বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৩৯ এম
৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায়ও থেমে নেই ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন। আন্দোলনে ‘তেলাপোকা’-দের পক্ষ থেকে সংহতি জানাতে একের পর এক বিরোধী শিবিরের নেতারা এগিয়ে আসছেন। এমনকি, লাদাখের জলবায়ু কর্মী সোনাম ওয়াংচুক অনশনে রয়েছেন, যিনি জেনজিদের মহারণে চালিকা শক্তি হয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র গরম উপেক্ষা করে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দিল্লির যন্তরমন্তরে অবস্থান করছেন শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী এবং আন্দোলনকারী। বিপদে পড়া পুলিশি ব্যারিকেড এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও চলছে স্লোগান, বক্তব্য এবং প্রতিবাদ। এই তরুণদের একমাত্র দাবি হল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্রচারণা থেকে উদ্ভূত 'ককরোচ জনতা পার্টি' বর্তমানে ভারতের তরুণদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জবাবদিহির দাবির একজন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
মেডিকেলে ভর্তির নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের কারণে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর থেকেই ক্ষোভ শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। পূর্বে পুনঃপরীক্ষা হলেও তারা রাজপথ থেকে যাননি।
তাদের দাবি, মন্ত্রীর পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নফাঁস রোধে স্বাধীন তদারকি, স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং শিক্ষা খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। এই আন্দোলনের সূচনা ভারতের প্রধান বিচারপতির 'তেলাপোকা' মন্তব্যে হয়েছে। সেই মন্তব্যের প্রতিবাদ আরও অনেক দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপের মাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি গঠিত হয়।
আন্দোলনে নতুন শক্তি এনেছে পরিবেশবাদী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও সমর্থকদের দাবি, ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, তবে তিনি আন্দোলন চাল রাখতে চেয়েছেন। আন্দোলনের স্থানে প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যার অভিযোগ থাকা শিক্ষার্থীদের স্মরণেও তৈরি করা হয়েছে একটি স্মৃতি দেয়াল।
এখন আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাগরিকা ঘোষ, আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, সিপিআই এবং সিপিএমসহ বেশ কিছু বিরোধী দল এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে। তবে বিজেপি সিজেপিকে 'নতুন ভাইরাস' এবং 'তেলাপোকার মতো দল' বলে সমালোচনা করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একযোগে অভিন্ন প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষাটির উদ্বোধন হয়। এই পরীক্ষা চলবে বেলা ১টা পর্যন্ত।
দ্বিতীয় শিফটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে, এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন আনুমানিক ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী।
সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে পরীক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য একাধিক কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা ২ জুলাই থেকে শুরু হয়ে ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলতে থাকবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে ১৫ আগস্টের মধ্যে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ইতিমধ্যে পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে।
এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছেন। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৮৬৯ জন। গত বছরের তুলনায় এবারের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৪৭২ জন বেড়েছে।
পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের পরীক্ষায়, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হবে। এছাড়া সারা দেশে ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪০টি রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন কানাডার অভিজ্ঞ রেফারি ড্রু ফিশার। ফিফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নকআউট ম্যাচ শুক্রবার (৩ জুলাই) মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে।
৪৫ বছর বয়সি ফিশার উত্তর আমেরিকার পরিচিত এক রেফারি। তিনি ২০১৫ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। এখন পর্যন্ত ফিশার এই লিগে ২২৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন, যেখানে নিয়মিতই মাঠে খেলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
ফিশারের অভিজ্ঞতা আর্জেন্টিনার ম্যাচে খুব বেশি নয়। তিনি এখন পর্যন্ত মাত্র একবার আলবিসেলেস্তেদের ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ কোপা আমেরিকার আগে ইকুয়েডরের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে তার পরিচালনায় আর্জেন্টিনা ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল। পরে সেই বছরই কোপা আমেরিকার শিরোপাও জেতে লিওনেল স্ক্যালোনির দল।
তবে ফিশারের ক্যারিয়ারে একটি বিতর্কিত অধ্যায়ও রয়েছে। ২০২৩ সালে কনকাকাফ নেশন্স লিগে মেক্সিকো-হন্ডুরাস কোয়ার্টার ফাইনালে ভিএআরের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ওই ম্যাচে অতিরিক্ত সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ইনজুরি টাইমে গোল করে মেক্সিকো ম্যাচ সমতায় ফেরায় এবং পরে টাইব্রেকারে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে। সেই সময় হন্ডুরাস শিবির অভিযোগ তুলেছিল যে, ভিএআর থেকে অতিরিক্ত সময় বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
বর্তমান বিশ্বকাপে ফিশার এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। ফ্রান্সের ৩-০ ব্যবধানে ইরাককে হারানো ম্যাচ এবং ক্রোয়েশিয়ার ২-১ গোলে ঘানাকে হারানোর ম্যাচে তিনি ছিলেন। এবার তার সামনে অপেক্ষা করছে বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় নকআউট লড়াই, যেখানে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্ডে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারা দেশের মতো খাগড়াছড়ির দীঘিনালায়ও শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা। প্রথম দিনের পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে দীঘিনালা উপজেলা ছাত্রদল। পরীক্ষাকেন্দ্রে আগত শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার স্যালাইন, বিশুদ্ধ পানি ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দীঘিনালা সরকারি কলেজ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ বছর উপজেলার তিনটি কলেজের মোট ১ হাজার ৪৬৪ জন পরীক্ষার্থী দীঘিনালা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও ২৯৮ নম্বর সংসদীয় আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার পক্ষ থেকে এবং খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুল ইসলাম জাহিদ-এর নির্দেশনায় এ মানবিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন দীঘিনালা সরকারি কলেজ ছাত্রদল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মামুনুর রশীদ, খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সদস্য মো. সোলেমান, মির্জা সোহেল রানাসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
আয়োজকরা জানান, গরম আবহাওয়া ও দীর্ঘ সময়ের পরীক্ষার কথা বিবেচনা করে পরীক্ষার্থীদের কিছুটা স্বস্তি দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীঘিনালা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মামুনুর রশীদের বক্তব্য:পরীক্ষার্থীরা যেন সুস্থ ও স্বস্তিতে পরীক্ষা দিতে পারে, সেই চিন্তা থেকেই আমাদের এই ছোট্ট উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রদলের সদস্য মো. সোলেমানের বক্তব্য:শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। পরীক্ষা চলাকালে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত এবং সকল পরীক্ষার্থীর সফলতা কামনা করছি।
পরীক্ষার্থীদের অনেকেই এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পরীক্ষা শুরুর আগে খাবার স্যালাইন ও বিশুদ্ধ পানি পেয়ে তারা উপকৃত হয়েছেন। এমন মানবিক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ববোধের পরিচয় বহন করে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারী চাকরিজীবীদের বেতন আগামী নতুন অর্থবছরে বাড়বে- এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ নিজেই। বাজেট বক্তব্যে তিনি ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও, সরকার এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেনি।
সরকারী চাকরিজীবীদের কোন গ্রেডে বেতন কত বাড়ছে এটি এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।
এছাড়া নতুন পে-স্কেল দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত কমিশনের প্রস্তাব কার্যকর হবে, নাকি বর্তমান সরকার ভিন্ন কিছুর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে- সেটিও স্পষ্ট নয়।
এদিকে, বর্তমান সরকার যখন ক্ষমতায় এসেছে, তখন পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এই কমিটির মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামোর একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল।
যে খসড়া রূপরেখা চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে, তা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। যেখানে বেতন কত বৃদ্ধি পাবে, কয় ধাপে বাড়ানো হবে, এবং মূল্যস্ফীতি কিভাবে মোকাবেলা করা হবে— এই বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দিনবিলম্বে আলোচনা চলছেই bকবে থেকে বেতন কাঠামো কার্যকর হবে, কত ধাপে বেতন ও ভাতা বাড়ানো হবে— এগুলো নিয়ে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন বেতন কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত কিছুই বলা সম্ভব নয়।
এবং প্রশাসনিক আদেশ, গেজেট প্রকাশ এবং আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণে, নতুন কাঠামোয় বেতন দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে বলেও তিনি জানান।
তবে এটিও উল্লেখ্য যে, যেকোনো সময় এটি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে, বকেয়া পরিশোধের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সরকারী পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, 'যথাসময়ে' নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা জরুরি; তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার বাস্তবায়ন হয়েছিল ২০১৫ সালে।
এরপর থেকে প্রতি বছর তাদের মূল বেতনের নির্ধারিত ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও, নতুন করে আর কোন পে-স্কেলের ঘোষণা আসেনি। যার ফলস্বরূপ, সরকারি চাকরিজীবীরা দীর্ঘদিন ধরেই নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।
২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান এর নেতৃত্বে 'জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫' গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এছাড়া বৈশাখি ভাতার হার বর্তমানে ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ ছিল এবং যাতায়াত ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রেও ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ব্যাপক সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল।
কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান ওই সময় জানিয়েছিলেন যে, গত এক দশকে দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সূচকে যে বিশাল পরিবর্তন এসেছে, তা মাথায় রেখেই এই সুপারিশ করা হয়েছে।
তখন জানানো হয়েছিল যে, পুরো সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে, যা জাতীয় বাজেটের ওপর বড়ো একটি প্রভাব ফেলতে পারে।
ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে একটি ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে বর্তমান সরকার। যিনি ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করেছেন।
যার ভিত্তিতে বর্তমানে গেজেট তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলছেন, দেশের অর্থনৈতিক দিক বিবেচনা করে এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
ইশতাহারে বলা হয়েছে যে যথাসময়ে বাস্তবায়ন হবে এবং সেই অনুযায়ী একটি রিভিউ করা হয়েছে, বলেন তিনি।
কবে নাগাদ গেজেট প্রকাশ হতে পারে এই প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব দেননি প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। তিনি জানান, পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নটাও করা হবে।
তবে, জাতীয় সংসদে দেয়া বাজেট বক্তব্যের মাধ্যমে নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি কর্মচারীদের জন্য পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
"সরকারি কর্মচারীরা বিগত প্রায় ১১ বছর ধরে একই বেতন কাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী পহেলা জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি," জাতীয় সংসদে বলেন তিনি।
নতুন পে-স্কেলে বেতন-ভাতা একসাথে কার্যকর না করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি বলছেন, আমরা কয়েকটি ধাপে এটি করব, প্রথমেই বেতন বা বেসিকটা বাড়ানো হবে।
কিন্তু কোন গ্রেডের কর্মচারীর বেতন কত হবে, সে বিষয়ে এখনই কিছু জানাতে রাজি হননি তিতুমীর।
তিনি বলছেন, গেজেট চূড়ান্ত করতে সরকার পর্যালোচনা করছে, এই পর্যালোচনা এবং রাজনৈতিক নির্দেশনার আলোকে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।
এদিকে, অর্থমন্ত্রী সূত্রে জানা গেছে যে, চলতি মাসের মাঝামাঝি বা শেষ নাগাদ বেতন বৃদ্ধির গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ