ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
১২:৫৩ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ জুন, ২০২৬ : পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মঙ্গলবার একটি নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি প্রাণঘাতী হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা এ সম্পর্কিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মার্কিন বাহিনী জানায়, এটি অব্যাহত থাকা মাদক চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ।
সংবাদ অনুযায়ী, বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এটি ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’ নামক সামরিক অভিযানের অংশ, যা গত সেপ্টেম্বর থেকে চলমান রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র লাতিন আমেরিকাভিত্তিক মাদক চক্রগুলোর বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ করা এক পোস্টে জানায়, ‘গোয়েন্দা তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে জাহাজটি পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পরিচিত মাদক পাচার রুটে চলাচল করছিল এবং মাদক পাচার কার্যক্রমে জড়িত ছিল।’
হামলার সময় নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি জীবিত রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। তাদের উদ্ধার করার জন্য মার্কিন কোস্ট গার্ড অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
এএফপি’র হিসাব অনুযায়ী, ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ‘সাউদার্ন স্পিয়ার’ হামলায় ২ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, এই হামলাগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল হতে পারে, কারণ এতে এমন বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ জুন, ২০২৬ : গণভোট আয়োজন সংক্রান্ত একটি বিল পাস করেছে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) সিনেট।
সোমবার যে বিলে পাস হয়েছে, সেটি প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স তশিসেকেদির জন্য সংবিধান সংশোধন এবং তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ খুলে দিতে পারে।
সরকারের সংবিধান পরিবর্তনের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের তিন দিন পর সিনেটে এই ভোট অনুষ্ঠিত হলো।
বিরোধীরা অভিযোগ করছে যে, প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় টিকে থাকার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছেন। ওই বিক্ষোভ চলাকালে তশিসেকেদি-সমর্থক ও বিরোধী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষও হয়েছিল।
কিনশাসা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি খবরটি জানায়।
২০১৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা তশিসেকেদির দ্বিতীয় এবং বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, শেষ পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হবে।
তবে গত মাসে ৬৩ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, যদি জনগণ চান, তাহলে তিনি সংঘাত কবলিত দেশটির নেতৃত্বে তৃতীয় মেয়াদেও দায়িত্ব পালন করতে রাজি আছেন গণভোটের পর।
এর আগে, সিনেটে পাস হওয়া বিলটি চলতি মাসের শুরুতে নিম্নকক্ষে অনুমোদন পায়। এটি মূলত গণভোট আয়োজনের কাঠামো ও প্রক্রিয়া সম্পর্কিত একটি কারিগরি বিল।
তবে এটি কঙ্গোর সংবিধানে প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত কঠোর দুই মেয়াদের সীমা বাতিলের উদ্যোগের পথ তৈরি করতে পারে।
এখন বিলটি সাংবিধানিক আদালতের অনুমোদনের জন্য যাবে। এরপর তা প্রেসিডেন্ট তশিসেকেদির স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে।
মধ্য আফ্রিকার বিস্তীর্ণ ও দরিদ্র দেশ ডিআর কঙ্গো বর্তমানে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাবের পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলে রুয়ান্ডা-সমর্থিত এম২৩ সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
তশিসেকেদি ইতোমধ্যেই নিজের ক্ষমতার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছেন। সংসদে তার জোটের রয়েছে বড় ধরণের সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
প্রধান বিরোধী দলগুলো গত মাসে একজোট হয়ে একটি জোট গঠন করে।
তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করছেন।
এএফপির সাংবাদিকরা জানান, শুক্রবারের বিক্ষোভের সময় বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতা আহত হন। সরকার-সমর্থক এবং পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় সরকারি কোনো হতাহতের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তবে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, দুটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার বিভিন্ন খাতের সম্মানির হার পুনর্নির্ধারণ করেছে এবং এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থমন্ত্রণালয়ের অর্থবিভাগ।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি শাখা-২ থেকে গতকাল মঙ্গলবার জারি করা পরিপত্রে উল্লেখিত তথ্য জানানো হয়েছে। পরিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম।
এতে বলা হয়েছে যে, সরকারের পরিচালন বাজেটের আওতায় অনলাইনে (জুম প্ল্যাটফর্ম) আয়োজিত সেমিনার বা কর্মশালার জন্য সম্মানির নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, জারির তারিখ থেকেই এ পরিপত্র কার্যকর হবে।
নতুন নির্দেশনার. অনুযায়ী, সেমিনার বা কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপকের সম্মানি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা।
সেমিনার বা কর্মশালার সঞ্চালক পাবেন ৪ হাজার টাকা। একই হার অর্থাৎ জনপ্রতি ৪ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ তিন আলোচককে সম্মানি দেওয়া হবে।
এ ছাড়া র্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের জন্য সম্মানির হার জনপ্রতি আড়াই হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই খাতে সর্বোচ্চ দুজনকে সম্মানি দেওয়া যাবে।
অন্যদিকে, সেমিনার বা কর্মশালার জন্য অংশগ্রহণকারী প্রত্যেককে ১ হাজার টাকা করে সম্মানি প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
পরিপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অনলাইনে আয়োজিত সেমিনার ও কর্মশালার খাতভিত্তিক সম্মানির হার সংক্রান্ত অর্থ বিভাগের ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট জারি করা ২২৯ নম্বর স্মারকটি বাতিল করা হয়েছে।
নতুন পরিপত্র অনুযায়ী ভবিষ্যতে সকল অনলাইন সেমিনার ও কর্মশালার সম্মানি দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনলাইনভিত্তিক সরকারি সভা, সেমিনার ও কর্মশালার সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় সম্মানির হার পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
অনলাইনভিত্তিক জ্ঞান বিনিময়, প্রশিক্ষণ ও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ প্রদান করছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি) ডাকযোগে। এ সিদ্ধান্ত খসড়া বিধিমালা ও আচরণবিধিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এদিকে, এসব নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্দলীয় ভিত্তিতে আয়োজনের বিধানও বহাল রাখা হয়েছে।
ইসির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, প্রবাসী ভোটারদের কাছে ব্যালট পাঠানো, তা সংগ্রহ করা ও যাচাই করা, এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গণনা প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল হবে। টিবিএসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
কমিশন স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনের জন্য আচরণবিধির খসড়া তৈরি করেছে। গত ১০ জুন এসব খসড়া ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, এবং ৩০ জুনের মধ্যে জনসাধারণের মতামত চাওয়া হয়েছে।
রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিদেশ থেকে ভোট দিতে পারেন। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিদ্যমান আইনে এ ধরনের কোনো বিধান নেই।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য ডাকযোগে ভোটের সুযোগ না রাখা যথাযথ হবে না। তারা বাংলাদেশের নাগরিক ও ভোটার। তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে সমাধান বের করা উচিত। কিন্তু এসব চ্যালেঞ্জের কারণে প্রবাসীদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত হবে না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রবাসীদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার বিষয়ে আইনে স্পষ্ট বিধান না থাকলেও বিষয়টি নীতিগত।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন বিধিমালা বা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা চালু করতে পারে। সরকার চাইলে আইনও সংশোধন করতে পারে। শেষ পর্যন্ত এটি একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত।’
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাসউদ বলেন, ‘প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার জন্য নতুন কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ইসির এ সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রবাসীরা। তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদেরকে বাইরে রাখা বৈষম্যমূলক।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ