শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:১১ পি.এম
নাগেশ্বরীতে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর ১৯ বছর বয়সী মীমের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনরা নাগেশ্বরী এ্যাপোলো হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসাসেবাকে দায়ী করছেন, কারণ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং পরবর্তী সময়ে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, প্রসূতির স্বাভাবিক ডেলিভারি না করে ভয়ভীতি দেখিয়ে সিজার করানো হয়েছে। তারা আরও জানান, গর্ভাশয়ে ময়লা ও গর্ভফুলের অংশ রেখে প্রথম স্তরে সেলাই ফাঁকা রাখার কারণে অস্ত্রোপচারের পর রোগীর মুমূর্ষু অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ্যাপোলো ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মীম নাগেশ্বরী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড সান্জুয়ারভিটার বাসিন্দা আল মামুন বাবুর স্ত্রী। জানা যায়, বৃহস্পতিবার রংপুরের ডক্টর্স ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মীমের মৃত্যু ঘটে। প্রসূতিকে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) নাগেশ্বরী এ্যাপোলো হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে অস্ত্রোপচার করার পর অবনতি হলে তড়িঘড়ি করে ভোররাতে (১৪ অক্টোবর) রোগীকে রংপুরে রেফার্ট করে এ্যাপোলো কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তার স্বামী আল মামুন বাবু।
ক্লিনিকের রেজিস্ট্রারে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, প্রসূতির অস্ত্রোপচার করেন প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস রুমা, অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. শবনম খাতুন এবং তাদের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ক্লিনিকটির পরিচালক নুরুল ইসলাম (ডিএমএফ)।
প্রসূতির স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর মীমের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু রাত আড়াইটার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মৃতের পরিবারের দাবি, রংপুরে পুনরায় অস্ত্রোপচারের সময় তাদের জানানো হয়, আগের অস্ত্রোপচারে প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা ছিল। এ সমস্যার কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বেড়ে মীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে।
মীমের স্বামী আল মামুন বাবু বলেন, "ভুল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসায় অবহেলার কারণে আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। অ্যাপোলো ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।"
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী অ্যাপোলো হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক শাহ আলম ও নুরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক আলামিন জানিয়েছেন, বিষয়টি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজার দেখভালে রয়েছে। এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
গোলাম রসুল রাজা বলেন, "শুক্রবার বিকালে বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবেন বলেও জানান তিনি।"
নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাঃ সুজন সাহা বলেন, "অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতি মায়ের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় সবাইকে সতর্ক হওয়া উচিৎ এবং প্রসূতিকে ভর্তি করানোর আগে ক্লিনিকের সক্ষমতা যাচাই-বাছাই করা জরুরি বলেও জানান তিনি।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রোয়েশিয়ার শীর্ষ নেতারা হাজদুক স্প্লিটের সমর্থকদের নাৎসিপন্থী ও ইহুদিবিদ্বেষী স্লোগানের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যা আয়াক্সের বিপক্ষে উয়েফা কনফারেন্স লিগ ম্যাচের আগে ঘটে। ইসরায়েলের দূতাবাসও এ ঘটনায় বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্প্লিট শহরে মিছিলের সময় হাজদুক স্প্লিটের সমর্থকগোষ্ঠী টরসিদা "ইহুদিদের ধ্বংস করো", "অ্যাডলফ হিটলার জেগে ওঠো" এবং "উস্তাশারা এগিয়ে চলো" স্লোগান দেয়। উল্লেখ্য, উস্তাশা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ক্রোয়েশিয়ার নাৎসিপন্থী শাসনব্যবস্থা।
পুলিশ সহিংসতার অভিযোগে ম্যাচের আগে বেশ কয়েকজন সমর্থককে আটক করে। ম্যাচ চলাকালীনও টরসিদা সমর্থকরা গ্যালারিতে ফ্লেয়ার ও অন্যান্য আতশবাজি জাতীয় সামগ্রী ব্যবহার করলে খেলা ১০ মিনিটেরও বেশি সময় বন্ধ থাকে।
ঘটনার পর পুলিশ নাৎসিপন্থী স্লোগানের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে এবং সন্দেহভাজনদের আটক করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোরান মিলানোভিচ শুক্রবার এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে "অগ্রহণযোগ্য ও লজ্জাজনক" বলে অভিহিত করেন। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে ক্রোয়েশিয়ায় নাৎসিবাদ ও উস্তাশা মতাদর্শের গৌরবগাথার কোনো স্থান নেই।
জাগরেবে অবস্থিত ইসরায়েল দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, স্প্লিটে ঘটে যাওয়া গুরুতর ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায়।
রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচও ইহুদিবিদ্বেষী বার্তাগুলোর নিন্দা করে বলেন, এসব আচরণ ক্রোয়েশীয় সমাজের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
ম্যাচে ২-১ গোলের জয় পাওয়া হাজদুক স্প্লিট এক বিবৃতিতে উয়েফা ও আয়াক্সের কাছে ক্ষমা চায়। ক্লাবটি জানায়, অতিথিরা এমন কিছু দৃশ্য দেখেছে যা তারা ইউরোপের স্মৃতিতে রাখতে চায় না।
ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে।
চরম জাতীয়তাবাদী সমর্থকদের কারণে বহু বছর ধরেই ক্রোয়েশিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদপন্থী স্লোগান এবং উস্তাশা প্রতীক প্রদর্শনের ঘটনা বারবার দেখা গেছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উস্তাশা শাসনব্যবস্থা শত-সহস্র জাতিগত সার্ব, ইহুদি, রোমা জনগোষ্ঠী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী ক্রোয়াটদের হত্যা ও নির্যাতন করেছিল।
২০১৫ সালে স্প্লিটে ইতালির বিপক্ষে ইউরো ২০১৬ বাছাই ম্যাচের আগে মাঠে স্বস্তিকা (নাৎসি প্রতীক) আঁকার ঘটনায় উয়েফা ক্রোয়েশিয়ার এক পয়েন্ট কেটে নিয়েছিল। তবে ওই ঘটনার অপরাধীদের কখনো শনাক্ত করা যায়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে নাৎসিপন্থী অতীতের প্রতি সহনশীলতা বেড়েছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ। তাদের দাবি, উস্তাশা প্রতীক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে বলেছেন, বিএনপি অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের সুখ-দুঃখে সহযোগিতা করতে চায়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো ব্যক্তি যেন অবহেলা, বৈষম্য বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। দুর্গাপূজার আনন্দ আমরা সবার ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।
আজ শুক্রবার নগরীর আলকরণ ওয়ার্ডে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
আবু সুফিয়ান বলেন, আমরা দৃঢ় বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার হলো- সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতির মাধ্যমে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। বিএনপি সব সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সহাবস্থানে বিশ্বাস করে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, শওকত আজম খাজা ও শিহাব উদ্দিন মুবিন এবং মহানগর বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু।
এতে সভাপতিত্ব করেন আলকরণ ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান। সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিম আফ্রিকার গাম্বিয়ার উপকূলে অভিবাসীদের নিয়ে যাওয়া একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার রেড ক্রস এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
নৌকাটি ‘জিনাক কাজাতা’ গ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এই গ্রামটি আটলান্টিক মহাসাগরের একটি দ্বীপে অবস্থিত এবং স্থানীয়দের মতে, এটি স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীদের জন্য একটি প্রধান যাত্রা পয়েন্টে পরিণত হয়েছে।
তীব্র স্রোত এবং জরাজীর্ণ ও অতিরিক্ত বোঝাই নৌযান ব্যবহারের কারণে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে এই দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
গাম্বিয়া রেড ক্রস সোসাইটি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জিনাক কাজাতার উপকূলে অভিবাসীবাহী আরেকটি নৌকা ডুবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। ওই দুর্ঘটনায় ৪০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ১০০ জন নিখোঁজ ছিল।
মরক্কো, মৌরিতানিয়া ও সেনেগালের উপকূলে সাম্প্রতিক সময়ে নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীরা আরও দক্ষিণের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সমুদ্রযাত্রার দূরত্ব এবং ঝুঁকি—দুটিই বেড়ে গেছে।
দারিদ্র্য, সংঘাত ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে ইউরোপে আশ্রয় নিতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের জন্য ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইতালি ও গ্রিসের দিকে ভূমধ্যসাগরীয় পথও অভিবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৪ সালে আটলান্টিক মহাসাগরের এ দ্বীপপুঞ্জে অভিবাসীদের আগমন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সে বছর ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ সেখানে পৌঁছান। তবে স্পেনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীতে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে একাধিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্বিচারে ইলিশ শিকার করা হচ্ছে। এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে রামগতি ও কমলনগরের কয়েকটি মাছঘাট পরিদর্শন করে মা ইলিশ শিকারের চিত্র দেখা গেছে। রামগতির বিবিরহাট, ওছখালী, ব্রিজঘাট, আসলপাড়া, টাঙ্কিরঘাট, আলেকজান্ডার, বালুরচর ও বাংলাবাজার এবং কমলনগরের মতিরহাট, নবীগঞ্জ, নাজিরগঞ্জ, মাতাব্বরহাট, লুধুয়া ও পাটারিরহাট এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের অভিযোগ রয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর রামগতি বাজার মাছঘাটসংলগ্ন মান্তাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাছ কেনার জন্য অনেক ব্যবসায়ী অপেক্ষা করছেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যান। স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, বিকেলে আট থেকে ১০টি নৌকা মাছ শিকারের জন্য নদীতে যায়। সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে সেগুলো মাছ নিয়ে ঘাটে ফেরে। এ সময় মাছ কেনার জন্য ব্যবসায়ীরা অপেক্ষা করেন। রাতভর আরো ১২ থেকে ১৫টি নৌকা মাছ শিকার করে ভোরে ঘাটে আসে। তখন সেখানে মানুষের ভিড় আরো বাড়ে।
এছাড়া, নৌকা পরিচালনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে উপস্থিত তিনজন মাছ ব্যবসায়ী লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির কর্মী ডলার নোমান ও হালিম মাঝির নাম উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে নৌকাগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
কমলনগরের মতিরহাট মাছঘাটে চরকালকিনি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হুমায়ুন কবির ও ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ থেকে সাতটি নৌকায় মা ইলিশ শিকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই মেঘনায় মা ইলিশ শিকার শুরু হয়, যা চলে সারা রাত। নদীতে মাছ ধরতে নামা জেলেদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম, ডলার নোমান ও হালিম মাঝির সিন্ডিকেট তাদের মাছ শিকারে সহায়তা করছে। প্রতিদিন গড়ে ছোট-বড় ও মাঝারি আকারের প্রায় ৩০টি নৌকা এভাবে মাছ শিকার করে বলে তাদের দাবি।
মান্তাপাড়া এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালিত কথিত সিন্ডিকেটের সঙ্গে চরগাজী ও বড়খেরী ইউনিয়ন ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাও জড়িত বলে দাবি করেছেন ওই এলাকার দুই বিএনপি নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের একজন বলেন, এসব বিষয়ে কথা বললে সমস্যায় পড়তে হয়। দলের কিছু নেতাকর্মী এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন যে কারও কথা শুনতে চান না। মৎস্য বিভাগ ও নৌ-পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ না করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তারা।
মাছ কিনতে আসা সিরাজ উদ্দিন ও রফিক মাঝি বলেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তারা প্রায়ই ওই স্থান থেকে মাছ কেনেন। তাদের দাবি, তাদের মতো প্রায় ২০০ ব্যবসায়ী নিয়মিত সেখানে মাছ কেনেন। ঋণ ও জীবিকার তাগিদে জেলেরা নদীতে নামতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে সামলানোর দায়িত্বে রয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম, ডলার নোমান ও হালিম মাঝি।
রামগতি বাজারের ব্যবসায়ী ফজল করিম ও আবির হোসেন বলেন, এ বছর মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের তৎপরতা আগের বছরগুলোর তুলনায় কম। তাদের অভিযোগ, এ সুযোগে নির্বিচারে ইলিশ শিকার চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাজনীতি করার কারণে তার পক্ষে-বিপক্ষে শত্রু রয়েছে। তারা হয়তো এমন অভিযোগ করতে পারেন। তবে তিনি এ কাজের সঙ্গে জড়িত নন।
রামগতি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শিবলী নোমান বলেন, সরকারের আইন অনুযায়ী ২২ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এ সময় কেউ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে মাছ শিকারে সহায়তা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। অপরাধীর পরিচয় অপরাধী।
রামগতির বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, জনবল সংকটসহ নানা কারণে বিশাল নদী পাহারা দেওয়া কঠিন। তবু নৌ-পুলিশের সদস্যরা সাধ্য অনুযায়ী অভিযান চালাচ্ছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রামগতি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সৌরভ-উজ-জামান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম তিনিও শুনেছেন। গত দুই দিনে ওই এলাকায় কয়েকবার গেছেন এবং জাহাঙ্গীর আলমকে টেলিফোনে সতর্ক করেছেন। কিছু জাল ও নৌকা আটক করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে অভিযান আরো জোরদার করা হবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি তারাও শুনেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকাসহ দেশের নির্ধারিত এলাকায় ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণন নিষিদ্ধ করেছে সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ