১২:৫৬ এম
হঠাৎ গোড়ালি মচকে যাওয়া, খেলাধুলার সময় আঘাত পাওয়া, পিঠ বা ঘাড়ে ব্যথা কিংবা শরীরচর্চার পর পেশিতে টান— এ ধরনের সমস্যায় অনেকেই বুঝতে পারেন না, তাদের বরফের সেঁক দেবেন, নাকি গরম সেঁক? অথচ ব্যথা কমাতে সঠিক সময়ে সঠিক থেরাপি ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল পদ্ধতি প্রয়োগ করলে ব্যথা ও ফোলাভাব কমানোর পরিবর্তে আরও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই কোন ধরনের ব্যথায় কোল্ড থেরাপি (Cold Therapy) এবং কোন ক্ষেত্রে হিট থেরাপি (Heat Therapy) সবচেয়ে কার্যকর সেটি জানা দরকার।
কোল্ড থেরাপি কী?
আরও পড়ুন: শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ৮ দর্শনীয় স্থান
কোল্ড থেরাপি বা ক্রায়োথেরাপি (Cryotherapy) হলো এই পদ্ধতিতে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে আইস প্যাক, ঠান্ডা কম্প্রেস অথবা ঠান্ডা পানির সেঁক দেওয়া হয়। ঠান্ডার প্রভাবে রক্তনালি সাময়িকভাবে সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে আক্রান্ত স্থানে রক্তপ্রবাহ কমে এবং ফোলাভাব, প্রদাহ ও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
যেসব ক্ষেত্রে বরফের সেঁক সবচেয়ে কার্যকর
• সদ্য আঘাত পাওয়া স্থানে
• গোড়ালি মচকে গেলে
আরও পড়ুন: মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড় থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা, উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা
• পেশিতে টান বা লিগামেন্টে আঘাত লাগলে
• খেলাধুলার কারণে আঘাতজনিত স্থানে
• ফোলাভাব ও প্রদাহ কমাতে
বরফের সেঁক দেওয়ার নিয়ম
আরও পড়ুন: বুধবার ১২ রাশির অর্থভাগ্যে সতর্কতা, জেনে নিন রাশিফল
• বরফ কখনোই সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না।
• একটি পাতলা তোয়ালে বা কাপড়ে বরফ মুড়িয়ে ব্যবহার করুন।
• একটানা ১০–১৫ মিনিটের বেশি বরফের সেঁক দেবেন না।
• প্রয়োজন হলে প্রতি ১–২ ঘণ্টা পরপর পুনরায় সেঁক দিতে পারেন।
আরও পড়ুন: ৫৩ বছরেও ফিট থাকার জন্য শচীন ছেড়ে দিলেন দুই বদঅভ্যাস
হিট থেরাপি কী?
হিট থেরাপিতে ব্যথার জায়গায় হিটিং প্যাড, গরম পানির ব্যাগ, উষ্ণ তোয়ালে বা গরম পানির সেঁক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অনেক সময় গরম পানিতে গোসল করা উপকারী হতে পারে। তাপ রক্তসঞ্চালন বাড়িয়ে পেশিকে শিথিল করে এবং আড়ষ্টতা কমাতে সাহায্য করে। তাই এটি মূলত দীর্ঘদিনের ব্যথা বা পেশির শক্তভাব দূর করার জন্য বেশি কার্যকর।
যেসব ক্ষেত্রে গরম সেঁক ব্যবহার করবেন
• দীর্ঘদিনের পিঠ, কোমর বা ঘাড়ের ব্যথা
আরও পড়ুন: ২৮ অক্টোবর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা
• পেশির আড়ষ্টতা ও শক্তভাব দূর করতে
• কাঁধ বা কোমরের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায়
• আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত জড়তা কমাতে
হিট থেরাপির ক্ষেত্রে সতর্কতা
আরও পড়ুন: ‘পর্যটন মেলা, ২০২৬’ বৃহস্পতিবার শুরু, প্রযুক্তি ও টেকসই পর্যটন নিয়ে আলোচনা
• সদ্য আঘাত পাওয়া বা ফুলে থাকা স্থানে গরম সেঁক দেবেন না।
• অতিরিক্ত গরম হিটিং প্যাড বা গরম পানির ব্যাগ ব্যবহার করলে ত্বক পুড়ে যেতে পারে।
• ডায়াবেটিসজনিত অনুভূতিশক্তি কম থাকলে বা রক্তসঞ্চালনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গরম সেঁক ব্যবহার না করাই ভালো।
কোনটি বেছে নেবেন?
সহজ করে মনে রাখতে পারেন—
✔ নতুন আঘাত, ফোলাভাব বা প্রদাহ = বরফের সেঁক
✔ পুরোনো ব্যথা, পেশির আড়ষ্টতা বা জড়তা = গরম সেঁক
অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ঠান্ডা এবং গরম— দুটো থেরাপি ব্যবহার করা হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
শুধু সেঁকের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন যদি—
• ব্যথা অত্যন্ত তীব্র হয়ে থাকে।
• আঘাতের পর হাত বা পা নড়াতে না পারেন।
• ফোলাভাব দ্রুত বাড়তে থাকে।
• বেশ কয়েকদিন সেঁক দেওয়ার পরেও ব্যথা না কমে।
• আঘাতের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত না হন।
ব্যথা কমাতে বরফের সেঁক এবং গরম সেঁক— উভয়ই কার্যকর, তবে সঠিক সময়ে সঠিকটি ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ নিয়ম হলো— নতুন আঘাত ও ফোলাভাবের জন্য ঠান্ডা সেঁক, আর দীর্ঘদিনের ব্যথা ও পেশির আড়ষ্টতার জন্য গরম সেঁক। তবে যদি ব্যথা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে বা স্বাভাবিক না হয়, তাহলে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সম্ভবত সবচেয়ে নিরাপদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন