০৫:১৮ এম
শখের জন্য আঙুর চাষে এখন সফলতার স্বপ্ন দেখা হচ্ছে। ছবিটি আমের দেশ থেকে তোলা। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের শোলাকান্দি এলাকায় চাষি মোজাম্মেল হক শখের বশে একটি আঙুর বাগান তৈরি করেছেন। ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছরের পরিকল্পনা শেষে আঙুরের চাষ শুরু করেন। তার নতুন বাগানে গাছে গাছে থোকায় থোকায় আঙুর ধরতে শুরু করেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ বাগানটি দেখতে ভিড় করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোমতী নদীর দক্ষিণ তীরে ৩১ শতাংশ জমিতে তিনি বাঁশের খুঁটি, মাচা ও নেট দিয়ে সুরক্ষিতভাবে আঙুরের বাগান গড়ে তুলেছেন। নিচু জমি চাষের উপযোগী করতে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে বালু ও পলিমাটি দিয়ে ভরাট করেন। পরে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে ১৪৪টি আঙুরের চারা এনে গত ১৬ মার্চ রোপণ করেন। এর মধ্যে একুনো, বাইকুনো, ব্ল্যাক ম্যাজিক, একাডেমি ও বরতুকাল জাতের চারাগুলি রয়েছে। প্রতিটি চারার মূল্য ছিল ৪০০ টাকা। চারা ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মিলিয়ে এ পর্যন্ত তিনি প্রায় চার লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
মোজাম্মেল হক বলেন, ইউটিউবে মহেশপুরের একটি আঙুর চাষির বাগান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সরেজমিনে তা পরিদর্শন করেন। এরপর নিজেরই আঙুর চাষে নামেন, রোপণের আড়াই মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করেছে। গতবার অতিবৃষ্টি এবং নতুন বাগান হওয়ায় ফলন কিছুটা কম হতে পারে, তবে আগামী বছরগুলোতে ভালো ফলনের বিষয়ে তিনি আশাবাদী। তার মতে, একটি আঙুর গাছ ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।
আরও পড়ুন: পীরগঞ্জে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে ডেকোরেটর কর্মী ফয়সালের প্রাণ গেল
মোজাম্মেলের ছেলে আরাফাত হক সোহান জানান, আঙুরের পাশাপাশি তার বাবা শখের বশে রামবুটান, পেঁপে এবং ইতালি থেকে আনা কয়েকটি বিদেশি ফলের চারাও রোপণ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম মোল্লা বলেন, বাগানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন বিকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা বাগানটি দেখতে আসছেন।
বাগান দেখতে আসা শামীম, মাইনুদ্দিন এবং সুমন জানান, দেশে এ ধরনের বিদেশি ফলের চাষ সম্প্রসারিত হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে, কৃষক লাভবান হবেন এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামে এসব ফল কিনতে পারবেন। পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এআইপি মন্তব্য করেন, ‘দেশে বিদেশি ফলের চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ, কারিগরি দিকনির্দেশনা ও তদারকি অত্যন্ত জরুরি।’
তিতাস উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন জানান, শাহেদের বাগান পরিদর্শন করে তাকে পরামর্শ দিয়েছি এবং মোজাম্মেল হকের আঙুর চাষের বিষয়টি কৃষি বিভাগের জানা রয়েছে। প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাগানটির কার্যক্রম তদারকি করা হবে।
আরও পড়ুন: মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির হাতে দালালসহ ৪ জন আটক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন