প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পর এক সাংবাদিকের কাছে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছে। ঘুষ না দেওয়ায় সাংবাদিককে লাঞ্ছিত, দুর্ব্যবহার ও হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বে) মিলন কুমার সাহার হস্তক্ষেপে উক্ত সাংবাদিক আরাফাত হোসেনের মোবাইল ফোনটি অফিসে ডেকে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাঝে ফেরত দেওয়া হয়। এছাড়া তথ্য অধিকার আইনে তার কাছে আবেদন করতে বলা হয়। রবিবার (২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পিআইও অফিসের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে দৈনিক আলোকিত সকালের সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ও দক্ষিণের মশালের স্টাফ রিপোর্টার আরাফাত হোসেন তার অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি উপস্থিত সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিওতে বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগ উঠে এসেছে। সাংবাদিক আরাফাত হোসেন বলেছেন, “২০২৪-২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের বাজেট ও ব্যয়, প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য জানতে আমি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুর রহমানের অফিসে গিয়ে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন জমা দিই।” পরে তিনি খোঁজাখুঁজির নামে আমার কাছে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা দিতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার পার্সোনাল গাড়ির চালক আরশাদ আলী এবং অফিস সহকারী চন্দ্রকান্ত ঘোষ, মিলে আমাকে লাঞ্ছিত করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে অফিস চত্বরে চলে যান।
তারপর আমি উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে ঘুষ এবং আবেদন জমা না নেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তারা হুমকি দিয়ে দ্রুত আরশাদের মোটরসাইকেল মাধ্যমে অফিস চত্বর থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি তার অফিসে ডেকে আমার ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোন ফেরত দিলেও ঘুষখোর মফিজের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কালীগঞ্জের সাংবাদিকরা বলেছেন, “তথ্য অধিকার আইন একটি সাংবিধানিক বিষয়। সে অনুযায়ী একজন নাগরিক হিসাবে প্রত্যেকের তথ্য চাওয়া এবং তা পাওয়ার অধিকার থাকলেও পিআইও মফিজের এমন আচরণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ বাতিলের দাবি করা হয়েছে।”
পিআইও মফিজুর রহমান কালিগঞ্জ উপজেলায় যোগদানের পর থেকেই উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে সুষ্ঠুভাবে কোন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়নি। শোনা যাচ্ছে, বিভিন্ন প্রকল্পে আগে ১০-১৫ পার্সেন্ট না দিলে প্রকল্পের বিল দেওয়া হয় না। মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসাকেও এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে। উপজেলাব্যাপী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে নামমাত্র তদারকি ছাড়া শুধুমাত্র পার্সেন্টেজই কাজ সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজন। যার ফলে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির যোগসাজশে এভাবে প্রকল্পের টাকা হরি লুটের ভাগাভাগি করে চললেও দেখার কেউ নেই। বর্তমানে পিআইও মফিজের নীতির মাধ্যমে কালিগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেবহাটা উপজেলায়ও এই মহাগ্লানি ও ঘুষের উৎসব চলছে। ঘুষখোর পিআইও মফিজের পূর্বেও যে সমস্ত জেলা ও উপজেলায় কর্মরত ছিলেন, সেখানেও তিনি মিস্টার পার্সেন্টেজ ও মহা ঘুষখোর হিসেবে গণমাধ্যমের শিরোনামে এসেছেন এবং এখানেও তার আচরণ আলোকপাতের বাইরে নয়। তার আগের ঘুষের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট উদ্ভাসিত হয়েছে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্বারা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে সচেতন মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন