প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বুরকিনা ফাসো সরকার দেশব্যাপী রূপচর্চা ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নারীদের মেধা ও প্রতিভার বিকাশে একটি জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু করেছে।
চলতি বছরের জুন মাসে, জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবমর্যাদা রক্ষার উদ্দেশ্যে বুরকিনা ফাসো কর্তৃপক্ষ নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করার সময় সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত করে।
এরপর আগস্ট মাসে ‘হাকিলি মুসো’ নামের একটি প্রতিযোগিতা শুরু হয়, যার উদ্দেশ্য হলো মেধাবী তরুণী ও নারীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করা এবং পুরস্কৃত করা। এই প্রতিযোগিতায় গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন বিষয়ে মোট ৮৪ জন তরুণী অংশগ্রহণ করেন, যেখানে সেরা প্রতিযোগীদের পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান করা হয়।
প্রতিটি বিষয়ে সেরা পাঁচজন প্রতিযোগী পুরস্কার লাভ করেন। প্রথম স্থান অধিকারীরা ২০ লাখ সিএফএ ফ্রাঙ্ক, একটি মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপ এবং অন্যান্য আকর্ষণীয় পুরস্কার পান।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরে বিজয়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদেরকে নিজেদের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখতে, বৈজ্ঞানিক ক্যারিয়ার বেছে নিতে এবং উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণে উৎসাহিত করেন।
এই পদক্ষেপটি দেশটির সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বজায় রাখার পাশাপাশি বিজ্ঞানে নারীদের অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার পদ্ধতির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল এই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করা যে বিজ্ঞানভিত্তিক পেশা কেবল পুরুষদের জন্য এবং এর মাধ্যমে আরও বেশি নারীকে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করা।
বুরকিনা ফাসো কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার নজর কাড়ে। বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা ও পেশা বেছে নিতে তরুণীদের অনুপ্রাণিত করার সম্ভাবনা থাকায় অনেকেই এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।
কিছু ব্যবহারকারী এটিকে নারীর ক্ষমতায়ন এবং তাঁদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির পথে একটি পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানান। ইনস্টাগ্রামে এক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘এটি সত্যিই দূরদর্শী উদ্যোগ! ভাবুন তো, এটি কত তরুণীকে অনুপ্রাণিত করবে! দারুণ!’
আরেকটি মন্তব্যে বলা হয়, ‘আমি এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই! তিনি নিজের দেশের জন্য কাজ করছেন। একজন নারীকে শিক্ষিত করলে পুরো পরিবার শিক্ষিত হয়। তা ছাড়া, সৌন্দর্যশিল্প যত মেয়ের ক্ষতি করেছে, উপকার করেছে তার চেয়ে বেশি।’
তবে এই সিদ্ধান্ত নারীর স্বাধীনভাবে পছন্দ করার অধিকার নিয়ে বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ যুক্তি দেন, বিজ্ঞানকে উৎসাহিত করার অর্থ এই নয় যে সৌন্দর্যচর্চা ও নারীত্বকে উপেক্ষা করতে হবে।
তাদের মতে, নারীদের বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহী হওয়া এবং নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা থাকা উচিত। এক্সে এক পোস্টে বলা হয়, ‘দুটোই কেন নয়? নারীত্ব ও সৌন্দর্যকেও উদ্যাপন করা উচিত!’
তথ্যসূত্র: দ্য প্রিন্ট
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন