাহলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।" একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন যে, প্রকৃত তথ্য-প্রমাণ যাচাই না করে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে দায়ী করা হলে প্রকৃত ঘটনা আড়াল হয়ে যেতে পারে। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা অনভিপ্রেত।
মিয়া গোলাম পরওয়ার সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্তকরণ এবং নিহতের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তিনি গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রচার না করার অনুরোধ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ