ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

স্ত্রীর সাথে বয়সের ব্যবধান নিয়ে ট্রল নিয়ে মুখ খুললেন মিলিন্দ


স্ত্রীর সাথে বয়সের ব্যবধান নিয়ে ট্রল নিয়ে মুখ খুললেন মিলিন্দ

বলিউড অভিনেতা ও মডেল মিলিন্দ সোমনের স্ত্রী অঙ্কিতা কনওয়ারের সঙ্গে বয়সের ব্যবধান ২৬ বছর। ২০১৮ সালে তাদের বিয়ের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বয়সের পার্থক্য নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এমনকি অনেকেই তাদেরকে লক্ষ্য করে কটাক্ষ করেন। যদিও মিলিন্দ এসব মন্তব্যে খুব একটা বিচলিত হননি, কিন্তু অঙ্কিতার মনে তা প্রভাব ফেলেছিল। সম্প্রতি অভিনেতা এক সাক্ষাৎকারে পুরোনো সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

৪ নভেম্বর মিলিন্দ ৬১ বছরে পা দিয়েছেন। তার জন্মদিন উপলক্ষে স্ত্রী অঙ্কিতার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান এবং এ নিয়ে অনলাইনে সমালোচনার মুখে পড়ার অভিজ্ঞতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

জুমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিলিন্দ জানিয়েছেন, তাদের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করা হলেও সেগুলো তাকে তেমন প্রভাবিত করেনি। তবে অঙ্কিতার জন্য বিষয়টি শুরুতে সহজ ছিল না। কারণ, এ ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর অভিজ্ঞতা তার তুলনামূলক কম ছিল।

আরও পড়ুন: ‘রামায়ণ’-এর সেটে রণবীরের সঙ্গে আলিয়ার বিশেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ

মিলিন্দ বলেন, ‘এতে আমার কিছু যায়-আসেনি। তবে অঙ্কিতার খারাপ লাগতে পারত, কারণ এ ধরনের অভিজ্ঞতা তার কম ছিল। আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। আমি তাকে বলেছিলাম, যারা এসব মন্তব্য করছে, তারা তোমাকে বা আমাকে চেনে না। তারা যা বলছে, সেগুলো তাদের নিজস্ব মতামত।’

অভিনেতা আরো জানান, তাদের আলোচনার পর অঙ্কিতা বিষয়টি দ্রুত বুঝতে পারেন। এরপর থেকে নেতিবাচক মন্তব্য তাকে আর আগের মতো বিচলিত করত না। মিলিন্দ অঙ্কিতার মানসিক দৃঢ়তারও প্রশংসা করেন।

তিনি মনে করেন, দুজনের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতাও এ ধরনের সমালোচনা সামলে উঠতে সাহায্য করেছে। সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে মানুষের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। তবে অন্যের অনুমোদন পাওয়ার জন্য তারা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখেননি। বরং তাদের দীর্ঘদিনের একসঙ্গে পথচলাকে মানুষ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করছে, সেটি ভালো লাগে বলে জানান তিনি।

বয়সের ব্যবধান ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য

আরও পড়ুন: জামিনের পর পরীমনির অশালীন ভাষায় দুই শব্দের পোস্ট

শুধু বয়সের পার্থক্য নয়, তাদের বেড়ে ওঠা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়েও রয়েছে ভিন্নতা। মিলিন্দ মহারাষ্ট্রের, আর অঙ্কিতা আসামের। দুজনের ভাষা, খাবারের অভ্যাস, পারিবারিক পরিবেশ এবং প্রজন্মের অভিজ্ঞতাও আলাদা।

এর আগে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিলিন্দ বলেছিলেন, অঙ্কিতা তার চেয়ে ২৬ বছরের ছোট হওয়ায় চিন্তাভাবনা, বেড়ে ওঠা ও জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। তবে অঙ্কিতার চিন্তাভাবনাকে তিনি ভিন্ন ও অসাধারণ বলে উল্লেখ করেন।

মিলিন্দের ভাষায়, তারা ভিন্ন প্রজন্ম ও ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশ থেকে এসেছেন। তাদের ভাষা ও খাবারের অভ্যাসও এক নয়। তারপরও দুজনের চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়াকে বিশেষ বলে মনে করেন তিনি। অঙ্কিতার সঙ্গে পরিচয়ের পর তার জীবন আরো ভালো হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন অভিনেতা।

যেভাবে পরিচয় ও বিয়ে

আরও পড়ুন: আদনানের প্রথম সিনেমা ‘অপলক’এ নিশো ও মেহজাবীন

মিলিন্দ ও অঙ্কিতার পরিচয় হয় চেন্নাইয়ের একটি হোটেলে। অঙ্কিতা তখন বিমানসেবীকা হিসেবে কাজ করতেন। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। কয়েক বছর প্রেমের সম্পর্কের পর ২০১৮ সালের ২২ এপ্রিল বিয়ে করেন তারা।

বিয়ের সময় মিলিন্দের বয়স ছিল ৫২ বছর, আর অঙ্কিতার ২৬। বয়সের ব্যবধান নিয়ে তখন ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। তবে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তারা একাধিকবার নিজেদের সম্পর্কের প্রতি আস্থা ও ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন।

২০১৯ সালে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের প্রচারাভিযানেও নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে করা নেতিবাচক মন্তব্যের জবাব দিয়েছিলেন এই দম্পতি। সেখানে বয়সের ব্যবধান নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি মিলিন্দ ও অঙ্কিতা জানিয়েছিলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দুজনের ভালো থাকা।

আরও পড়ুন: আথিয়ার জন্মদিনে রাহুলের heartfelt শুভেচ্ছা: তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ পি.এম


গাজীপুরে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

গাজীপুরে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে আনোয়ার হোসেন নামে এক শিক্ষককে আদালত সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানা করার নির্দেশ দিয়েছেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আসামির স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত টাকা ভিকটিম শিশুকে দেয়ার জন্যও নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক এই রায় প্রদান করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আনোয়ার হোসেন খান শরীফপুর এলাকার মো. করিম খানের পুত্র এবং ধানবাড়ী এলাকার আদর্শ শিশু কানন স্কুলের সহকারী শিক্ষক।

রায় ঘোষণার সময় আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে বিচারকের কাছে সময়ের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে সাজা ঘোষণা করেন এবং সাজা পরোয়ানা জারি করেন। উল্লেখ্য, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট সকালে গাজীপুরের গাছা থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর (ধানবাড়ী) এলাকার একটি স্কুলে গিয়েছিল ওই ৬ বছরের শিক্ষার্থী, যিনি নার্সারি শ্রেণির ছাত্রী। সকাল সোয়া ৯টার দিকে অন্যান্য শিক্ষকরা ক্লাসে চলে গেলে শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন খান (২০) ওই শিশুটিকে স্কুলের অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পর স্কুলের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষিকা ফরিদা বেগম (২৫) শিশুটিকে ক্লাস থেকে ডেকে অফিস কক্ষে নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে এ ঘটনার বিষয়ে কাউকে না বলার জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেন। পরে শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানায়।

ঘটনার পর ভিকটিম শিশুকে স্থানীয় ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরে পরিবারের সদস্য ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে ৫ সেপ্টেম্বর ভিকটিমের মা গাছা থানায় এজাহার দায়ের করেন।

মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে শরীফপুর এলাকার মো. করিম খানের ছেলে ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন খান এবং ঘটনার সহযোগিতার অভিযোগে ফরিদা বেগমকে আসামি করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় সাজা পরোয়ানা পাঠানো হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, মামলাটিতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সেলিনা বেগম। শুনানিতে তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মহিউদ্দিন ও জাকির কাদের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আথিয়ার জন্মদিনে রাহুলের heartfelt শুভেচ্ছা: তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


আথিয়ার জন্মদিনে রাহুলের heartfelt শুভেচ্ছা: তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ

আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বলিউড অভিনেত্রী আথিয়া শেঠির ৩৪তম জন্মদিন উদযাপন হচ্ছে। এই বিশেষ দিনে, স্বামী এবং তারকা ক্রিকেটার কেএল রাহুল থেকে তিনি একটি আন্তরিক ও ভালোবাসাময় শুভেচ্ছা পেয়েছেন। ইনস্টাগ্রামে আথিয়ার কয়েকটি একক ছবির পাশাপাশি একটি সুন্দর জুটির ছবি শেয়ার করে রাহুল লিখেছেন, ‘শুভ জন্মদিন, প্রিয়তমা। তুমি আমার হৃদয়কে ভালোবাসায় এবং আমার জীবনকে অর্থবহ করে তোলো। তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। ভালোবাসি।’

আথিয়া শেঠি এবং কেএল রাহুলের প্রথম পরিচয় ঘটে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে এক বন্ধুর মাধ্যমে। অল্প সময়ের মধ্যে তাদের মধ্যে সখ্যতা গড়ে ওঠে এবং সেই বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে প্রেমে রূপান্তরিত হয়। দীর্ঘদিন প্রেম করার পর, ২০২৩ সালে আথিয়ার বাবা সুনীল শেঠির খান্ডালার ফার্মহাউসে এক ঘরোয়া আয়োজনে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। গত বছর, এই তারকা দম্পতির কোলজুড়ে আসে তাদের কন্যাসন্তান, যার নাম রাখা হয়েছে এভারা বিপুল রাহুল।

চলচ্চিত্রের জগতে ‘হিরো’ এবং ‘মুবারাকান’-এর মতো ছবিতে অভিনয়ের জন্য আথিয়া পরিচিত। সর্বশেষ তাকে দেখা গিয়েছিল দেবামিত্র বিসওয়াল পরিচালিত ‘মতিচুর চাকনাচুর’ সিনেমায়। এই সিনেমায় তার বিপরীতে অভিনয় করেন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী। সিনেমাটির কাহিনী গড়ে উঠেছিল দুবাইয়ে কর্মরত ৩৬ বছর বয়সী পুষ্পিন্দর ত্যাগী এবং নিজের শহরে পাত্র খুঁজতে থাকা তরুণী অনিতার গল্প নিয়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওয়ারী-বটেশ্বর সভ্যতাকে তুলে ধরতে নির্মিত হচ্ছে ‘গঙ্গা ঋদ্ধি’ জাদুঘর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৮ পি.এম


ওয়ারী-বটেশ্বর সভ্যতাকে তুলে ধরতে নির্মিত হচ্ছে ‘গঙ্গা ঋদ্ধি’ জাদুঘর

নরসিংদী, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : ওয়ারী-বটেশ্বর, নরসিংদী জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক ভাণ্ডার, যেখানে প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো সভ্যতার নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। এখানে মাটির নিচে প্রাচীন নগর-বসতির প্রমাণ এবং মূল্যবান প্রত্নবস্তু রয়েছে, যা প্রাক-বাংলার ইতিহাস, বাণিজ্য, কারুশিল্প ও সংস্কৃতির ওপর পরিষ্কার ধারণা প্রদান করে।

এই অমূল্য প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদগুলো সংরক্ষণ এবং দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে, ওই এলাকায় ‘গঙ্গা ঋদ্ধি’ নামে একটি তিনতলা বিশিষ্ট জাদুঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

ওয়ারী ও বটেশ্বর গ্রাম এবং শিবপুর উপজেলার পার্শ্ববর্তী এলাকা নিয়ে বিস্তৃত এই প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চলটি নরসিংদী জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এখানে একটি সমৃদ্ধ দুর্গ-নগরী ও জনবসতি গড়ে উঠেছিল। তবে কিছু গবেষণার ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, এই অঞ্চলে মানব বসতির ইতিহাস ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার বছর পুরনো হতে পারে।

১৯৩০-এর দশকে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক হানিফ পাঠান সংবাদপত্রে নিবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে ওয়ারী-বটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বের দিকে প্রথম সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার মৃত্যুর পর, তার ছেলে ও প্রত্নতত্ত্ব অনুরাগী হাবিবুল্লাহ পাঠান বিভিন্ন প্রত্নবস্তু সংগ্রহ ও গবেষণার মাধ্যমে তার বাবার কাজ এগিয়ে নিয়ে যান। তাদের পারিবারিক সংগ্রহশালা ও লাইব্রেরিতেও অনেক প্রাচীন নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে।

১৯৮৯ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার চক্রবর্তী ওয়ারী-বটেশ্বর পরিদর্শন করেন এবং এটি একটি প্রাচীন সভ্যতার স্থান হিসেবে এর সম্ভাবনা তুলে ধরেন। পরবর্তীতে, ২০০০ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা ‘ঐতিহ্য অন্বেষণ’-এর উদ্যোগে এখানে সুশৃঙ্খলভাবে খননকাজ শুরু হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত দুই দশক ধরে পর্যায়ক্রমে খনন কাজ পরিচালিত হয়েছে। এর ফলে অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে। অধ্যাপক ড. এম সুফি মোস্তাফিজুর রহমান এই সংস্থার নির্বাহী পরিচালক।

প্রায় ৫০টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে খননকার্য চালিয়ে প্রাচীন রৌপ্য মুদ্রা, ওজন পরিমাপের বাটখারা, লোহার কুঠার, বর্শা, হাতুড়ি, পোড়ামাটির শিল্পকর্ম, পাথর ও কাঁচের পুঁতি, ‘নর্দার্ন ব্ল্যাক পলিশড ওয়্যার’ এবং ‘রুলেটেড ওয়্যার’-এর মতো মূল্যবান নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে।

গবেষকরা প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো ইটের তৈরি রাস্তা, চুন-সুরকির গাঁথুনি, সুরক্ষা প্রাচীর এবং প্রাচীন বসতির স্থাপত্যিক অবশিষ্টাংশও খুঁজে পেয়েছেন।

টঙ্গীরটেক প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে খনন করে একটি সুনিপুণ কারুকার্যময় বৌদ্ধ মন্দির, গর্ভগৃহ, সীমানা প্রাচীর, প্রবেশ পথ এবং তিনটি স্তূপের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, এই কাঠামোটি প্রায় ১২শ’ বছরের পুরনো। এছাড়া সেখানে একটি বৌদ্ধ বিহার, একটি পদ্ম মন্দির এবং ‘বৌদ্ধ কুণ্ড’ বা ‘পুকুনিয়া’ নামে পরিচিত ইটের তৈরি একটি বিশেষ কাঠামোর প্রমাণও পাওয়া গেছে।

তবে খননকার্য শেষ হওয়ার পর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক স্থানই পুনরায় মাটি দিয়ে ঢেকে ফেলতে হয়েছে। গবেষণার জন্য উদ্ধারকৃত নিদর্শনগুলো গবেষণাগারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরবর্তীতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে জমা দেয়া হয়। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা প্রায়শই এই প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদগুলো দেখার সুযোগ না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান।

এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে, স্থানীয় সরকারের অর্থায়নে ২০১৯ সালে ‘গঙ্গা ঋদ্ধি জাদুঘর’ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। নরসিংদী জেলা পরিষদের বাস্তবায়নাধীন তিনতলা এই জাদুঘরটির নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

জাদুঘরটি চালু হলে, ওয়ারী-বটেশ্বর ও এর পার্শ্ববর্তী প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলো থেকে আবিষ্কৃত গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলো সেখানে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করার সুযোগ তৈরি হবে।

জেলা পরিষদ সূত্র বাসস’কে জানিয়েছে, জাদুঘরটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং পুরো প্রকল্পটি আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে, ‘ঐতিহ্য অন্বেষণ’ ওয়ারী-বটেশ্বর দুর্গ নগরীতে দর্শনার্থীদের জন্য একটি উন্মুক্ত জাদুঘর গড়ে তুলেছে। এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন মডেল, রেপ্লিকা, আলোকচিত্র, বিবরণ ও বিশ্লেষণ প্রদর্শিত হচ্ছে।

প্রাচীনকালের গর্ত-বসতির (পিট ডুয়েলিং) মডেলের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা হাজার হাজার বছর আগের মানুষের জীবনযাপন ও বসতি স্থাপনের ধরন সম্পর্কে জানতে পারেন। শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগও পায়। প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে ওয়ারী-বটেশ্বরকে কেন্দ্র করে নির্মিত তথ্যচিত্র ও প্রত্নতাত্ত্বিক নাটকও দেখানো হয়।

স্থানীয় প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রাহক হাবিবুল্লাহ পাঠান বাসস’কে জানান, ওয়ারী-বটেশ্বর ছিল ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত আড়াই হাজার বছরের পুরনো একটি গুরুত্বপূর্ণ জনবসতি, রাজধানী ও দুর্গ নগরী।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৫০টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে খননকার্য চালিয়ে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে’।

অধ্যাপক ড. এম সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বাসস’কে জানিয়েছেন, ওয়ারী-বটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব দেশ ও বিদেশে তুলে ধরার লক্ষ্যে একটি উন্মুক্ত জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এই উদ্যোগের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা প্রাচীন বাসিন্দাদের জীবনধারা, বসতি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাচ্ছেন। ‘গঙ্গা ঋদ্ধি জাদুঘর চালু হওয়ার ফলে প্রত্নতাত্ত্বিক সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা কর্তৃপক্ষের কাছে জাদুঘরটির নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে তা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ, পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে ওয়ারী-বটেশ্বরকে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব। তারা আশা করেন, সঠিক উদ্যোগ ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ওয়ারী-বটেশ্বরের আড়াই হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা যাবে এবং এই স্থানটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যশোরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৬০ বছর বয়সী পথচারী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


যশোরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৬০ বছর বয়সী পথচারী নিহত

যশোরের মনিরামপুরে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনায় রুহুল আমিন (৬০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক রিফাত হোসেন (২৪) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার রোহিতা বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রুহুল আমিন কোদলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং আহত মোটরসাইকেল চালক রিফাত একই এলাকার খড়কি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় যে, সকালে রুহুল আমিন পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে চালক ও পথচারী দুজনই ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রুহুল আমিন মারা যান।

রোহিতা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মন্তব্য করেন, "একটি তাজা প্রাণ এভাবে ঝরে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এমন মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং চালকদের আরো সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।"

মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%