প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে কোটাভিত্তিক ব্যবস্থার ৬৭ শতাংশ উপজাতি ও ৩৩ শতাংশ বাঙালি বাতিল করে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা এবং সরকারি প্রজ্ঞাপনের আলোকে ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কোটা বিরোধী ঐক্যজোট, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। সংগঠনটি উল্লেখ করছে, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ ব্যাখ্যায় স্পষ্ট হয়েছে যে জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এ নির্দিষ্ট শতকরা কোটার কোনো বিধান নেই; এখানে কেবল সমযোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় উপজাতীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বিদ্যমান বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার আর সুযোগ নেই। অন্যদিকে সংগঠনটি ৬ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছে; অন্যথায় পাহাড়জুড়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে, বলেও তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা ৩০ মিনিটে রাঙ্গামাটি শহরের বনরূপাস্থ আয়োজন রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের নেতারা উল্লেখ করেছেন, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত বিভাগসমূহে দীর্ঘদিন ধরে ৬৭ শতাংশ উপজাতি ও ৩৩ শতাংশ বাঙালি কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা মেধাবী চাকরিপ্রত্যাশীদের বঞ্চিত করেছে। তাদের দাবি, এই ব্যবস্থা সংবিধানের সমতা ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ২৩ জুলাই ২০২৪ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে সারা দেশের সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং ৭ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হলেও পার্বত্য জেলা পরিষদগুলো সেই নীতিটির বাস্তবায়ন করেনি। সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় আবারও বৈষম্যমূলক কোটা অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হলে, কোটা বিরোধী ঐক্যজোট স্মারকলিপি প্রদান, আন্দোলন ও হরতাল কর্মসূচি পালন করবে। আন্দোলনের মুখে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় এবং কোটা বিষয়ে আইনগত ব্যাখ্যা জানতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, গত ৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত জেলা পরিষদগুলোকে অবহিত করেছে। ওই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, জেলা পরিষদ আইন, ১৯৮৯-এ নির্দিষ্ট শতাংশ কোটার কোনো বিধান নেই; কেবল সমযোগ্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে স্থানীয় উপজাতীয় প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অগ্রাধিকার কখনোই মেধাকে অতিক্রম করতে পারে না এবং জাতীয় প্রজ্ঞাপনের আলোকে ৯৩ শতাংশ মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, সরকারের এই আইনগত ব্যাখ্যায় এতদিনের ৬৭:৩৩ কোটাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থার আর কোনো আইনি ভিত্তি নেই—এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেছে। ফলে আর কোনো অজুহাত বা বিলম্ব না করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় স্থগিত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত। সংবাদ সম্মেলনে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ৯৩ শতাংশ মেধা ও ৭ শতাংশ কোটায় নিয়োগ নিশ্চিত করা, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন, উপজেলাভিত্তিক কোটার স্পষ্ট বিন্যাস প্রকাশ এবং নিয়োগের শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের রোল নম্বর, নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জনি, সদস্য সচিব মো. নুরুল আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলে রাব্বী, মো. ইব্রাহিম রুবেল, মো. রুবেল হোসেন, মো. আশরাফ আলী, মো. নাসিমার গণি, সদস্য মো. হাবিবউল্লাহ, মো. আরিফুল হক, মুন্নি আক্তার এবং জান্নাতুল ফেরদৌস। সংবাদ সম্মেলনের শেষে নেতারা ফরক রেখে বলেছেন, আইন মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার পরও যদি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে টালবাহানা বা কালক্ষেপণ করে, তবে পাহাড়ের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাঁরা একই সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রতি বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন