আঃ হামিদ মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
১২:৪৫ পি.এম
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কতৃক আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে জন সচেতনতা বিষয়ক র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশক্রমে শনিবার (৬ জুন) সকালে সারা দেশের ন্যায় একযোগে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ক্যাম্পাস থেকে একটি ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা মূলক র্যালির আয়োজন করা হয়।
র্যালি শেষে আলোচকরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক আলোচনা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ সাইদুর রহমান এর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ উজ্জ্বল বৈরাগী, গাইনী বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডাঃ মোঃ আব্দুর রহিম প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ সজীব কান্তি পাল, ডাঃ শহিদুল ইসলাম খোকন, মধুপুর প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মোঃ আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক নাজমুছ সাদাৎ নোমান সহ হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স ও কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাংগাবাড়ি সীমান্তে শূন্যরেখায় গত দুইদিন ধরে অবস্থানরত ২৮ জনকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে। এই ২৮ জনের মধ্যে ৬ জন শিশু, ১২ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী অন্তর্ভুক্ত ছিল।
নওগাঁ ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেছেন, বাঙ্গাবাড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের দ্বারা ২৮ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা বিজিবির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়।
তিনি আরও জানিয়েছেন, ওই ২৮ জন ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অবস্থান করছিলেন। বর্তমানে সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে তাঁদের অবস্থান বা চলাচল পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তাই ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময়ে বিএসএফ তাঁদেরকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়েছে।
এর আগে, গত ৪ জুন ভোরে বাংগাবাড়ি সীমান্তের মাধ্যমে ২৮ জন বাংলাদেশিকে পুশ-ইনের প্রচেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির সতর্ক অবস্থান এবং তাৎক্ষণিক তৎপরতার কারণে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তিরা শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে গত দুই দিন ধরে ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়েই অবস্থান করছিলেন।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথে ১১ বছর সফলভাবে কাটানোর পর অবশেষে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার অনুসন্ধানযান ‘মাভেন’-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে যানটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সব ধরনের চেষ্টা করেও সেটিকে পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হয়নি। মহাকাশযানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ছয় মাস পর নাসা আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেছে বলে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
‘মার্স অ্যাটমোস্ফিয়ার অ্যান্ড ভোলাটাইল ইভোলিউশন’ বা মাভেন ছিল নাসার প্রথম এমন একটি মিশন, যা বিশেষভাবে মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডল ও এর বিবর্তনের ওপর গবেষণার জন্য পাঠানো হয়েছিল। ২০১৩ সালে কেপ ক্যানাভেরাল থেকে মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণ করা হয় এবং প্রায় এক বছর পরে ২০১৪ সালে এটি মঙ্গলের কক্ষপথে প্রবেশ করে। মহাকাশযানটির মূল বৈজ্ঞানিক গবেষণার মেয়াদ কেবল এক বছর নির্ধারণ করা হলেও, তবে সব পরিকল্পনা ছাড়িয়ে এটি ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে মঙ্গলের কক্ষপথে নিয়মিত তথ্য পাঠাতে থাকে। নাসা তাদের ‘মার্স ২০২০’ মিশনের অ্যান্টেনা হিসেবেও এই মহাকাশযানটিকে ব্যবহার করেছিল, যার মাধ্যমে ‘পার্সিভ্যারেন্স’ রোভারটিকে মঙ্গল গ্রহে নামানো সম্ভব হয়।
২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর, নাসা শেষবারের মতো ‘মাভেন’-এর সংকেত পায়। এর পরপরই মহাকাশযানটি হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। তবে তখনো প্রতিষ্ঠানটি প্রোবটি নিয়ে আশা ছেড়ে দেয়নি। প্রথমে প্রোবটি উদ্ধারের সম্ভাব্য সব উপায় খতিয়ে দেখেছে নাসা। মাভেনের অবস্থা মূল্যায়ন করতে ও এটিকে জাগিয়ে তোলার উপায় খুঁজতে গত ফেব্রুয়ারিতে ‘অ্যানোমালি রিভিউ বোর্ড’ গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে শেষ পর্যন্ত বোর্ড এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে মহাকাশযানটি আর কোনো বৈজ্ঞানিক মিশন পরিচালনা কিংবা পৃথিবীতে তথ্য পাঠাতে সক্ষম নয়।
নাসা জানিয়েছে, লাল গ্রহের গভীরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত প্রোবটি একেবারে ঠিকঠাক কাজ করছিল। তবে গ্রহটির আড়াল থেকে ফিরে আসার পর, নাসার আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড অ্যান্টেনার বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’ প্রোবটির কোনো সংকেত শনাক্ত করতে পারেনি। এই নেটওয়ার্ক থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে যে, মঙ্গল গ্রহের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসার পর মাভেন ‘সেইফ মোড’-এ চলে যায় এবং অস্বাভাবিক দ্রুততায় ঘুরতে শুরু করে। ফলে এর ব্যাটারির সব চার্জ শেষ হয়ে যায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এই ত্রুটির মূল কারণ কী ছিল তা জানতে নাসা এখনো তথ্য বিশ্লেষণ করছে এবং এই বছরের শেষদিকে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
মাভেনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বিজ্ঞানীদের নিশ্চিত করেছে যে সৌর বায়ু ও সৌর ঝড় মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলকে ক্ষয় করে চলেছে। এই কারণে এক সময় বসবাসের উপযোগী থাকা গ্রহটির জলবায়ু বর্তমানে এমন ঠান্ডা ও শুষ্ক মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।
এই মিশনটি থেকে আরও জানা গেছে যে, প্রোটন কণার কারণে মঙ্গল গ্রহে এক নতুন ধরনের মেরুজ্যোতি বা অরোরা সৃষ্টি হতে পারে এবং পৃথিবীর মতো কেবল মেরু অঞ্চলে নয়, বরং মঙ্গলের যেকোনো স্থানে এমনটি ঘটতে পারে। এছাড়াও পুরো মঙ্গল গ্রহজুড়ে ঘটে যাওয়া একের পর এক ধূলিঝড় কীভাবে গ্রহটির পানির বিভিন্ন অণুকে মহাশূন্যে হারিয়ে যেতে বাধ্য করেছে, বিজ্ঞানীদের তা গভীরভাবে বুঝতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করেছে মাভেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরায় সীমানা পিলারসহ ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের কলাগাছি গ্রামের ভোলানাথ সানার বাড়ি থেকে এই পিলার উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন কলাগাছি গ্রামের মৃত চতুর চন্দ্র সানার পুত্র ভোলানাথ সানা (৫০), খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা যাদব সরকার (৪৫), পাইকগাছার তুষার (৪৬) ও ভোলানাথ সানার আত্মীয় সুশান্ত (৪০) ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভোলানাথ সানার বাড়ির পাশে একটি ঘরে এই পিলারটি মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা রাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আসবে বলে সেটি খুঁড়ে বের করে ঘরের ভেতর রাখা হয়।
এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের একটি টিম রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে অভিযান চালায় ও পিলারসহ চার জনকে আটক করে।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, কলাগাছিতে সীমানা পিলার বেচাকেনা করা হচ্ছে এমন খবর পেয়ে গতরাতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সীমানা পিলারসহ চার জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যারা জড়িত না, তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
ওসি বলেন, উদ্ধার হওয়া সীমানা পিলারটির উৎস ও এটি কীভাবে সেখানে এসেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬কে সামনে রেখে ফুটবল উন্মাদনায় মেতে উঠেছেন বগুড়ার ক্রীড়াপ্রেমীরা। চিরাচরিত মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভুলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকরা একসাথে আনন্দ র্যালি করে সম্প্রীতির অনন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ থেকে দুই দলের সমর্থকদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য এই যৌথ র্যালিটি বের করা হয়। এতে অংশ নেন শত শত ফুটবলপ্রেমী।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ দলের রঙিন জার্সি, বিশালাকার পতাকা, ঢাক-ঢোল এবং ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেন। এটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সাতমাথা মোড় প্রদক্ষিণ করে। এ সময় সড়কের দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষও র্যালিটি উপভোগ করেন।
র্যালি শেষে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকরা একে অপরকে মিষ্টি ও কোমল পানীয় খাইয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন উদযাপন করেন। আয়োজকরা জানায়, ফুটবল নিয়ে আবেগ ও উচ্ছ্বাস থাকলেও যেন তা কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিভেদে রূপ না নেয়, সেই বার্তা দিতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
তারা আরও জানান, খেলাধুলা মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন গড়ে তোলে। বগুড়ার এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে যে ফুটবল কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়, বন্ধুত্ব ও ঐক্যেরও প্রতীক।
স্থানীয়দের মতে, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে এমন কিছু ব্যতিক্রমী আয়োজন এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করেছে এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ