০৬:৫৩ এম
গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে তার ছেলে এবং বর্তমান উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি (৫৬) জনসমক্ষে আর দেখা যায়নি। বর্তমানে ইরানের তেহরানে সাবেক সর্বোচ্চ নেতার ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় দাফনের অনুষ্ঠান চলমান থাকলেও সেখানে নতুন এই শীর্ষ নেতা উপস্থিত হচ্ছেন না।
ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরাইল থেকে ক্রমাগত হত্যাচেষ্টার হুমকি আসার কারণে তীব্র নিরাপত্তার ঝুঁকির মুখে মোজতবা খামেনি এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
অবশেষে, প্রতিবেদনে জানা গেছে, যে হামলায় তার বাবা নিহত হয়েছিলেন, সেই একই হামলায় মোজতবা নিজেও গুরুতর আহত হন। ওই হামলায় তার স্ত্রী, বোন, ভগ্নিপতি এবং ১৪ মাস বয়সী এক ভাগ্নিসহ পরিবারের চার সদস্য মারা যান।
জনসমক্ষে না এলেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে মোজতবা খামেনির একাধিক লিখিত বক্তব্য ও নির্দেশাবলী প্রকাশিত হচ্ছে, যা প্রমাণ করে তিনি আড়াল থেকেও রাষ্ট্রের চাবিকাঠি নিয়ন্ত্রণ করছেন।
১৮ জুনের বার্তায়, তিনি ইরানি জাতির উদ্দেশ্যে জানান, ইরান ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক তিনি অনুমোদন করেছেন। যদিও তিনি উল্লেখ করেছেন, এই চুক্তি নিয়ে তার ব্যক্তিগতভাবে "ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি" রয়েছে, তবুও দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি এটি অনুমোদন করেছেন।
২৮ জুনের বার্তায় তিনি তার বাবাকে হত্যার বিচার এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার বিরুদ্ধে কঠোর জবাবদিহিতার আহ্বান জানান। সেখানে তিনি হুংকার দিয়ে বলেন, "এটি নিশ্চিত যে, অপরাধীদের কলার চেপে ধরা হবে এবং তাদের এই জঘন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য করা হবে।"
আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০
বিশ্লেষকদের ধারণা, নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্তে মোজতবা খামেনিকে কোনো একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং গোপন বাঙ্কারে বা আস্তানায় রাখা হয়েছে, যেখান থেকে তিনি নিয়মিত দেশের সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফাইল তদারকি করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন