ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাবির মেডিকেল সেন্টারে ২১ দিনে ৭৩ হাজার টাকার ওষুধ নিখোঁজ


জাবির মেডিকেল সেন্টারে ২১ দিনে ৭৩ হাজার টাকার ওষুধ নিখোঁজ

 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টারে মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে প্রায় ৭৩ হাজার টাকার ওষুধের গরমিল ধরা পড়েছে। ওষুধ ক্রয় কমিটির আকস্মিক অডিটে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের হিসাব মেলেনি। এই ঘটনায় মেডিকেল সেন্টারের ওষুধ সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব সহকারী কম্পট্রোলার মো. ফখরুল ইসলাম সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই মেডিকেল সেন্টারের জন্য ওষুধ ক্রয় কমিটি নতুন করে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ কিনে। এর মধ্যে শুধুমাত্র অ্যালাট্রলই কেনা হয়েছিল ৯ হাজার পিস। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে এই ওষুধ শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি কমিটির সদস্যদের সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এসএএফএনের অনারারি সিনিয়র ফেলো নিযুক্ত

শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ওষুধ ক্রয় কমিটির সভাপতি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলামের আদেশে মেডিকেল সেন্টারে ওষুধের মজুদ যাচাইয়ে যান ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক মো. সালেকুল ইসলাম, সদস্য সচিব সহকারী কম্পট্রোলার মো. ফখরুল ইসলাম এবং জাকসুর খাদ্য ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক। এ সময় তারা স্টোরের ওষুধের সঙ্গে রেজিস্টারে থাকা হিসাবের বড় ধরনের অসঙ্গতি খুঁজে পান।

অডিটে দেখা গেছে, অ্যালাট্রল ৪ হাজার ৬৪৫ পিস থাকার কথা থাকলেও স্টোরে একটিও পাওয়া যায়নি। এছাড়া এজিথ্রোমাইসিন ১ হাজার ২১৮ পিস থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে মাত্র ৩০৬ পিস। সিপ্রোসিন ২ হাজার ৪০০ পিসের বিপরীতে ছিল ১ হাজার ৯৮০ পিস। প্যারাসিটামল ১৫ হাজার পিস থাকার কথা থাকলেও পাওয়া যায় ১০ হাজার পিস। টিয়েমোনিয়াম ৭০০ পিস, ফ্যামোটিডিন ২ হাজার ৫০০ পিস এবং নাপরন ৯৯০ পিসের একটিও স্টোরে পাওয়া যায়নি। এছাড়া অ্যানটানিল ৫ হাজার ৬০০ পিসের বিপরীতে ছিল ৫ হাজার ৪০০ পিস এবং ডমপেরিডোন ৫ হাজার ৮০০ পিস থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে মাত্র ১ হাজার ৬০০ পিস।

ওষুধ ক্রয় কমিটির হিসাব অনুযায়ী, মোট ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল পাওয়া গেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭৩ হাজার ১০১ টাকা।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই মেডিকেল সেন্টারে ওষুধের হিসাব-নিকাশে এ ধরনের অনিয়ম চলছিল। বিষয়টি সম্পর্কে অনেকের জানা থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি।

আরও পড়ুন: অপ্রতিম হত্যা মামলায় দুই কিশোরসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

এ বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) নূর-এ-কামাল বলেন, স্টোরের চাবি আমার কাছেই থাকে এবং সব ওষুধ আমি নিজ হাতে বিতরণ করি। কিন্তু কীভাবে ওষুধের ঘাটতি হলো, তা আমি বুঝতে পারছি না। প্রয়োজন হলে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা যেতে পারে। তবে ওষুধের গরমিলের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শামছুর রহমান জানান, স্টোরের চাবি তার কাছে থাকে না। ডেপুটি রেজিস্ট্রার নিজেই স্টোর থেকে ওষুধ বের করেন। ওষুধ কোথায় গেছে, সে বিষয়ে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক সালেকুল ইসলাম বলেন, তাঁর কাছে আগেও অভিযোগ এসেছিল যে খাতা-কলমে ওষুধ বিতরণের যে হিসাব দেখানো হয়, বাস্তবে তা সঠিকভাবে বিতরণ হয় না। এখানে এসে তারা ব্যাপক গরমিল পেয়েছেন। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেবেন। এরপর প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ওষুধ ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মেডিকেল সেন্টারে ওষুধ সংকটের অভিযোগ শুনে আসছিলাম। তবে হিসাব করে দেখেছি, যে পরিমাণ অর্থের ওষুধ ক্রয় করা হয়েছে, তাতে সংকট হওয়ার কথা নয়। তাই তিনি ওষুধের মজুদ অডিট করার নির্দেশ দেন। অডিটে বেশ কিছু গরমিল পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে রোববার জরুরি সভা ডাকা হবে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: ঢাকা মহানগরীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৭৭ জন গ্রেফতার, ৩৪ মামলা দায়ের

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে ১৬ বিদ্যালয়ে নৌকা বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ এম


শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে ১৬ বিদ্যালয়ে নৌকা বিতরণ

মধ্যনগরের ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকা বিতরণ করা হয়েছে।

হাওরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বর্ষাকালে বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ করার উদ্দেশ্যে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৌকা বিতরণ করা হয়। এ উদ্যোগটি সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঘটে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার বরাদ্দ থেকে এসব নৌকা নির্মাণ ও বিতরণ করা হয়।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কাচারি-সংলগ্ন ঘাটে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষক ও প্রতিনিধিদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌকাগুলো তুলে দেওয়া হয়।

জানা গেছে যে, এমপি কামরুজ্জামান কামরুলের বরাদ্দের অর্থ ব্যবহার করে খালিশাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদ আলমকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যা ১৬টি নৌকা নির্মাণের জন্য অর্থ উত্তোলন করে।

নৌকা পাওয়া বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- শালীয়ানী, জামালপুর, কামাউড়া, খালিশাকান্দা, গলইখালী, ইটাউরি, দুগনই, বলরামপুর, মাছুয়াকান্দা, দৌলতপুর, দোয়াদুর রহমান, আলীপুর, সাতুর, বীরসিংহপাড়া, চাপাইতি এবং আটাইশা মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

মধ্যনগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন এ ব্যাপারে জানান, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার ৮৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৪৫টির শিক্ষার্থীদের নৌকায় করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। এর আগেও সংসদ সদস্য একটি বিদ্যালয়ে নৌকা দিয়েছিলেন। বর্তমানে তার উদ্যোগে আরো ১৬টি বিদ্যালয়ে নৌকা প্রদান করা হয়েছে। নতুন নৌকাগুলো চালু হলে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত হবে। আশা করা যাচ্ছে যে, এটি বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হারও বৃদ্ধি পাবে।

সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, ‘হাওরাঞ্চলে শিক্ষার প্রসারে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। বর্ষা মৌসুমে অনেক শিক্ষার্থী নৌকার অভাবে বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। ফলে যেসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নৌকায় পারাপার করতে হয়, পর্যায়ক্রমে সব বিদ্যালয়েই নৌকার ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

নৌকা বিতরণ অনুষ্ঠানটিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবে হায়াৎ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার, বলরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি রমা রঞ্জন সরকার, খালিশাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশিদ আলমসহ নৌকাপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ লাখ টাকা ঘুসে চাকরি, বেতন পান না ১১ বছর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৫৬ এম


১০ লাখ টাকা ঘুসে চাকরি, বেতন পান না ১১ বছর

 

নার্গিস খাতুনের স্বপ্ন ছিল যে তিনি শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের মানুষের মতো মানুষ গড়ে তুলবেন। এই স্বপ্ন নিয়ে প্রায় ১১ বছর আগে তিনি একটি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেছিলেন। তবে দীর্ঘ এই সময়কাল ধরে তিনি একদিনের জন্যও বেতন পাননি। এমপিওভুক্ত না হওয়ায়, বিনা বেতনে শিক্ষকতা করতে করতে এখন তিনি অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন। তার অভিযোগ হল যে, শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও প্রতারণার মাধ্যমে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং তার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম নার্গিস খাতুন, যিনি নওগাঁর মান্দা উপজেলার গোয়ালমান্দা গ্রামের খোরশেদ আলম শিলালের মেয়ে। তিনি জোতবাজার আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে কর্মরত আছেন।

নার্গিস খাতুন জানিয়েছেন, তিনি জোতবাজার আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি বের হওয়ার ভিত্তিতে আবেদন করেন। ২০১৫ সালের ২৪ জুলাই তিনি লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ান ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই তাকে যোগদানের চিঠি দেন। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে নার্গিস খাতুন ২০১৫ সালের ১ আগস্ট স্কুলে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দান করেন।

তিনি বলেন, যোগদানের পর থেকে তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত তার পদ এমপিওভুক্ত হয়নি। প্রায় ১১ বছর ধরে কোনো বেতন-ভাতা ছাড়া তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। খোঁজ নিলে তিনি জানতে পারেন, সহকারী শিক্ষক (সমাজবিজ্ঞান) পদে আগে থেকেই একজন ইনডেক্সধারী শিক্ষক কর্মরত ছিলেন। অর্থাৎ, সেই পদটি শূন্য ছিল না। তার দাবি, নিয়োগের সময় এই বিষয়টি তাকে বলা হয়নি।

নার্গিস খাতুনের অভিযোগ, ‘আমি বিল-বেতনের বিষয়ে জানতে গেলে প্রধান শিক্ষক প্রতিবারই প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু সময়ক্ষেপণ করেন। নিয়োগের সময় তিনি জমি ও গহনা বিক্রি করে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ানকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। এখন জানতে পেরেছি, প্রতারণার মাধ্যমে শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার চাকরির বয়সও নেই। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচার চান। নার্গিস খাতুনের বাবা খোরশেদ আলম শিলাল বলেন, ‘প্রতারণার মাধ্যমে আমার মেয়ের জীবন নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান দেওয়ান মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সাক্ষাতে কথা হবে এবং পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম জানান, কোনো পদে ইনডেক্সধারী শিক্ষক থাকলে সেই পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া বিধিবহির্ভূত। এই বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তিনি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আঙুর চাষে শখই এনে দিচ্ছে সাফল্যের সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:১৮ এম


আঙুর চাষে শখই এনে দিচ্ছে সাফল্যের সম্ভাবনা

শখের জন্য আঙুর চাষে এখন সফলতার স্বপ্ন দেখা হচ্ছে। ছবিটি আমের দেশ থেকে তোলা। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের শোলাকান্দি এলাকায় চাষি মোজাম্মেল হক শখের বশে একটি আঙুর বাগান তৈরি করেছেন। ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছরের পরিকল্পনা শেষে আঙুরের চাষ শুরু করেন। তার নতুন বাগানে গাছে গাছে থোকায় থোকায় আঙুর ধরতে শুরু করেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাগানটি দেখতে ভিড় করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গোমতী নদীর দক্ষিণ তীরে ৩১ শতাংশ জমিতে তিনি বাঁশের খুঁটি, মাচা ও নেট দিয়ে সুরক্ষিতভাবে আঙুরের বাগান গড়ে তুলেছেন। নিচু জমি চাষের উপযোগী করতে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বালু ও পলিমাটি দিয়ে ভরাট করেন। পরে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে ১৪৪টি আঙুরের চারা এনে গত ১৬ মার্চ রোপণ করেন। এর মধ্যে একুনো, বাইকুনো, ব্ল্যাক ম্যাজিক, একাডেমি ও বরতুকাল জাতের চারাগুলি রয়েছে। প্রতিটি চারার মূল্য ছিল ৪০০ টাকা। চারা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মিলিয়ে এ পর্যন্ত তিনি প্রায় চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

মোজাম্মেল হক বলেন, ইউটিউবে মহেশপুরের একটি আঙুর চাষির বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সরেজমিনে তা পরিদর্শন করেন। এরপর নিজেরই আঙুর চাষে নামেন, রোপণের আড়াই মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। গতবার অতিবৃষ্টি এবং নতুন বাগান হওয়ায় ফলন কিছুটা কম হতে পারে, তবে আগামী বছরগুলোতে ভালো ফলনের বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তার মতে, একটি আঙুর গাছ ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।

মোজাম্মেলের ছেলে আরাফাত হক সোহান জানান, আঙুরের পাশাপাশি তার বাবা শখের বশে রামবুটান, পেঁপে এবং ইতালি থেকে আনা কয়েকটি বিদেশি ফলের চারাও রোপণ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম মোল্লা বলেন, বাগানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন বিকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা বাগানটি দেখতে আসছেন।

বাগান দেখতে আসা শামীম, মাইনুদ্দিন এবং সুমন জানান, দেশে এ ধরনের বিদেশি ফলের চাষ সম্প্রসারিত হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে, কৃষক লাভবান হবেন এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামে এসব ফল কিনতে পারবেন। পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এআইপি মন্তব্য করেন, ‘দেশে বিদেশি ফলের চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ, কারিগরি দিকনির্দেশনা ও তদারকি অত্যন্ত জরুরি।’

তিতাস উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, শাহেদের বাগান পরিদর্শন করে তাকে পরামর্শ দিয়েছি এবং মোজাম্মেল হকের আঙুর চাষের বিষয়টি কৃষি বিভাগের জানা রয়েছে। প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাগানটির কার্যক্রম তদারকি করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘৬৪ দলের বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য ভালো নয়’: লা লিগা সভাপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩২ এম


‘৬৪ দলের বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য ভালো নয়’: লা লিগা সভাপতি

স্প্যানিশ ফুটবল লিগ ‘লা লিগা’র সভাপতি হাভিয়ের তেবাস বিশ্বকাপ আয়োজনের ওপর মুখ খুলেছেন।

২০৩০ সালে যৌথভাবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো বিশ্বকাপের শতবর্ষী আসর আয়োজন করবে। সেদিনের বিশেষ বিশ্বকাপ ৬৪ দল নিয়ে আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা। তবে এই উদ্যোগকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হিসাবে উল্লেখ করে স্প্যানিশ ফুটবল লিগ ‘লা লিগা’র সভাপতি হাভিয়ের তেবাস আপত্তি জানিয়েছেন।

তিনি ইতালির বিখ্যাত ক্রীড়া দৈনিক লা গাজ্জেত্তা দেল্লো স্পোর্তে এক সাক্ষাৎকারে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কড়া সমালোচনা করেন। নোট করে, ইনফান্তিনোর মেয়াদ প্রায় এক দশক। এই মেয়াদে ফুটবল-বিশ্বের প্রধান সংস্থা পরিচালনা করার কারণে তিনি যে ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে আছেন, সেই ব্যবস্থার বড় সমস্যা রয়েছে। ফুটবলে ইনফান্তিনোর অধ্যায় এখন শেষের পথে রয়েছে।

তেবাস ফুটবলের বিশ্বায়ন ও অতিরিক্ত ম্যাচের কারণে ঘরোয়া ফুটবলে ক্ষতির দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, ফুটবল বলতে এক্ষেত্রে বিশ্বকাপকেই বোঝানো হচ্ছে না। তারা ৪০ দিনের একটি টুর্নামেন্টের জন্য পুরো ফুটবল শিল্পকে ধ্বংস করছে। অথচ এই ফুটবল লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান গড়ছে এবং এখানে মাত্র ক’জন ফুটবলার অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।’

এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিফা সভাপতি ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে দলসংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে প্রথমবারের মতো আলোচনা করেন। ২০৩০ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজক হিসেবে স্পেন, পর্তুগাল এবং মরক্কো কাজ করবে। এ ছাড়াও, শতবর্ষী উদ্যাপনের অংশ হিসেবে প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনায়ও একটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

ফিফার ফুটবল ক্যালেন্ডার ও অতিরিক্ত ম্যাচের চাপ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে তেবাস বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক ম্যাচের ব্যস্ত সূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। এখন তারা ৬৪ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে! তাদের বোঝা উচিত, ফুটবল খেলাটাকে মূলত বাঁচিয়ে রাখে বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া লিগগুলো।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এখন আমাদের জাতীয় দলের ম্যাচগুলোর সংখ্যা কমানো উচিত এবং সব স্তরের ঘরোয়া ফুটবলের সুরক্ষা বাড়ানো উচিত। কিন্তু তারা এসব বিষয়ে চিন্তা না করে একের পর এক দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%