মামুন বিল্লাহ (কালীগঞ্জ) সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
০৭:১৫ পি.এম
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পর এক সাংবাদিকের কাছে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে। ঘুষ না দেওয়ায় সাংবাদিককে লাঞ্ছিত, দুর্ব্যবহার ও হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মিলন কুমার সাহার হস্তক্ষেপে উক্ত সাংবাদিক আরাফাত হোসেনের মোবাইল ফোনটি অফিসে ডেকে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে ফেরত দেওয়া হয়। এছাড়া তথ্য অধিকার আইনে তার কাছে আবেদন করতে বলা হয়। রবিবার (২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পিআইও অফিসের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে দৈনিক আলোকিত সকালের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ও দক্ষিণের মশালের স্টাফ রিপোর্টার আরাফাত হোসেন তার অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি উপস্থিত সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিওতে বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগ উঠে এসেছে। সাংবাদিক আরাফাত হোসেন বলেছেন, “২০২৪-২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের বাজেট ও ব্যয়, প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য জানতে আমি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমানের অফিসে গিয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন জমা দিই।” পরে তিনি খোঁজাখুঁজির নামে আমার কাছে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা দিতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার পার্সোনাল গাড়ির চালক আরশাদ আলী এবং অফিস সহকারী চন্দ্রকান্ত ঘোষ, মিলে আমাকে লাঞ্ছিত করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে অফিস চত্বরে চলে যান।
তারপর আমি উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে ঘুষ এবং আবেদন জমা না নেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তারা হুমকি দিয়ে দ্রুত আরশাদের মোটরসাইকেল মাধ্যমে অফিস চত্বর থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি তার অফিসে ডেকে আমার ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন ফেরত দিলেও ঘুষখোর মফিজের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কালীগঞ্জের সাংবাদিকরা বলেছেন, “তথ্য অধিকার আইন একটি সাংবিধানিক বিষয়। সে অনুযায়ী একজন নাগরিক হিসাবে প্রত্যেকের তথ্য চাওয়া এবং তা পাওয়ার অধিকার থাকলেও পিআইও মফিজের এমন আচরণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ বাতিলের দাবি করা হয়েছে।”
পিআইও মফিজুর রহমান কালিগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সুষ্ঠুভাবে কোন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়নি। শোনা যাচ্ছে, বিভিন্ন প্রকল্পে আগে ১০-১৫ পার্সেন্ট না দিলে প্রকল্পের বিল দেওয়া হয় না। মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসাকেও এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে। উপজেলাব্যাপী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে নামমাত্র তদারকি ছাড়া শুধুমাত্র পার্সেন্টেজই কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজন। যার ফলে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির যোগসাজশে এভাবে প্রকল্পের টাকা হরি লুটের ভাগাভাগি করে চললেও দেখার কেউ নেই। বর্তমানে পিআইও মফিজের নীতির মাধ্যমে কালিগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেবহাটা উপজেলায়ও এই মহাগ্লানি ও ঘুষের উৎসব চলছে। ঘুষখোর পিআইও মফিজের পূর্বেও যে সমস্ত জেলা ও উপজেলায় কর্মরত ছিলেন, সেখানেও তিনি মিস্টার পার্সেন্টেজ ও মহা ঘুষখোর হিসেবে গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছেন এবং এখানেও তার আচরণ আলোকপাতের বাইরে নয়। তার আগের ঘুষের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট উদ্ভাসিত হয়েছে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বারা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে সচেতন মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুই জনের মৃত্যু ঘটেছে। এর ফলে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৫৬ জনে পৌঁছে গেছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ৪২৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্যটি জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুজনের মধ্যে একজন খুলনা বিভাগের বাসিন্দা এবং অন্যজন বরিশাল বিভাগের।
অন্যদিকে, একই সময়ে নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১৫৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৩৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ৪৯ জন, খুলনা বিভাগের ৮১ জন, রাজশাহী বিভাগের ২৯ জন, রংপুর বিভাগের ১৬ জন, বরিশাল বিভাগের ৫৪ জন এবং সিলেট বিভাগের ৪ জন রোগী রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন আরও বলছে, চলতি বছরের ডেঙ্গুতে মোট আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৬ হাজার ৭৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের ৬৮৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ২ হাজার ৭৮৯ জন, খুলনা বিভাগের ২ হাজার ৬৪ জন, রাজশাহী বিভাগের ৬১২ জন, রংপুর বিভাগের ৩৪৮ জন, বরিশাল বিভাগের ৩ হাজার ৪২৫ জন এবং সিলেট বিভাগের ১০৩ জন।
এছাড়া চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৩০ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভর্তি আছেন ১ হাজার ১১৮ জন রোগী।
এর আগে গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন মোট ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা যান ৪১৩ জন। অন্যদিকে ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বারা নির্দেশিত দেশের মধ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যে গ্রহণ করা হয়েছে সেটির কোন বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।
রোববার (২ আগস্ট) বরিশাল নগরীর অক্সফোর্ড মিশন হাইস্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। এ সময়, বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণসহ নির্ধারিত স্থানে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১০০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
রহমাতুল্লাহ বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, অতিবৃষ্টি, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও নানা প্রকারের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে। সে কারণে, এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোন বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করতে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে দেশকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে দেশে ব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই কর্মসূচিকে বাস্তবায়িত করতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
রহমাতুল্লাহ যোগ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বৃক্ষরোপণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যদি পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পরিবেশ রক্ষায় আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। তাই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনকে তাদের নিজ নিজ এলাকার বৃক্ষরোপণ ও গাছের পরিচর্যায় এগিয়ে আসতে হবে।
সাংবাদিক মো: ইমন খন্দকার হৃদয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অক্সফোর্ড মিশন হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফাদার জন (এসপিবি), বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য মো: জাহিদুর রহমান রিপন, বাংলাদেশ গ্রীন ভলানটারী অর্গানাইজেশনের সভাপতি মো: আলমগীর হোসেন, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তারিক সুলাইমান, নগর স্বাধীনতা ফোরামের সদস্য সচিব নাজমুস সাকিব, নগর যুবদল নেতা মাসুম, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আসিফ আল মামুন, সদ্য সাবেক সহ-সভাপতি ইলিয়াস আহমেদ, মহানগর ছাত্রদল নেতা হাজিক দাঈয়ান ইশতী, বিএম কলেজ ছাত্রদল নেতা আকবর মুবিন, এবং ছাত্রদল নেত্রী অনন্যা কবির প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেছেন, সরকারের পাশাপাশি সমাজ থেকে আগ্রহী শ্রেণি এগিয়ে এলে জেনারেশন বাহিত জ্ঞানের গ্যাপ পূরণ সম্ভব। তিনি বলেন, দুর্যোগ সফলভাবে প্রশমন করতে হলে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আরও জানান, সরকার ও সমাজ সমন্বিতভাবে কাজ করলে, বন্যা বা অন্যান্য বিপদের সময় সর্বোচ্চ সেবা প্রাপ্তি ও প্রদান নিশ্চিত হবে।
আজ রোববার নগরীর মোটেল সৈকতে ইউনিসেফের সহযোগিতায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের অধীন জেলা তথ্য অফিস-চট্টগ্রাম কর্তৃক আয়োজিত ‘জীবন রক্ষাকারী বার্তা প্রচার, বন্যা আক্রান্ত জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং আচরণগত পরিবর্তনের বিষয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, প্রযুক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে বর্তমানে জেনারেশন বাহিত জ্ঞানের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে অনেকাংশে আলাদা জীবনযাপন করার কারণে আমরা অনেক কিছু জানতে পারি না, যার ফলে বন্যা, খরা প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলাতে বর্তমান জেনারেশন সফল হয় না। তাঁরা মোকাবেলার উপায়ও জানে না।
অনুষ্ঠানে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল অনলাইনে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তৃতা করেন ইউনিসেফ চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান মাধুরী ব্যানার্জি, বান্দরবান জেলা তথ্য অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন, এবং চট্টগ্রাম জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) আয়েশা সিদ্দীকা। ইউনিসেফ চট্টগ্রাম ও বরিশাল অঞ্চলের এসবিসি অফিসার আবদুল জলিল সাম্প্রতিক বন্যা, ক্ষয়ক্ষতি, প্রাণহানি, এবং স্বাস্থ্য তথ্য প্রচারের বিষয়ে গবেষণালব্ধ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
ওরিয়েন্টেশনে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, লামা ও পটিয়া, এই ৬টি জেলা তথ্য অফিস যোগদান করে। একইসাথে প্রত্যেক জেলা তথ্য অফিসারের নেতৃত্বে দুর্যোগে বার্তা প্রচারসহ জনসচেতনামূলক কাজ করার জন্য ৫ জন করে স্বেচ্ছাসেবীর একটি টিম অংশগ্রহণ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছে এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে।
আজ রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ইউএই প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিনিময় করেছে।
তিনি বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র বিনিময় হয়েছে। তারা (ইউএই) কিছু নির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছিল, সেগুলোও যথাযথভাবে দেওয়া হয়েছে।’
শামা ওবায়েদ ইসলাম আরও বলেন, ইউএই কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশও আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
এর আগে তিনি ‘নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনবিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তি (জিসিএম)’-এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রণীত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাপ) ২০২৬-২০৩০-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সাবেক পুলিশপ্রধান ইউএইতে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এমন গণমাধ্যম প্রতিবেদন নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আপনাদের জানাবে। আপনারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেই হালনাগাদ তথ্য পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছাড়া এ বিষয়ে এর বেশি মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে ১২ জুন একটি চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে সংশ্লিষ্ট পক্ষ।
এর আগে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের সাবেক এই পুলিশপ্রধানের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করে।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অভিবাসন পর্যালোচনা ফোরাম (আইএমআরএফ) ২০২৬-এর ফলাফল নিয়েও একটি ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে বৈশ্বিক অভিবাসন কর্মসূচি এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের অবদান ও নেতৃত্ব তুলে ধরা হয়।
ন্যাপ ২০২৬-২০৩০ বাংলাদেশ সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) যৌথভাবে প্রণয়ন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত প্রত্যাশা-২ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ