০৬:৩৮ পি.এম
অভাবের কারণে একসময় লামিনে ইয়ামাল এমন এক ফ্ল্যাটে থাকতেন, যেখানে রান্নাঘর আর শোবার ঘর একসঙ্গে ছিল।
আজকের ইয়ামাল ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তারকা হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি তিনি স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতার পর, এবার কিনলেন প্রাসাদসম এক একটি বাড়ি। এই বাড়িটি আগে ছিল বার্সা কিংবদন্তি জেরার্দ পিকে ও তাঁর সাবেক প্রেমিকা পপ গায়িকা শাকিরার।
স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক স্পোর্তের খবরে প্রকাশ পায়, কাতালোনিয়ার এসপ্লুগেস দে লোব্রেগাত এলাকায় ইয়ামালের কেনা ওই বাড়িটির দাম ১ কোটি ৫ লাখ ইউরো, যা বাংলাদেশের হিসেবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার সমান।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
পিকে ও শাকিরার সম্পর্ক শুরু হয়েছিল ২০১০ সালে এবং বাড়িটি ২০১২ সালে নির্মিত। তারা ওই বাড়িতে ২০২২ সালে বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত বসবাস করতেন। দুজন আলাদা হওয়ার পর এ বাড়িটি বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল।
স্পেনের আরেক সংবাদমাধ্যম এল পাইসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়ামালের বাড়িটি ৩৮০০ বর্গমিটারের বিশাল জায়গাজুড়ে অবস্থিত। এখানে তিনটি ভবন রয়েছে—একটি প্রধান বাড়ি ও দুটি আলাদা বাড়ি।
এছাড়া, এখানে ইনডোর ও আউটডোর সুইমিংপুল, টেনিস কোর্ট, জিমনেসিয়াম, একাধিক চত্বর, সিনেমা হল এবং একটি রেকর্ডিং স্টুডিও রয়েছে।
প্রথমে এই সম্পত্তির দাম ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো (প্রায় ২০০ কোটি টাকা)। ২০২২ সালে এটি বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর একটি ছোট বাড়ি বিক্রি হয়ে যাওয়ার পরে পুরো দাম থেকে ৩৫ লাখ ইউরো (প্রায় ৫০ কোটি টাকা) কমানো হয়। সুতরাং বর্তমানে এর মূল্য ১ কোটি ৫ লাখ ইউরো (প্রায় ১৫০ কোটি টাকা) দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: আজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ, ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮
এই দুই ভবনে শোবার ঘর ছয়টি ও বাথরুম পাঁচটি রয়েছে। ১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল শুরু থেকেই এই প্রাসাদ কিনতে আগ্রহী ছিলেন। এটি কেনার জন্য তিন মাস ধরে আলোচনা চলছিল। আইনজীবীরা পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছেন। সাবেক মালিক পিকে ও শাকিরা অনুপস্থিত থাকায় দর-কষাকষির পর সমঝোতায় পৌঁছাতে সময় লেগেছে।
এখন মালিকানা পাওয়ার পর ইয়ামাল নিজের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী বাড়িটি সাজাতে চান। এ জন্য কিছু অর্থ সংস্কারকাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছেন বলে এল পাইস জানিয়েছে।
এত দামী একটি বাড়ি কেনার সামর্থ্য অনেক ফুটবলারের নেই। কিন্তু ইয়ামালের ফুটবল প্রতিভা তাকে বিশাল অংকের অর্থ উপার্জনের সুযোগ এনে দিয়েছে।
বার্সেলোনার সঙ্গে ইয়ামালের চুক্তি রয়েছে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত। এই চুক্তিতে তার বার্ষিক বেতন প্রায় ৩ কোটি ইউরো (৪২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা)। যদি তিনি চুক্তির পুরো সময় বার্সেলোনায় কাটান, তবে ১৮ কোটি ইউরো (২৫৬৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা) পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। এছাড়া বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি করে আরও বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জন করবেন।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই, তবু ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা
বিখ্যাত সাময়িকী ফোর্বস জানায়, ইয়ামালের মোট বার্ষিক আয় হতে পারে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো (প্রায় ৫২৭ কোটি টাকা)। এতে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ফুটবলারদের তালিকায় স্থান পাবেন, যেখানে লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহামের মতো খেলোয়াড়রা রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন