ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

'হিটলার জেগে ওঠো' স্লোগানে ক্ষোভে ফুঁসছে ক্রোয়েশিয়া


ক্রোয়েশিয়ার শীর্ষ নেতারা হাজদুক স্প্লিটের সমর্থকদের নাৎসিপন্থী ও ইহুদিবিদ্বেষী স্লোগানের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যা আয়াক্সের বিপক্ষে উয়েফা কনফারেন্স লিগ ম্যাচের আগে ঘটে। ইসরায়েলের দূতাবাসও এ ঘটনায় বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্প্লিট শহরে মিছিলের সময় হাজদুক স্প্লিটের সমর্থকগোষ্ঠী টরসিদা "ইহুদিদের ধ্বংস করো", "অ্যাডলফ হিটলার জেগে ওঠো" এবং "উস্তাশারা এগিয়ে চলো" স্লোগান দেয়। উল্লেখ্য, উস্তাশা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ক্রোয়েশিয়ার নাৎসিপন্থী শাসনব্যবস্থা।

পুলিশ সহিংসতার অভিযোগে ম্যাচের আগে বেশ কয়েকজন সমর্থককে আটক করে। ম্যাচ চলাকালীনও টরসিদা সমর্থকরা গ্যালারিতে ফ্লেয়ার ও অন্যান্য আতশবাজি জাতীয় সামগ্রী ব্যবহার করলে খেলা ১০ মিনিটেরও বেশি সময় বন্ধ থাকে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে প্রতি তিনজনের একজন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত

ঘটনার পর পুলিশ নাৎসিপন্থী স্লোগানের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে এবং সন্দেহভাজনদের আটক করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোরান মিলানোভিচ শুক্রবার এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে "অগ্রহণযোগ্য ও লজ্জাজনক" বলে অভিহিত করেন। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে ক্রোয়েশিয়ায় নাৎসিবাদ ও উস্তাশা মতাদর্শের গৌরবগাথার কোনো স্থান নেই।

জাগরেবে অবস্থিত ইসরায়েল দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, স্প্লিটে ঘটে যাওয়া গুরুতর ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনায় তারা গভীরভাবে মর্মাহত এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায়।

রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচও ইহুদিবিদ্বেষী বার্তাগুলোর নিন্দা করে বলেন, এসব আচরণ ক্রোয়েশীয় সমাজের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

আরও পড়ুন: বাহরাইনের বাংলাদেশ দূতাবাসে লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস উদযাপন

ম্যাচে ২-১ গোলের জয় পাওয়া হাজদুক স্প্লিট এক বিবৃতিতে উয়েফা ও আয়াক্সের কাছে ক্ষমা চায়। ক্লাবটি জানায়, অতিথিরা এমন কিছু দৃশ্য দেখেছে যা তারা ইউরোপের স্মৃতিতে রাখতে চায় না।

ক্রোয়েশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে।

চরম জাতীয়তাবাদী সমর্থকদের কারণে বহু বছর ধরেই ক্রোয়েশিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদপন্থী স্লোগান এবং উস্তাশা প্রতীক প্রদর্শনের ঘটনা বারবার দেখা গেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় উস্তাশা শাসনব্যবস্থা শত-সহস্র জাতিগত সার্ব, ইহুদি, রোমা জনগোষ্ঠী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী ক্রোয়াটদের হত্যা ও নির্যাতন করেছিল।

আরও পড়ুন: স্কুলছাত্রীর দুষ্টুমিতে বিমানে বোমা আতঙ্ক, নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

২০১৫ সালে স্প্লিটে ইতালির বিপক্ষে ইউরো ২০১৬ বাছাই ম্যাচের আগে মাঠে স্বস্তিকা (নাৎসি প্রতীক) আঁকার ঘটনায় উয়েফা ক্রোয়েশিয়ার এক পয়েন্ট কেটে নিয়েছিল। তবে ওই ঘটনার অপরাধীদের কখনো শনাক্ত করা যায়নি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে নাৎসিপন্থী অতীতের প্রতি সহনশীলতা বেড়েছে বলে সমালোচকদের অভিযোগ। তাদের দাবি, উস্তাশা প্রতীক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট কঠোর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজার আনন্দ সবার ঘরে পৌঁছে দিতে চান আবু সুফিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১২ পি.এম


দুর্গাপূজার আনন্দ সবার ঘরে পৌঁছে দিতে চান আবু সুফিয়ান

চট্টগ্রাম, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ : সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে বলেছেন, বিএনপি অতীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের সুখ-দুঃখে সহযোগিতা করতে চায়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো ব্যক্তি যেন অবহেলা, বৈষম্য বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। দুর্গাপূজার আনন্দ আমরা সবার ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।

আজ শুক্রবার নগরীর আলকরণ ওয়ার্ডে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

আবু সুফিয়ান বলেন, আমরা দৃঢ় বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে এবং প্রত্যেকের নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার হলো- সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্প্রীতির মাধ্যমে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। বিএনপি সব সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সহাবস্থানে বিশ্বাস করে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন জামান, শওকত আজম খাজা ও শিহাব উদ্দিন মুবিন এবং মহানগর বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন লিপু।

এতে সভাপতিত্ব করেন আলকরণ ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান। সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব ইকবাল হোসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাম্বিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ১২, উদ্ধার অভিযান চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৩ পি.এম


গাম্বিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ১২, উদ্ধার অভিযান চলছে

পশ্চিম আফ্রিকার গাম্বিয়ার উপকূলে অভিবাসীদের নিয়ে যাওয়া একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার রেড ক্রস এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

নৌকাটি ‘জিনাক কাজাতা’ গ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এই গ্রামটি আটলান্টিক মহাসাগরের একটি দ্বীপে অবস্থিত এবং স্থানীয়দের মতে, এটি স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীদের জন্য একটি প্রধান যাত্রা পয়েন্টে পরিণত হয়েছে।

তীব্র স্রোত এবং জরাজীর্ণ ও অতিরিক্ত বোঝাই নৌযান ব্যবহারের কারণে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে এই দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

গাম্বিয়া রেড ক্রস সোসাইটি বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, ‘নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জিনাক কাজাতার উপকূলে অভিবাসীবাহী আরেকটি নৌকা ডুবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল। ওই দুর্ঘটনায় ৪০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ১০০ জন নিখোঁজ ছিল।

মরক্কো, মৌরিতানিয়া ও সেনেগালের উপকূলে সাম্প্রতিক সময়ে নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীরা আরও দক্ষিণের পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সমুদ্রযাত্রার দূরত্ব এবং ঝুঁকি—দুটিই বেড়ে গেছে।

দারিদ্র্য, সংঘাত ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে ইউরোপে আশ্রয় নিতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের জন্য ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইতালি ও গ্রিসের দিকে ভূমধ্যসাগরীয় পথও অভিবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৪ সালে আটলান্টিক মহাসাগরের এ দ্বীপপুঞ্জে অভিবাসীদের আগমন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। সে বছর ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ সেখানে পৌঁছান। তবে স্পেনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসীদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেঘনায় মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব, নেপথ্যে ছাত্রদল নেতার সিন্ডিকেট!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৪ পি.এম


মেঘনায় মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব, নেপথ্যে ছাত্রদল নেতার সিন্ডিকেট!

সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীতে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে একাধিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্বিচারে ইলিশ শিকার করা হচ্ছে। এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে রামগতি ও কমলনগরের কয়েকটি মাছঘাট পরিদর্শন করে মা ইলিশ শিকারের চিত্র দেখা গেছে। রামগতির বিবিরহাট, ওছখালী, ব্রিজঘাট, আসলপাড়া, টাঙ্কিরঘাট, আলেকজান্ডার, বালুরচর ও বাংলাবাজার এবং কমলনগরের মতিরহাট, নবীগঞ্জ, নাজিরগঞ্জ, মাতাব্বরহাট, লুধুয়া ও পাটারিরহাট এলাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের অভিযোগ রয়েছে।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর রামগতি বাজার মাছঘাটসংলগ্ন মান্তাপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাছ কেনার জন্য অনেক ব্যবসায়ী অপেক্ষা করছেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যবসায়ী মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যান। স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, বিকেলে আট থেকে ১০টি নৌকা মাছ শিকারের জন্য নদীতে যায়। সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে সেগুলো মাছ নিয়ে ঘাটে ফেরে। এ সময় মাছ কেনার জন্য ব্যবসায়ীরা অপেক্ষা করেন। রাতভর আরো ১২ থেকে ১৫টি নৌকা মাছ শিকার করে ভোরে ঘাটে আসে। তখন সেখানে মানুষের ভিড় আরো বাড়ে।

এছাড়া, নৌকা পরিচালনার বিষয়ে প্রশ্ন করলে উপস্থিত তিনজন মাছ ব্যবসায়ী লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপির কর্মী ডলার নোমান ও হালিম মাঝির নাম উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে নৌকাগুলো পরিচালিত হচ্ছে।

কমলনগরের মতিরহাট মাছঘাটে চরকালকিনি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হুমায়ুন কবির ও ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ থেকে সাতটি নৌকায় মা ইলিশ শিকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেই মেঘনায় মা ইলিশ শিকার শুরু হয়, যা চলে সারা রাত। নদীতে মাছ ধরতে নামা জেলেদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে জাহাঙ্গীর আলম, ডলার নোমান ও হালিম মাঝির সিন্ডিকেট তাদের মাছ শিকারে সহায়তা করছে। প্রতিদিন গড়ে ছোট-বড় ও মাঝারি আকারের প্রায় ৩০টি নৌকা এভাবে মাছ শিকার করে বলে তাদের দাবি।

মান্তাপাড়া এলাকায় জাহাঙ্গীর আলমের পরিচালিত কথিত সিন্ডিকেটের সঙ্গে চরগাজী ও বড়খেরী ইউনিয়ন ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাও জড়িত বলে দাবি করেছেন ওই এলাকার দুই বিএনপি নেতা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের একজন বলেন, এসব বিষয়ে কথা বললে সমস্যায় পড়তে হয়। দলের কিছু নেতাকর্মী এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন যে কারও কথা শুনতে চান না। মৎস্য বিভাগ ও নৌ-পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ না করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তারা।

মাছ কিনতে আসা সিরাজ উদ্দিন ও রফিক মাঝি বলেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তারা প্রায়ই ওই স্থান থেকে মাছ কেনেন। তাদের দাবি, তাদের মতো প্রায় ২০০ ব্যবসায়ী নিয়মিত সেখানে মাছ কেনেন। ঋণ ও জীবিকার তাগিদে জেলেরা নদীতে নামতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষকে সামলানোর দায়িত্বে রয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম, ডলার নোমান ও হালিম মাঝি।

রামগতি বাজারের ব্যবসায়ী ফজল করিম ও আবির হোসেন বলেন, এ বছর মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের তৎপরতা আগের বছরগুলোর তুলনায় কম। তাদের অভিযোগ, এ সুযোগে নির্বিচারে ইলিশ শিকার চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাজনীতি করার কারণে তার পক্ষে-বিপক্ষে শত্রু রয়েছে। তারা হয়তো এমন অভিযোগ করতে পারেন। তবে তিনি এ কাজের সঙ্গে জড়িত নন।

রামগতি উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শিবলী নোমান বলেন, সরকারের আইন অনুযায়ী ২২ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এ সময় কেউ রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে মাছ শিকারে সহায়তা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। অপরাধীর পরিচয় অপরাধী।

রামগতির বড়খেরী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, জনবল সংকটসহ নানা কারণে বিশাল নদী পাহারা দেওয়া কঠিন। তবু নৌ-পুলিশের সদস্যরা সাধ্য অনুযায়ী অভিযান চালাচ্ছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রামগতি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সৌরভ-উজ-জামান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম তিনিও শুনেছেন। গত দুই দিনে ওই এলাকায় কয়েকবার গেছেন এবং জাহাঙ্গীর আলমকে টেলিফোনে সতর্ক করেছেন। কিছু জাল ও নৌকা আটক করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে অভিযান আরো জোরদার করা হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে বিষয়টি তারাও শুনেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরের ষাটনল থেকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকাসহ দেশের নির্ধারিত এলাকায় ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণন নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজায় হাজারী গলিতে বেড়েছে নীল শাপলার চাহিদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৪ পি.এম


দুর্গাপূজায় হাজারী গলিতে বেড়েছে নীল শাপলার চাহিদা

শারদীয় দুর্গাপূজার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের হাজারী গলিতে বিক্রি হচ্ছে নীল শাপলা, যা অনেকের কাছে নীল পদ্ম নামেও পরিচিত। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও পৌরাণিক আখ্যানে দুর্গাপূজায় নীল পদ্মের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তবে প্রকৃত নীল পদ্ম অত্যন্ত দুষ্প্রাপ্য হওয়ায় পূজার্চনায় অনেক ক্ষেত্রে নীল শাপলা ব্যবহার করা হয়।

গ্রামবাংলার পুকুর ও জলাশয়ে একসময় প্রাকৃতিকভাবে ফুটত নানা রঙের শাপলা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নীল শাপলার সহজলভ্যতা কমে যাওয়ায় এর কদর বেড়ে গেছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ফুলটির চাহিদা বৃদ্ধি পায়। পদ্মফুলের পাশাপাশি চুলেরও চাহিদা রয়েছে।

প্রতিবছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে সুদূর কক্সবাজার থেকে নীল শাপলা নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। হাজারী গলিতে বড় আকারের প্রতিটি নীল শাপলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। আর ছোট আকারের শাপলার দাম ৩০ টাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%