ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পশ্চিম তীরের সহিংস বসতি স্থাপনকারীরা নতুন প্রজন্মের মতাদর্শে চালিত


পশ্চিম তীরের সহিংস বসতি স্থাপনকারীরা নতুন প্রজন্মের মতাদর্শে চালিত

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা সংঘটিত ব্যাপক হামলার ঘটনা, ওই অঞ্চলে আদর্শগতভাবে উগ্র একটি নতুন প্রজন্মের উত্থান নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

সংবাদটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

কঠোরপন্থী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি শিথিলভাবে সংগঠিত আন্দোলন, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সহিংসতার বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে। ‘হিলটপ ইয়ুথ’ নামে পরিচিত এই গোষ্ঠীর অধিকাংশ সদস্য তরুণ। তাদের মধ্যে পশ্চিম তীরের বাইরের এলাকার কিছু স্কুলছুট তরুণও রয়েছে।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিতকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বললেন পুতিনের দূত

ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত এই আন্দোলনের লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ করা। এজন্য তারা প্রতিষ্ঠিত ইসরাইলি বসতিগুলোর বাইরে পাহাড়ের চূড়ায় অনুমোদনহীন নতুন বসতি বা ‘আউটপোস্ট’ গড়ে তোলে। এসব স্থাপনা সাধারণত অস্থায়ী তাঁবু দিয়ে নির্মিত হয়।

১৯৯০-এর দশক থেকেই পশ্চিম তীরে মূলধারার বাইরে বসবাসকারী ইসরাইলিদের বিভিন্ন গোষ্ঠী বিদ্যমান। তবে নতুন প্রজন্মের এই বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখলের স্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে বলে দাবি করেছেন ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীদের সমর্থনকারী ইহুদি কর্মীদের সংগঠন ‘চিলড্রেন অব আব্রাহাম’-এর ডভির ওয়ারশাভস্কি।

মঙ্গলবার ভোরে ১০০-এর বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ফিলিস্তিনি গ্রাম জালুদে হামলা চালায়। এই হামলায় ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য আহত হন।

ঘটনার সময় ইসরাইলি সেনারা একটি ফিলিস্তিনি পরিবারকে তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে সহায়তা করছিল। বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে পরিবারটি আগে বাড়িঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে হুতি হামলায় জড়িত থাকার সৌদি অভিযোগ অস্বীকার ইরানের

ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মসজিদ ও গির্জায় হামলার ঘটনাও বেড়েছে। এর ফলে ব্রিটেন ও নেদারল্যান্ডসসহ কয়েকটি দেশ ইসরাইলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা ইসরাইলকে ক্ষুব্ধ করেছে।

সম্প্রতি ‘হিলটপ ইয়ুথ’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে প্রকাশিত পোস্টে দাবি করা হয়, গত ১২ মাসে এই গোষ্ঠী ১৫৮টি ফিলিস্তিনি গ্রামে ৬৩৫টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ৪০৯ জন ফিলিস্তিনি আহত এবং ৪৩৬টি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও পোস্টে দাবি করা হয়। তবে এএফপি এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এ ধরনের সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের খুব কম ক্ষেত্রেই ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের হাতে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে বসতি স্থাপনকারীদের হামলাকে ‘প্রায় ১৫০ জন কিশোর অপরাধীর’ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বের অন্যান্য দেশ ফিলিস্তিনিদের সহিংসতা উপেক্ষা করছে বলেও অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন: মেক্সিকোর উপকূলে নৌকাডুবিতে ১৬ জন উদ্ধার, ১১ জন নিখোঁজ

ইসরাইল ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখলে রেখেছে। এই ভূখণ্ডে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি ৫ লাখের বেশি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে।

ইসরাইলি সরকার প্রায় ১৪০টি বসতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এসব বসতি অবৈধ। ইসরাইলি পর্যবেক্ষক সংগঠন পিস নাও-এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরাইলি আইনেও অবৈধ এমন খামার ও ছোট বসতির সংখ্যা এখন প্রায় ৪০০।

বহু বছর ধরে ‘হিলটপ ইয়ুথ’-এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা ইসরাইলি মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০৫ সালে ইসরাইল গাজা উপত্যকার ২১টি এবং পশ্চিম তীরের চারটি বসতি ভেঙে দেওয়ার পর এই আন্দোলন নতুন গতি পায়।

একতরফাভাবে ওই বসতিগুলো থেকে ইসরাইলিদের সরিয়ে নেওয়া ঠেকাতে বসতি আন্দোলনের পুরোনো নেতৃত্ব ব্যর্থ হয়। হাজার হাজার ইসরাইলিকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করার ঘটনা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি ক্ষোভ আন্দোলনে নতুন একটি পর্যায়ের সূচনা করে।

আরও পড়ুন: ইরানের ‘পিক্যাক্স মাউন্টেনে’ হা-ম-লা-র হুমকি ট্রাম্পের

এরপর আরও বেশি আদর্শনির্ভর বসতি স্থাপনকারী সামনে আসে। তারা বসতি আন্দোলনের পুরোনো কৌশলকে চ্যালেঞ্জ করে। পুরোনো কৌশলের মূলনীতি ছিল—আরও বেশি মানুষ নিয়ে আরও বেশি বসতি গড়ে তোলা।

এর বিপরীতে নতুন প্রজন্ম ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ছোট ছোট অবৈধ বসতি ও কৃষি প্রকল্প গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেয়। এই কৌশলকে বলা হয় ‘সর্বোচ্চ জমিতে সর্বনিম্ন মানুষ’।

ভেড়া ও ছাগলের পাল চরানোর মাধ্যমে ‘হিলটপ ইয়ুথ’ ইসরাইলি সামরিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন গ্রামীণ এলাকাগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের মতো আদর্শনির্ভর বসতি স্থাপনকারীদের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনীতিকদের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে এসব সম্প্রদায় ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা পেয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এসব অর্থের কিছু অংশ অবৈধ খামার ও বসতিতে ব্যয় করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

আরও পড়ুন: সৌদি উপকূলে ট্যাংকারে রকেটচালিত গ্রেনেড হামলা, নাবিকরা নিরাপদ

‘পিস নাও’-এর হাগিত অফরান বলেন, অবৈধ হওয়ার কারণে সরকার সরাসরি এসব স্থাপনায় অর্থ দিতে পারে না। তবে ‘বাকি সবকিছুর জন্য তারা অর্থ দেয়’—অর্থাৎ সড়ক, টহল গাড়ি, নিরাপত্তা ক্যামেরা, সৌর প্যানেল ও ড্রোনের মতো অবকাঠামোতে অর্থ ব্যয় করা হয়। এসব বসতিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিরাপত্তাও দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত অনুদান ও অনলাইন গণ-অর্থসংগ্রহের মাধ্যমেও কিছু অর্থ আসে।

সেনাবাহিনীর সুরক্ষার অভিযোগ

ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের কয়েকজন নেতা ‘হিলটপ ইয়ুথ’ থেকে নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন। গত বছরের শেষ দিকে পশ্চিম তীরের তিনটি ইসরাইলি স্থানীয় পরিষদের প্রধান যৌথ বিবৃতি দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘হিলটপ ইয়ুথ’-এর বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান। তারা বলেন, এই গোষ্ঠী বৃহত্তর বসতি স্থাপনকারী আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে না।

আরও পড়ুন: গ্রেটার নয়ডায় নুডলস খেয়ে একই পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলে হামলা এবং এরপর গাজা ও অন্যান্য ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইসরাইলি নিয়মিত সেনাদের একটি অংশ পশ্চিম তীর থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে বর্তমানে ইসরাইলি বসতিগুলোর আশপাশে টহল দেওয়া সেনাদের মধ্যে অনেকেই রিজার্ভ সেনা, যারা নিজেরাও বসতি স্থাপনকারী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত সেনাদের তুলনায় এসব রিজার্ভ সেনা অবৈধ বসতি উচ্ছেদ বা ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক কম আগ্রহী।

‘পিস নাও’-এর হাগিত অফরান বলেন, ‘সেনাবাহিনী আসলে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে না। তারা তাদের সঙ্গে মোকাবিলা করতে চায় না।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফতুল্লায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫ শিক্ষার্থীর ২ জনের মৃত্যু, ৩ জন হাসপাতালে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ এম


ফতুল্লায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৫ শিক্ষার্থীর ২ জনের মৃত্যু, ৩ জন হাসপাতালে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি আবাসিক মাদরাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হওয়া পাঁচ শিশুশিক্ষার্থীর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে অন্য তিন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে জিলানী (১৪) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটে। এর আগে মঙ্গলবার আতীয়া (১১) নামের আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা এখন দুজনে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, আজ সকাল ছয়টার দিকে জিলানী জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। জিলানীর শরীরের ৮২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।

চিকিৎসকরা আরও জানান, এই দুর্ঘটনায় লামিয়া নামের অপর এক শিক্ষার্থী ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়ে আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্য দুই শিক্ষার্থী আছিয়া ও সুমাইয়ার দগ্ধের পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় তাদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। তাদের আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুর এলাকার মাহেলা খাতুন বালিকা মাদরাসার ছাদে।

মাদরাসার ক্যাশিয়ার মো. ইউসুফ আলী জানিয়েছেন, দগ্ধ পাঁচ শিশুশিক্ষার্থীই ওই প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ছাত্রী ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদরাসার ছাদের ওপর দিয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হয়েছে। ঘটনার পরপরই তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিছিলের প্রস্তুতিকালে পাবনায় আ’লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ এম


মিছিলের প্রস্তুতিকালে পাবনায় আ’লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব গ্রেপ্তার

পাবনা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পাবনা শহরে নাশকতা ও মিছিলের প্রস্তুতির সময় আজ কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাবসহ ১৪-১৫ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডের ইন্দিরা মোড়ের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। আব্দুল ওহাব ছাড়া অন্যদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পাবনা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বাসস’কে নিশ্চিত করে জানান, তারা শহরে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। নাশকতার অংশ হিসেবে মাইক্রোবাসে করে এসে শহরে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পাবনা সদর থানায় পাঠানো হয়েছে।

এটি আব্দুল ওহাবের জন্য তৃতীয়বার গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা। এর আগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মথুরাপুর এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করেছিল। পরে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় আটজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ছিনিয়ে নেয়ার তিনদিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আবারও আব্দুল ওহাবকে গ্রেপ্তার করে।

জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আব্দুল ওহাব সুজানগর এলাকায় আবারো আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করেন। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল রাতে মথুরাপুরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ আব্দুল ওহাবসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২১ নেতা-কর্মীকে আটক করেছিল। এই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর তারা জামিনে মুক্তি পান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


ভারতে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের সম্মেলন

ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর মঙ্গলবার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানদের নিয়ে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মার্কিন কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করেন।

ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কার্যক্রম, আঞ্চলিক অগ্রাধিকার এবং নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে কূটনৈতিক সহকর্মীদের স্বাগত জানিয়ে সার্জিও গোর বলেন, ভারতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সব মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে একসঙ্গে পেয়ে তিনি আনন্দিত। সার্জিও গোরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর অধীনে থাকা ১১টি দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানরা অংশ নেন। দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান।

সম্মেলনে অংশ নেওয়া কূটনীতিকরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করেন। বিশেষ করে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সম্মেলনে যুক্ত হন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেন। রুবিও জানান, ভারতে অনুষ্ঠিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি সম্মেলনের আয়োজনের জন্য সার্জিও গোরের নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ১১ দেশে দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। রুবিও আরো জানান, এসব মার্কিন কূটনীতিক যুক্তরাষ্ট্রকে আরো নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে কাজ করছেন।

এর আগে সোমবার ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসর সফর করেন সার্জিও গোর। সেখানে তিনি শিখদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান স্বর্ণমন্দির পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া তিনি জালিয়ানওয়ালাবাগ ও দেশভাগ জাদুঘরও ঘুরে দেখেন। সফরের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশ করে গোর জানান, অমৃতসরে স্বর্ণমন্দির, জালিয়ানওয়ালাবাগ ও দেশভাগ জাদুঘর পরিদর্শনের দিনটি তার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকা সফরের অংশ হিসেবে তিনি অমৃতসরে যান। এর আগে গোর ভারতের শ্রীনগর ও লেহও সফর করেছেন।

ভারতের রাজস্থান সফরের সময় সার্জিও গোর দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’ প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি বহুজাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’র দ্বিতীয় পর্বও তিনি দেখেন। রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে পৌঁছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে গোর জানান, সেখানে ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা একসঙ্গে এই মহড়ায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। দুই দেশের সেনাদের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নিতে দেখার জন্য তিনি আগ্রহী ছিলেন। পরে মহড়ায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে গোর বলেন, মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে মার্কিন ও ভারতীয় সেনাদের একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে দেখে তিনি সন্তুষ্ট।

তার ভাষ্য, এই মহড়া দুই দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব, পারস্পরিক আস্থা, প্রস্তুতি এবং একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাকে তুলে ধরে। মার্কিন ও ভারতীয় সেনারা যৌথভাবে যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সার্জিও গোরের সাম্প্রতিক ভারত সফরে কূটনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ও সামরিক কার্যক্রম পরিদর্শনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্বেষ-বিরোধী আইন ‘অপব্যবহারের’ কথা স্বীকার করেছেন ভেনেজুেলার প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


বিদ্বেষ-বিরোধী আইন ‘অপব্যবহারের’ কথা স্বীকার করেছেন ভেনেজুেলার প্রেসিডেন্ট

ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ভেনেজুেলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মঙ্গলবার স্বীকার করেছেন যে, দেশটির ‘বিদ্বেষবিরোধী আইন’ অপব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সরকারবিরোধী সমালোচকদের গ্রেপ্তারের জন্য এই আইনটি ব্যবহার করা হয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

গত এক দশকে দেশটির বহু রাজনৈতিক নেতা, অধিকারকর্মী, সাংবাদিক, বিক্ষোভকারী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনে ‘বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, এ অপরাধের জন্য ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে রদ্রিগেজ দেশটির শাসনভার গ্রহণ করেছেন। ওয়াশিংটনের চাপের মুখে তিনি একটি সাধারণ ক্ষমা কার্যক্রমের উদ্যোগ নেন। এর মাধ্যমে শত শত রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যাদের অনেকেই এই আইনের আওতায় দণ্ডিত হয়েছিলেন।

তবে বেসরকারি সংস্থা ফোরো পেনাল জানিয়েছে, বর্তমানে ৩২৪ জন রাজনৈতিক বন্দি কারাগারে রয়েছেন। ২০১৭ সালে রদ্রিগেজ নিজেই তখনকার গণপরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এই আইনটি পাসের তদারকি করেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার তিনি স্বীকার করেন যে, আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।

দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় পর্তুগেসা রাজ্যে কফি উৎপাদনকারীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। এই আইনের অপব্যবহার হয়েছে।’

তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি এখনো এই আইনের মূলনীতিতে বিশ্বাস করেন— যার মধ্যে রয়েছে সহনশীলতা, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যাতে বিদ্বেষ প্রাধান্য না পায় এবং মানুষ সহাবস্থান করতে পারে।

এর আগে রদ্রিগেজ জাতীয় পরিষদকে আইনটি সংস্কারের আহ্বান জানান। সরকার ও বিরোধী আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংলাপের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রেসিডেন্ট জাতীয় পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে বলেন, সংস্কারের লক্ষ্য হলো এই আইনের আওতাধীন আচরণকে ‘অপরাধ হিসেবে গণ্য না করার দিকে এগিয়ে যাওয়া’।

জাতীয় পরিষদের প্রধান রদ্রিগেজের ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ।

আইনটি ঘোষণার পর বিরোধী দলের প্রতিনিধিদল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, ‘বিদ্বেষবিরোধী আইনটি ভিন্নমত দমন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।’

বিবৃতিতে তারা আরও জানায়, আইনটির প্রয়োগে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি তারা সংহতি প্রকাশ করছে।

সংস্কারের বিষয়ে কাজ করতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পার্লামেন্ট একটি কমিশন গঠন করেছে। তবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা শুধুমাত্র সংস্কার নয়, আইনটি সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

প্রায় ২০ বছর পর প্রথমবার ভেনেজুয়েলা সফর করা মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচও এই আইনসহ আরও কয়েকটি আইন বাতিলের সুপারিশ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%