০৬:২৫ এম
আপনার বয়স ৩৫ বছর পেরোলেই শরীরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে থাকে। কর্মব্যস্ত জীবন, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং শরীরচর্চার ঘাটতির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
অনেক রোগের লক্ষণ প্রথম অবস্থায় বোঝা যায় না। তবে নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে রোগের ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা যায় এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়। বিশেষজ্ঞরা ৩৫ বছরের পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
স্বাস্থ্যঝুঁকির মূল্যায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যেক মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি একরকম নয়, পরিবারে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা ক্যান্সারের ইতিহাস থাকতে পারে। আবার কারও ধূমপান, স্থূলতা কিংবা অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে ঝুঁকি বেশি হতে পারে। চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিজের স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন করা উচিত বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
আরও পড়ুন: সোমবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে
এইচবিএ১সি পরীক্ষা : ডায়াবেটিস এখন আর শুধু বৃদ্ধদের রোগ নেই; কম বয়সেও বহু মানুষ এ সমস্যার শিকার হচ্ছে। এইচবিএ১সি পরীক্ষা রক্তে গত তিন মাসের গড় শর্করার মাত্রা তুলে ধরে। সাধারণ সুগার টেস্টের তুলনায় এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। এ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রি-ডায়াবেটিস কিংবা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব।
রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা : উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়ে থাকে। কারণ এগুলোর অনেক সময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়ে। বছরে অন্তত একবার রক্তচাপ ও লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করানো উচিত বলে চিকিৎসকরা সুপারিশ করেন।
লিভার ও কিডনি ফাংশন পরীক্ষা : লিভার ও কিডনি শরীরের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। বর্তমানে ফ্যাটি লিভারের সমস্যা অনেক বেড়ে গেছে। আবার কিডনির সমস্যাও অনেক সময় দেরিতে ধরা পড়ে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এ দুই অঙ্গের কার্যক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত চিকিত্সা নেয়ার সুযোগ থাকে।
থাইরয়েড পরীক্ষা : থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েডের সমস্যা হলে ওজন বেড়ে যাওয়া, ক্লান্তি, চুলপড়া, মনোযোগ কমে যাওয়া অথবা মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ সৃষ্টি হতে পারে। নারীদের মধ্যে বিশেষ করে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। তাই নিয়মিত থাইরয়েড পরীক্ষা করানো অবশ্যই প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: রোববার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকবে
ভিটামিন ডি ও ভিটামিন বি১২ পরীক্ষা : অনেক মানুষ ভিটামিন ডি ও বি১২-এর ঘাটতিতে ভুগছেন। এতে দুর্বলতা, হাড়ের ব্যথা, পেশির সমস্যা, ক্লান্তি এবং স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই ঘাটতি সহজেই শনাক্ত করা যায় এবং প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যায়।
জন্য এই পরীক্ষাগুলি জরুরি? অনেক রোগ প্রথমদিকে কোনো লক্ষণ দেখায় না। উপসর্গ দেখা দিলে রোগ অনেকটা এগিয়ে যায়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে রোগের ঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করা যায়। ফলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে এবং প্রয়োজনীয় চিকিত্সা নিলে সুস্থ থাকা সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন