মোঃ সোহেল রানা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি
০২:৫৭ পি.এম
পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কোটাভিত্তিক ব্যবস্থার ৬৭ শতাংশ উপজাতি ও ৩৩ শতাংশ বাঙালি বাতিল করে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা এবং সরকারি প্রজ্ঞাপনের আলোকে ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কোটা বিরোধী ঐক্যজোট, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। সংগঠনটি উল্লেখ করছে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ব্যাখ্যায় স্পষ্ট হয়েছে যে জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এ নির্দিষ্ট শতকরা কোটার কোনো বিধান নেই; এখানে কেবল সমযোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় উপজাতীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বিদ্যমান বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার আর সুযোগ নেই। অন্যদিকে সংগঠনটি ৬ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছে; অন্যথায় পাহাড়জুড়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, বলেও তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা ৩০ মিনিটে রাঙ্গামাটি শহরের বনরূপাস্থ আয়োজন রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের নেতারা উল্লেখ করেছেন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত বিভাগসমূহে দীর্ঘদিন ধরে ৬৭ শতাংশ উপজাতি ও ৩৩ শতাংশ বাঙালি কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা মেধাবী চাকরিপ্রত্যাশীদের বঞ্চিত করেছে। তাদের দাবি, এই ব্যবস্থা সংবিধানের সমতা ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ২৩ জুলাই ২০২৪ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে সারা দেশের সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং ৭ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হলেও পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো সেই নীতিটির বাস্তবায়ন করেনি। সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আবারও বৈষম্যমূলক কোটা অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হলে, কোটা বিরোধী ঐক্যজোট স্মারকলিপি প্রদান, আন্দোলন ও হরতাল কর্মসূচি পালন করবে। আন্দোলনের মুখে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় এবং কোটা বিষয়ে আইনগত ব্যাখ্যা জানতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত জেলা পরিষদগুলোকে অবহিত করেছে। ওই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এ নির্দিষ্ট শতাংশ কোটার কোনো বিধান নেই; কেবল সমযোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় উপজাতীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অগ্রাধিকার কখনোই মেধাকে অতিক্রম করতে পারে না এবং জাতীয় প্রজ্ঞাপনের আলোকে ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, সরকারের এই আইনগত ব্যাখ্যায় এতদিনের ৬৭:৩৩ কোটাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার আর কোনো আইনি ভিত্তি নেই—এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আর কোনো অজুহাত বা বিলম্ব না করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় স্থগিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত। সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটায় নিয়োগ নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন, উপজেলাভিত্তিক কোটার স্পষ্ট বিন্যাস প্রকাশ এবং নিয়োগের শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের রোল নম্বর, নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জনি, সদস্য সচিব মো. নুরুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলে রাব্বী, মো. ইব্রাহিম রুবেল, মো. রুবেল হোসেন, মো. আশরাফ আলী, মো. নাসিমার গণি, সদস্য মো. হাবিবউল্লাহ, মো. আরিফুল হক, মুন্নি আক্তার এবং জান্নাতুল ফেরদৌস। সংবাদ সম্মেলনের শেষে নেতারা ফরক রেখে বলেছেন, আইন মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার পরও যদি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে টালবাহানা বা কালক্ষেপণ করে, তবে পাহাড়ের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাঁরা একই সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রতি বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর দেশে এক অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতকে ঘিরে একটি পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই পোস্টে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে দাবি করা হয়েছে, নাকি তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ভারতের পরবর্তী শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
যাইহোক, বিষয়টি নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনার মধ্যেই জানা গেছে যে, ভাইরাল পোস্টটির কোনো সত্যতা নেই।
সম্প্রতি নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান ধর্মেন্দ্র প্রধান। এর পরপরই কঙ্গনার নামে একটি কথিত পোস্ট বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে।
মিড-ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাইরাল পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘নরেন্দ্র মোদীজির কাছে আমার অনুরোধ, আমাকে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী করা হোক। শিক্ষার গুরুত্ব আমি বুঝি, কারণ আমিই প্রথম সকলকে জানিয়েছিলাম যে, ভারত ২০১৪ সালে স্বাধীনতা পেয়েছে।’
এবং এটাই শেষ নয়। একই পোস্টে আরো দাবি করা হয়, নিট পরীক্ষার্থীদের জন্য তাঁর একটি বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে বলা হয়, যারা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে কঙ্গনার সিনেমা দেখবে, তারা পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর পাবে।
পাশাপাশি এতে তাঁর একের পর এক ফ্লপ ছবির ধারাও নাকি থেমে যাবে—এমন দাবিও করা হয়েছে।
তবে ভাইরাল হওয়া পোস্টটি ভুয়া বলে জানা গেছে। কঙ্গনার কোনো ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে এমন কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি। যদিও পোস্টটি তাঁর লেখার ধাঁচ অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে, এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বানানো ভুয়া কনটেন্ট বলে চিহ্নিত হয়েছে।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কঙ্গনা প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
প্রসঙ্গত, সবশেষ কঙ্গনাকে দেখা গেছে ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ সিনেমায়। বর্তমানে তাঁর পরবর্তী সিনেমা ‘কুইন ২’-এর কাজ চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় স্বামীর বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতে স্ত্রী মনিরা বেগমকে (২৫) হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১১টা নাগাদ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূ উপজেলার উমার ইউনিয়নের অমরপুর গ্রামের মাসুদ হোসেনের মেয়ে ছিলেন। এ ঘটনায় থানা পুলিশ ঘাতক স্বামী মো. ফরহাদ হোসেনকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে। মাসুদ জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার আটুল এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের বোন মহসিনা বেগম মন্তব্য করেন, ‘আমার দুলাভাই ফরহাদ হোসেন ঢাকায় রিকশা চালান এবং আমার বোন মনিরা বেগম তার দুই সন্তান নিয়ে আমার বাবার বাড়িতে বসবাস করেন।
সোমবার ভোররাতে আমার দুলাভাই ঢাকা থেকে আমাদের বাড়িতে আসেন।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি আমার বোনকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য এলে, আমার দুলাভাই আমার বোনকে ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। তাদের মধ্যে বেশ কিছু দিন ধরে সংসার জীবনে কলহ চলছিল।’
ধামইরহাট থানার ওসি মো. মিন্টু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার পর তাকে কারাগারের মাধ্যমে হাজতে পাঠানো হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইউক্রেনের হামলার ঘটনা ‘বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি একই সঙ্গে এই ঘটনার বিষয়টি জাতিসংঘের সনদের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৬ জুলাই) সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক পোস্টে আরাগচি অভিযোগ করেন, ইউরোপকে নিজেদের যুদ্ধে টেনে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইসরায়েল এই হামলার উসকানি দিয়েছে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইউক্রেনের হামলায় বাণিজ্যিক জাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার ফলে একজন নাবিক নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইউক্রেন দাবি করেছে, তারা কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ ও ইরানের সঙ্গ সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা চালিয়েছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, ইরান ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাতে কখনোই হস্তক্ষেপ করেনি’ এবং এতে জড়িয়ে যায়নি।
এদিকে, ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আজিজি মার্কিন কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন, এই হামলার জন্য ইউক্রেনকে পাল্টা পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হতে পারে। সোমবার ভোরে ‘এক্সে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো হামলার জন্য চড়া মূল্য দিতে হয় এবং আজও সেই কথা সত্য; যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এ বিষয়ে ভালোভাবেই অবগত।
আজিজি যুক্ত করেন, ইউক্রেনও হয়তো শিগগিরই বুঝতে পারবে, তেহরান কোনো কর্মকাণ্ডের জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেয় না। তিনি এই হামলাকে একটি ‘ভুল হিসাব-নিকাশপ্রসূত পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই হামলার ঘটনায় তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে ইরান এবং বিষয়টিকে ‘বৈরী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই দিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরানকে সামরিক সহায়তা প্রদানের অভিযোগ রাশিয়ার বিরুদ্ধে তুলেছেন।
তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই মাসের শুরু থেকেই আমরা উপসাগরীয় দেশগুলো ও সেখানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর রাশিয়ার সক্রিয় স্যাটেলাইট নজরদারির বিষয়টি লক্ষ্য করেছি। পরবর্তীতে এই ছবিগুলো ইরানের হাতে পৌঁছায়।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই কিয়েভ অভিযোগ করে আসছে, তেহরান হাজার হাজার ‘শাফেদ’ ড্রোন সরবরাহ করে ইউক্রেনের শহরগুলোতে মস্কোর বিমান হামলার সহায়তা করছে। এছাড়া, ইরান-কেন্দ্রিক সংঘাতের কারণে তেহরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি ইউক্রেন সমর্থন জানিয়ে এসেছে এবং ‘শাফেদ’ ড্রোন প্রতিহত করতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিজেদের সামরিক কর্মীও পাঠিয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ হামলার ঘটনায় জাহাজে থাকা নাবিকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরাগচি রাশিয়ার আস্ত্রাখান অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, যারা জাহাজের নাবিক ও কর্মীদের সহায়তা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ‘কিয়েভ সরকারের এ ধরনের দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটানোর’ ওপর জোর দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেড) বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, এটি বাংলাদেশে শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নির্বিঘ্ন কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার সিইআইজেড এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই প্রকল্প কেবল একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বরং এটি বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রতীক। এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিল্প উৎপাদন, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন বাস্তবায়ন হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন যে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করেছে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত অনুমোদন, সহজে ইউটিলিটি সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা পাবেন। সরকার জি-টু-জি চুক্তির আওতায় দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সময়মতো, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই শিল্পাঞ্চল স্থানীয় মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। এটি শুধুমাত্র একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বরং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করবে। মন্ত্রী বলেন, টেকসই শিল্পায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে এই প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিইআইজেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ানসহ দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ