বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৪৩ এম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি আবাসিক মাদরাসার ছাদে খেলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হওয়া পাঁচ শিশুশিক্ষার্থীর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে অন্য তিন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে জিলানী (১৪) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটে। এর আগে মঙ্গলবার আতীয়া (১১) নামের আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা এখন দুজনে দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আজ সকাল ছয়টার দিকে জিলানী জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। জিলানীর শরীরের ৮২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
চিকিৎসকরা আরও জানান, এই দুর্ঘটনায় লামিয়া নামের অপর এক শিক্ষার্থী ৫৫ শতাংশ দগ্ধ হয়ে আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। অন্য দুই শিক্ষার্থী আছিয়া ও সুমাইয়ার দগ্ধের পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় তাদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। তাদের আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফতুল্লার কাশিপুর এলাকার মাহেলা খাতুন বালিকা মাদরাসার ছাদে।
মাদরাসার ক্যাশিয়ার মো. ইউসুফ আলী জানিয়েছেন, দগ্ধ পাঁচ শিশুশিক্ষার্থীই ওই প্রতিষ্ঠানের আবাসিক ছাত্রী ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাদরাসার ছাদের ওপর দিয়ে যাওয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দগ্ধ হয়েছে। ঘটনার পরপরই তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পাবনা শহরে নাশকতা ও মিছিলের প্রস্তুতির সময় আজ কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাবসহ ১৪-১৫ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডের ইন্দিরা মোড়ের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। আব্দুল ওহাব ছাড়া অন্যদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পাবনা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বাসস’কে নিশ্চিত করে জানান, তারা শহরে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। নাশকতার অংশ হিসেবে মাইক্রোবাসে করে এসে শহরে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পাবনা সদর থানায় পাঠানো হয়েছে।
এটি আব্দুল ওহাবের জন্য তৃতীয়বার গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা। এর আগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মথুরাপুর এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করেছিল। পরে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় আটজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ছিনিয়ে নেয়ার তিনদিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আবারও আব্দুল ওহাবকে গ্রেপ্তার করে।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আব্দুল ওহাব সুজানগর এলাকায় আবারো আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করেন। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল রাতে মথুরাপুরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ আব্দুল ওহাবসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২১ নেতা-কর্মীকে আটক করেছিল। এই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর তারা জামিনে মুক্তি পান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর মঙ্গলবার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানদের নিয়ে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের মার্কিন কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করেন।
ভারতীয় সংবাদসংস্থা এএনআই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কার্যক্রম, আঞ্চলিক অগ্রাধিকার এবং নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে কূটনৈতিক সহকর্মীদের স্বাগত জানিয়ে সার্জিও গোর বলেন, ভারতে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার সব মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে একসঙ্গে পেয়ে তিনি আনন্দিত। সার্জিও গোরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর অধীনে থাকা ১১টি দেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানরা অংশ নেন। দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া কূটনীতিকরা আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করেন। বিশেষ করে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সম্মেলনে যুক্ত হন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেন। রুবিও জানান, ভারতে অনুষ্ঠিত মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশ নিতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি সম্মেলনের আয়োজনের জন্য সার্জিও গোরের নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ১১ দেশে দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও মিশনপ্রধানদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। রুবিও আরো জানান, এসব মার্কিন কূটনীতিক যুক্তরাষ্ট্রকে আরো নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে কাজ করছেন।
এর আগে সোমবার ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসর সফর করেন সার্জিও গোর। সেখানে তিনি শিখদের অন্যতম পবিত্র ধর্মীয় স্থান স্বর্ণমন্দির পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া তিনি জালিয়ানওয়ালাবাগ ও দেশভাগ জাদুঘরও ঘুরে দেখেন। সফরের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশ করে গোর জানান, অমৃতসরে স্বর্ণমন্দির, জালিয়ানওয়ালাবাগ ও দেশভাগ জাদুঘর পরিদর্শনের দিনটি তার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকা সফরের অংশ হিসেবে তিনি অমৃতসরে যান। এর আগে গোর ভারতের শ্রীনগর ও লেহও সফর করেছেন।
ভারতের রাজস্থান সফরের সময় সার্জিও গোর দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’ প্রত্যক্ষ করেন। পাশাপাশি বহুজাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’র দ্বিতীয় পর্বও তিনি দেখেন। রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে পৌঁছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে গোর জানান, সেখানে ‘যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা একসঙ্গে এই মহড়ায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। দুই দেশের সেনাদের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নিতে দেখার জন্য তিনি আগ্রহী ছিলেন। পরে মহড়ায় নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে গোর বলেন, মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে মার্কিন ও ভারতীয় সেনাদের একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নিতে দেখে তিনি সন্তুষ্ট।
তার ভাষ্য, এই মহড়া দুই দেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব, পারস্পরিক আস্থা, প্রস্তুতি এবং একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাকে তুলে ধরে। মার্কিন ও ভারতীয় সেনারা যৌথভাবে যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সার্জিও গোরের সাম্প্রতিক ভারত সফরে কূটনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ও সামরিক কার্যক্রম পরিদর্শনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ভেনেজুেলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মঙ্গলবার স্বীকার করেছেন যে, দেশটির ‘বিদ্বেষবিরোধী আইন’ অপব্যবহার করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সরকারবিরোধী সমালোচকদের গ্রেপ্তারের জন্য এই আইনটি ব্যবহার করা হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত এক দশকে দেশটির বহু রাজনৈতিক নেতা, অধিকারকর্মী, সাংবাদিক, বিক্ষোভকারী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনে ‘বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, এ অপরাধের জন্য ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে রদ্রিগেজ দেশটির শাসনভার গ্রহণ করেছেন। ওয়াশিংটনের চাপের মুখে তিনি একটি সাধারণ ক্ষমা কার্যক্রমের উদ্যোগ নেন। এর মাধ্যমে শত শত রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, যাদের অনেকেই এই আইনের আওতায় দণ্ডিত হয়েছিলেন।
তবে বেসরকারি সংস্থা ফোরো পেনাল জানিয়েছে, বর্তমানে ৩২৪ জন রাজনৈতিক বন্দি কারাগারে রয়েছেন। ২০১৭ সালে রদ্রিগেজ নিজেই তখনকার গণপরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এই আইনটি পাসের তদারকি করেছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার তিনি স্বীকার করেন যে, আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।
দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় পর্তুগেসা রাজ্যে কফি উৎপাদনকারীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। এই আইনের অপব্যবহার হয়েছে।’
তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, তিনি এখনো এই আইনের মূলনীতিতে বিশ্বাস করেন— যার মধ্যে রয়েছে সহনশীলতা, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যাতে বিদ্বেষ প্রাধান্য না পায় এবং মানুষ সহাবস্থান করতে পারে।
এর আগে রদ্রিগেজ জাতীয় পরিষদকে আইনটি সংস্কারের আহ্বান জানান। সরকার ও বিরোধী আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংলাপের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট জাতীয় পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে বলেন, সংস্কারের লক্ষ্য হলো এই আইনের আওতাধীন আচরণকে ‘অপরাধ হিসেবে গণ্য না করার দিকে এগিয়ে যাওয়া’।
জাতীয় পরিষদের প্রধান রদ্রিগেজের ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ।
আইনটি ঘোষণার পর বিরোধী দলের প্রতিনিধিদল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, ‘বিদ্বেষবিরোধী আইনটি ভিন্নমত দমন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।’
বিবৃতিতে তারা আরও জানায়, আইনটির প্রয়োগে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি তারা সংহতি প্রকাশ করছে।
সংস্কারের বিষয়ে কাজ করতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পার্লামেন্ট একটি কমিশন গঠন করেছে। তবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা শুধুমাত্র সংস্কার নয়, আইনটি সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
প্রায় ২০ বছর পর প্রথমবার ভেনেজুয়েলা সফর করা মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচও এই আইনসহ আরও কয়েকটি আইন বাতিলের সুপারিশ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার নতুন সরকারি ওয়েবসাইট ‘America.gov’ উদ্বোধন করেছেন। তিনি এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে ‘পুরো মার্কিন সরকার আপনার হাতের মুঠোয়’ চলে আসবে।
এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নাগরিকরা ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন তথ্য ও সেবা সহজে লাভ করতে পারবেন। এএনআইয়ের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, এটি কেবল একটি নতুন ওয়েবসাইট নয়, বরং এর মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে নাগরিকদের যোগাযোগের প্রক্রিয়াও সহজ হবে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আজ শুধু একটি নতুন ওয়েবসাইট চালু করছি না। এটি একটি বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ। এর মাধ্যমে সরকারকে আরো সহজ ও নাগরিকবান্ধব করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে মানুষ একটি বিশাল সরকারি ব্যবস্থার মধ্যে নিজেকে ছোট মনে করেছে। কিন্তু ‘America.gov’-এর মাধ্যমে মার্কিন সরকারের বিভিন্ন তথ্য ও সেবা নাগরিকদের হাতের মুঠোয় চলে আসবে।’
এই ঘোষণার সঙ্গে একটি নির্বাহী আদেশও জারি করেছেন ট্রাম্প। এতে ফেডারেল সংস্থাগুলোকে নাগরিকদের জন্য তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম নতুন ওয়েবসাইটে যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন চিফ ডিজাইন অফিসার জো গেবিয়ার উপস্থিতিতে প্ল্যাটফর্মটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। নতুন এই সরকারি ওয়েবসাইটকে এমন একটি নিরাপদ ও সহজ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে আমেরিকানরা সহজ ভাষায় ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন তথ্য ও সেবা পেতে সক্ষম হবেন। এতে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে।
আগে সরকারি বিভিন্ন তথ্য ও সেবা পেতে মানুষকে অনেকগুলো আলাদা ওয়েবসাইটে যেতে হতো। এখন ‘America.gov’-এর মাধ্যমে এক জায়গা থেকেই এসব তথ্য পাওয়া যাবে। দ্রুত সঠিক তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পাসপোর্ট নবায়ন ও মেডিকেয়ারে নাম নিবন্ধনের মতো সেবাও এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হবে।
এ জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এতে সরকারি সংস্থাগুলোকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ জনসেবা এই সরকারি ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত করতে বলা হয়েছে। যেসব সেবা বছরে এক লাখের বেশি মানুষ ব্যবহার করেন, সেগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সেবা এবং ট্যাক্স জমা দেওয়ার কাজ এই ব্যবস্থার বাইরে থাকবে।
হোয়াইট হাউস বলেছে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো সরকারি কাজ সহজ করা এবং মানুষের সময় বাঁচানো। তাদের মতে, সরকারি কাগজপত্রের কাজে আমেরিকানদের প্রতিবছর প্রায় ১০ বিলিয়ন ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ