০৭:১৯ পি.এম
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও দরপত্র অনুযায়ী সড়ক নির্মাণ না করার অভিযোগে স্থানীয়রা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। কাজ বন্ধ করার আধাঘন্টা পর প্রভাব খাটিয়ে ওই কাজ আবার চালু করার অভিযোগ রয়েছে উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদের বিরুদ্ধে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কালাইয়া বন্দরের সুন্দরী সিনেমা হলের সামনে সড়কের নির্মাণ কাজে এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, কালাইয়া বন্দরের ল্যাংড়া মুন্সীর পুল থেকে পূর্ব দিকে সুন্দরী সিনেমা হলের সামনে ৯৮ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল পটুয়াখালী সড়ক বিভাগ কর্তৃক। আজ বৃহস্পতিবার সকালে সড়কের সিসি ঢালাই কাজ শুরু করতে থাকে ঠিকাদারের নিয়োজিত শ্রমিকেরা।
কিন্তু সড়কের সিসি ঢালাই কাজে নিম্নমানের লবণাক্ত সিলেকশন বালু ব্যবহার করা হচ্ছে, ঢালাই ৩ ইঞ্চির কম এবং সড়কের প্রস্থ ১৮ ফুটের কম সহ নির্মাণ কাজে রয়েছে ব্যাপক অনিয়ম। এলাকাবাসী এ বিষয়ে পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. আসাদুল ইসলামের কাছে অভিযোগ করেন এবং জনসম্মুখে নির্মাণ কাজের দরপত্র মেনে কাজ করার অনুরোধ করেন। কিন্তু দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী এ বিষয়ে এড়িয়ে যান। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে ‘হাত ধোয়ার নায়ক হোন’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত: ইউএনও’র হাত ধোয়ার প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষা
কাজ বন্ধের আধা ঘন্টা পরই ঘটনা স্থলে আসেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ এবং প্রভাব খাটিয়ে কাজ শুরু করতে শ্রমিকদের নির্দেশ দেন তিনি। এরপর শ্রমিকরা সেই নির্মাণ মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়েই কাজ শুরু করেন।
জানা গেছে, ৯৮ মিটার দৈর্ঘ্যের এবং ১৮ ফুট প্রস্থের আরসিসি সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৪০ লাখ টাকা। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পেয়েছিল মেসার্স কহিনুর এন্টার প্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। উত্তম নামে একজন সাব ঠিকাদার কাজ শুরু করেছিলেন।
অনিয়মের কারণে যখন স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দেয়, তখন বিষয়টি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদকে জানানো হয়। তিনি আধাঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পুনরায় কাজ চালু করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে শ্রমিকেরা কাজ শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ পঞ্চায়েত বলেন, সড়ক নির্মাণ কাজে সিলেকশন বালু বা সিলেট চান বালুর পরিবর্তে ময়লাযুক্ত চট্টগ্রামের লবণাক্ত বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও সিসি ঢালাইয়ের কথা থাকলেও প্রস্তাবিত মান অনুযায়ী ঢালাই দেওয়া হচ্ছে না। দায়িত্বরত প্রকৌশলীকে বিষয়টি দেখার জন্য বললে, তিনি তা এড়িয়ে যান। ফলে এলাকাবাসী শেষ পর্যন্ত নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ এসে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন এবং শ্রমিকরা কাজ শুরু করেন।
আরও পড়ুন: কবি রাধারমণ দত্তের গ্রামে গানবাজনা বন্ধের আবেদন জমা
স্থানীয় মো. মনজু বলেন, ‘দরপত্র অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে না। ঠিকাদার মনগড়াভাবে কাজ করছেন। নির্মাণ কাজের শিডিউল দেখতে চাইলেও তিনি তা দেননি। কাজের দুর্নীতি অনিয়মের কারণেই শিডিউল গোপন রাখা হচ্ছে। কাজের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার অনিয়মের মধ্য দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।’
এদিকে, নির্মাণ কাজের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী এম এ হান্নান ও এইচএম বাবলুর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহাদ। তিনি সাংবাদিকদের অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন এবং হুমকিও দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, ‘কাজ বন্ধ কিংবা চালু করা কোনো ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। সাংবাদিকদের গালাগাল কিংবা হুমকীর অভিযোগও সত্য নয়।’
নির্মাণ কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘নির্মাণ কাজের শিডিউল আমার কার্যালয়ে রয়েছে।’ আর অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোনো অনিয়ম হচ্ছে না।’
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
এদিকে ঠিকাদারের পক্ষে নির্মাণ কাজের দায়িত্বে থাকা উত্তম জানান, ‘তিনি শুধু শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করান। মালামাল সরবরাহ করেন ঠিকাদার।’
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কহিনুর এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘এই বিষয়ে আপনার সঙ্গে সরাসরি কথা বলবো।’ পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল বলেন, ‘সড়কের নকশা অনুযায়ী নির্মাণ কাজ হবে। কাউকে দেখাতে তো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। লুকোচুরি করে কাজ করার সুযোগ নেই। এই বিষয়টি আমি দেখবো।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন