প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইউক্রেনের হামলার ঘটনা ‘বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি একই সঙ্গে এই ঘটনার বিষয়টি জাতিসংঘের সনদের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৬ জুলাই) সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক পোস্টে আরাগচি অভিযোগ করেন, ইউরোপকে নিজেদের যুদ্ধে টেনে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইসরায়েল এই হামলার উসকানি দিয়েছে। তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ইউক্রেনের হামলায় বাণিজ্যিক জাহাজটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, যার ফলে একজন নাবিক নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। ইউক্রেন দাবি করেছে, তারা কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ ও ইরানের সঙ্গ সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হামলা চালিয়েছিল। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে, ইরান ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাতে কখনোই হস্তক্ষেপ করেনি’ এবং এতে জড়িয়ে যায়নি।
এদিকে, ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম আজিজি মার্কিন কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন, এই হামলার জন্য ইউক্রেনকে পাল্টা পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হতে পারে। সোমবার ভোরে ‘এক্সে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো হামলার জন্য চড়া মূল্য দিতে হয় এবং আজও সেই কথা সত্য; যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এ বিষয়ে ভালোভাবেই অবগত।
আজিজি যুক্ত করেন, ইউক্রেনও হয়তো শিগগিরই বুঝতে পারবে, তেহরান কোনো কর্মকাণ্ডের জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেয় না। তিনি এই হামলাকে একটি ‘ভুল হিসাব-নিকাশপ্রসূত পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এই হামলার ঘটনায় তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে ইরান এবং বিষয়টিকে ‘বৈরী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই দিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরানকে সামরিক সহায়তা প্রদানের অভিযোগ রাশিয়ার বিরুদ্ধে তুলেছেন।
তিনি মন্তব্য করেন, জুলাই মাসের শুরু থেকেই আমরা উপসাগরীয় দেশগুলো ও সেখানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর রাশিয়ার সক্রিয় স্যাটেলাইট নজরদারির বিষয়টি লক্ষ্য করেছি। পরবর্তীতে এই ছবিগুলো ইরানের হাতে পৌঁছায়।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই কিয়েভ অভিযোগ করে আসছে, তেহরান হাজার হাজার ‘শাফেদ’ ড্রোন সরবরাহ করে ইউক্রেনের শহরগুলোতে মস্কোর বিমান হামলার সহায়তা করছে। এছাড়া, ইরান-কেন্দ্রিক সংঘাতের কারণে তেহরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতি ইউক্রেন সমর্থন জানিয়ে এসেছে এবং ‘শাফেদ’ ড্রোন প্রতিহত করতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিজেদের সামরিক কর্মীও পাঠিয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ হামলার ঘটনায় জাহাজে থাকা নাবিকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আরাগচি রাশিয়ার আস্ত্রাখান অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, যারা জাহাজের নাবিক ও কর্মীদের সহায়তা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি ‘কিয়েভ সরকারের এ ধরনের দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটানোর’ ওপর জোর দিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন