০৫:১৫ পি.এম
রাজধানী ঢাকার হোটেল সোনারগাঁও সিগন্যালে ট্রাফিক আইন অমান্য করতে নিষেধ করা হওয়া এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ভিডিও ধারণ করতে যাওয়ায় দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে মারধর ও মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার ঘটনায় নারীসহ তিনজনকে সাজা ও জরিমানা করেছেন তেজগাঁও বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে আফিয়া কনক (৪৫), শামসুজ্জামান (৫১) ও রাজু আহম্মেদ (২৯) নাম জানানো হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের বরাত দিয়ে তিনি জানান যে, শনিবার বিকেল আনুমানিক পৌনে ৫টায় হাতিরঝিল থানাধীন হোটেল সোনারগাঁওয়ের বহির্গমন (ভিতরের) গেট থেকে দুটি গাড়ি মেইন রাস্তায় বের হয়। এ সময় সোনারগাঁও সিগন্যালের উত্তর পাশে যানবাহনের চলাচলের সিগন্যাল চালু ছিল। এ কারণে দায়িত্বরত ট্রাফিক কনস্টেবল মো. শামীম মিয়া গাড়ি দুটিকে পেছনে যেতে বলেন। কিন্তু গাড়িগুলো ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে জোরপূর্বক সামনে এগোতে শুরু করে। গাড়ি থেকে ৪-৫ জন লোক নেমে এসে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে জানান, গাড়িতে ভিআইপি আছেন, পেছানো হবে না। এরপর ট্রাফিক কনস্টেবল শামীম মিয়া আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গাড়িটির নেম প্লেটের ভিডিও করতে গেলে গাড়ি থেকে ভিআইপি নারী আফিয়া কনক এসে পুলিশ সদস্যের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেন এবং রাস্তায় ছুঁড়ে মেরে ভেঙে ফেলেন। একইসঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে মারধর করা হয়।
ডিসি এন এম নাসিরুদ্দিন আরও জানান যে, ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি আটকা না হলেও, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অতিথি গ্রুপের দুই সিকিউরিটি কর্মী রাজু আহমেদ ও শামসুজ্জামানকে আটক করে হাতিরঝিল থানায় সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে ঘটনার মূল হোতা আফিয়া কনকসহ তিন আসামিকে তেজগাঁও বিভাগের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ নেওয়ার পর সড়ক পরিবহন আইনের ধারা মোতাবেক আফিয়া কনককে ১০ হাজার টাকা এবং রাজুকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এ ছাড়াও, ঘটনার সঙ্গে জড়িত শামসুজ্জামানকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন