০৩:৩৮ পি.এম
বিএনপি চীনের সাথে ভূরাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তুলতে চায়। এ বিষয়ে প্রত্যাশার কথা তিনি জানান। স্থানীয় সরকারের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই বক্তব্য রাখেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে দু’দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। আজ শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন’ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক চীন সফরের পর ‘লং লিভ বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সভায় গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
আরও পড়ুন: দোয়ারাবাজার সীমান্তে ৩ বাংলাদেশি আটক, মানবপাচারকারী পালিয়ে গেছে
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের তরুণরা চীনে যাচ্ছে এবং সম্পর্ক গড়ে তুলছে। তারেক রহমানের সফর দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করেছে। আমাদের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে।’ তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী নির্যাতনের সময়ও আমরা দলটির সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি।’
এছাড়াও, তিনি উল্লেখ করেন, চীন শুধু আওয়ামী লীগকেই নয় বরং বিএনপি সহ অন্যান্য দলের সঙ্গেও সম্পর্ক রেখেছে। বিএনপি চীনের সঙ্গেই জিও পলিটিকাল ইন্টারেস্টে সম্পর্ক স্থাপন করতে চায়। ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রাখতে চাওয়ার গুরুত্ব তিনি তুলে ধরেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন বেশ উন্নত। বাংলাদেশ, চীনের প্রযুক্তির সহায়তা চায়। চীনের কারিগরি শিক্ষায় বাংলাদেশের তরুণদের শিক্ষিত করতেও সহযোগিতা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো নির্মাণ, সোলার এনার্জি এবং গ্রীন এনার্জির ব্যবহারে চীনা প্রযুক্তির সহায়তা বাড়াতে পারলে বাংলাদেশ লাভবান হবে।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পুকুরে মিঠাপানির মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত
মির্জা ফখরুল আশাবাদী যে, চীনের সঙ্গে বিএনপির আদর্শিক মিল রয়েছে। ব্যবসায়িক সম্পর্কও তারা গড়তে চান। তিনি জানান, চীন থেকে আমদানি ও রপ্তানি বদল হবে। একইভাবে চীনও আমাদের দেশ থেকে আমদানি-রপ্তানি করবে। তিনি উল্লেখ করেন, আধিপত্যবিরোধী শক্তি হিসেবে বাংলাদেশ চীনের নেতৃত্ব চায়।
সভায় রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীনে বিদ্যমান হাইস্পিড ট্রেন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে কার্যকর করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেটকে এই হাইস্পিড ট্রেন প্রযুক্তির আওতায় আনা সম্ভব।
এসময় রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তারেক রহমানের সফরের মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জান মিল্লাতসহ আরও অনেকে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে ঢাকায় ফেরানো হলো জাপানের রাষ্ট্রদূত
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নজমুল হক নান্নু।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা, সম্মান, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
তারা আশাবাদ প্রকাশ করেন যে, অবকাঠামো উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু’দেশের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও সম্প্রসারিত হবে।
আরও পড়ুন: কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোস্তাক, সম্পাদক ফারুকী নির্বাচিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন