নীলফামারী প্রতিনিধি: রায়হান আলী
বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:২২ পি.এম
মাচায় থরে থরে ঝুলছে হলুদ, সবুজ আর ডোরাকাটা বর্ণিল তরমুজ। অসময়ে আধুনিক মাচা পদ্ধতিতে রঙিন তরমুজ চাষ করে এলাকায় অভূতপূর্ব সাড়া ফেলেছেন নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের পূর্ব ডাঙাপাড়া গ্রামের প্রগতিশীল কৃষক ওমর আলী (৪৫)।
জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি নিজস্ব ৩ বিঘা জমিতে উচ্চফলনশীল 'কিং সুগার' ও 'সূর্য ডিম' জাতের প্রায় ৬ হাজার চারা রোপণ করেন। বর্তমানে গাছগুলোর বয়স ৬০ দিন অতিক্রম করেছে। আর মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই এই সুস্বাদু রঙিন তরমুজ বাজারে বাজারজাতকরণের উপযোগী হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় কৃষক ওমর আলী জানান, "পূর্বে আমি মূলত শসার চাষ করতাম। ইউটিউবে মাচায় রঙিন তরমুজ চাষের আধুনিক কৌশল দেখে ঢাকা ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ভালো জাতের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করি। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে সার্বিক পরিচর্যায় আমার এ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, আবহাওয়া ও ক্ষেতের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী প্রায় ১৮ হাজার কেজি ফলনের আশা করছেন। বাজারে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে সকল খরচ বাদ দিয়েও প্রায় ৯ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হবে এবং সব খরচ বাদ দিয়ে অন্তত ৬ লাখ টাকা নিট লাভ থাকবে।
অসময়ে উচ্চমূল্যের এই রঙিন তরমুজ চাষ দেখতে এবং পরামর্শ নিতে প্রতিদিন আশপাশের অনেক কৃষকই ওমর আলীর কৃষি জমিতে ভিড় জমাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের মতে, প্রচলিত ফসলের বাইরে এই আধুনিক ও সুস্বাদু রঙিন তরমুজ চাষ উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে সম্ভাবনার এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় চুনের বস্তায় ইট মেশানো, মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হাইড্রোজ ব্যবহার এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন পণ্য বিক্রির দায়ে মো. সহিদুল ইসলাম (৬০) নামের এক মুদি ব্যবসায়ীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে ভাণ্ডারিয়া বাজারের মিষ্টিপট্টি এলাকায় সহিদ কবিরাজের মুদি ও মনিহারি দোকানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, জনস্বার্থে নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে দোকানটিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হাইড্রোজ, চুনের বস্তায় ইট মেশানো এবং বিভিন্ন নকল, মানহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ এর ২৪ ধারা এবং একই আইনের ৪১ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ওই ব্যবসায়ীকে নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ও ক্ষতিকর পণ্য বিক্রি থেকে বিরত থাকতে তাঁকে সতর্ক করা হয়। অভিযানকালে থানা-পুলিশের সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করতে বাজারে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে বাজারে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মোঃ তরিকুল ইসলাম
ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপ্্ুর।
০১৭১০০২০৩৮২
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রী শ্রী দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা এবং শ্রী শ্রী লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে কবি নজরুল সরকারি কলেজে টানা ১২ দিনের জন্য ক্লাস স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কলেজের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ১৮ অক্টোবর (রবিবার) থেকে ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত এই ক্লাসগুলি বন্ধ থাকবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সকল বিভাগের শিক্ষক, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের জানানো হচ্ছে যে, শ্রী শ্রী দুর্গাপূজা, বিজয়া দশমী, প্রবারণা পূর্ণিমা এবং শ্রী শ্রী লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ১৮ই অক্টোবর থেকে ২৯শে অক্টোবর পর্যন্ত কলেজের সকল ক্লাস স্থগিত থাকবে। তবে সরকারি নির্ধারিত ছুটি ব্যতীত কলেজ অফিস এবং বিভাগসমূহের কার্যক্রম চলমান থাকবে।
এছাড়া, বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক অনুযায়ী আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ১৭ অক্টোবর (শনিবার) অফিস এবং বিভাগ খোলা থাকবে এবং ২০ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত কলেজ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে।
ছুটি এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিভাগের শিক্ষার্থী অনিক জানান, "হিন্দু ধর্মের সবথেকে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। আমরা প্রতি বছর এই দিনগুলোর অপেক্ষায় থাকি। ছুটি পেয়ে খুব ভালো লাগছে। আশা করছি পরিবারের সাথে উৎসবের দিনগুলো খুব সুন্দর কাটবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির (আইইউডিএস) বিতর্কিত সভাপতি ইয়াছিন আলী পদত্যাগ করেছেন। তিনি পদত্যাগের কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত কারণ ও মাস্টার্সের থিসিসের ব্যস্ততা’ উল্লেখ করেছেন। পদত্যাগের পেছনে অভিযোগ রয়েছে, নিয়মবহির্ভূত কমিটি গঠন ও অর্থ গোপনের।
এর আগে সংগঠনটির সদস্যরা বিভিন্ন হল সভায় ওয়াকআউট করেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করে সাধারণ সম্পাদক পদসহ বিভিন্ন উপদেষ্টা পরিষদের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, সংগঠনটির মডারেটর ও সহকারী মডারেটরের ‘একপাক্ষিক’ সিদ্ধান্তের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সংগঠনটির মডারেটর অধ্যাপক ড. জুলফিকার আলী পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত রাতে তিনি মডারেটরের কাছে অব্যহতি চেয়ে আবেদন করেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ইবি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি ইয়াছিন আলী কর্তৃক নিয়মবহির্ভূত কমিটি গঠন ও অর্থের তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তবে অভিযুক্ত ইয়াছিনকে সতর্ক করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডিবেটিং সোসাইটির প্রতিনিধিরা সভা ওয়াকআউট করেন। পরে সন্ধ্যায় শাহ আজিজুর রহমান হল ডিবেটিং সোসাইটি ও লালন শাহ হল ডিবেটিং সোসাইটি তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে যৌথ বিবৃতি দিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বিতর্ক অঙ্গনের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
পরদিন বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক লাবিদ ইফতি, সহসভাপতি রাহাত আব্দুল্লাহ, প্রেস ও আইটি সম্পাদক তানিম তানভীর একে একে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সংগঠনটির মডারেটর অধ্যাপক ড. জুলফিকার আলী বলেন, "গত সন্ধ্যায় অব্যহতি চেয়েছিল। আজ অব্যহতি মঞ্জুর করেছি।" তিনি আরও জানান, সংগঠনটি গতিশীল করার লক্ষ্যে উপদেষ্টামণ্ডলী নিয়ে আলোচনা করে কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ