০৫:১৭ পি.এম
ক্যারল ফেয়ার মাত্র ছয় মাসের জন্য বিমানসেবিকার চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল, এরপর বিয়ে করে সংসার শুরু করবেন। কিন্তু সেই সাময়িক চাকরিই হয়ে ওঠে তার জীবনের দীর্ঘতম অধ্যায়। তিনি টানা ৬৩ বছর আকাশপথে যাত্রীদের সেবা করেছেন। অবশেষে ৮৩ বছর বয়সে শেষ ফ্লাইটে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের প্রবীণতম বিমানসেবিকা ক্যারল ফেয়ার কর্মজীবনের ইতি টানলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লট ডগলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার অবসরকে স্মরণীয় করে রাখতে আয়োজন করা হয় বিশেষ সংবর্ধনার। সেখানে বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন সহকর্মী, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তার সম্মানে আয়োজন করা হয় বিশেষ ‘ওয়াটার স্যালুট’। সাধারণত নতুন বিমান বা বিশেষ ফ্লাইটকে স্বাগত জানাতে এ ধরনের আয়োজন করা হয়, কিন্তু কোনো বিমানসেবিকার অবসরে এমন সম্মান বিরল।
গত ২৬ অক্টোবর লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার শার্লটগামী আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ৭৩৩ নম্বর ফ্লাইটে ক্যারল শেষবারের মতো দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় তার দীর্ঘ ৬৩ বছরের আকাশযাত্রা।
আরও পড়ুন: বন্যায় পোষ্য কুকুরের জীবন বাঁচিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন দম্পতি
ক্যারল ১৯ বছর বয়সে বিমানসেবিকা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তার প্রথম কর্মস্থল ছিল পিডমন্ট এয়ারলাইন্স। এর আগে আমেরিকান এয়ারলাইন্সে চাকরির আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন তিনি। ‘ফোর্বস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যারল জানান, তখন তাকে বলা হয়েছিল, তিনি নাকি ওই সংস্থার জন্য উপযুক্ত নন।
কর্মজীবনের শুরুতে এই পেশাকে সাময়িক হিসেবেই দেখেছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন, ছয় মাস কাজ করার পর বিয়ে করে সংসার শুরু করবেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে যায় তার পরিকল্পনা। আকাশপথের জীবন, যাত্রীদের সঙ্গে পরিচয় আর কাজের প্রতি ভালোবাসা তাকে আটকে রাখে এই পেশায়।
১৯৮৭ সালের ১৫ জুন পিডমন্ট এয়ারলাইন্সের শার্লট থেকে লন্ডনগামী প্রথম ফ্লাইটেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন ক্যারল। শার্লটের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে গুরুত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে ওই ফ্লাইট ছিল উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা। দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ যাত্রায় আবারও সেই পথের একাংশ পাড়ি দেন তিনি।
কর্মজীবনের শুরুতে ছোট আকারের বিমানে কাজ করতেন ক্যারল। পরে তিনি বড় বোয়িং বিমানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। ডিসি-৩ বিমান থেকে বোয়িং ৭৬৭-তে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার কাছে স্বপ্নপূরণের মতো ছিল। এ নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, নতুন বিমানে কাজের উত্তেজনায় আগের রাতে ঘুমাতেই পারেননি।
আরও পড়ুন: বুধবার ১২ রাশির ভাগ্যে কী আছে, জেনে নিন রাশিফলে
দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতিও পেয়েছেন ক্যারল। ২০০৮ সালে নর্থ ক্যারোলাইনার পরিবহণ খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে তৈরি বিশেষ তালিকায় জায়গা করে নেন তিনি। অবসরের সময় আমেরিকান এয়ারলাইন্সের প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর মধ্যে জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে শীর্ষে ছিলেন এই বিমানসেবিকা।
বিদায় অনুষ্ঠানে ক্যারলকে দেখা যায় মাথায় মুকুট, গলায় সম্মানসূচক ফিতা এবং হাতে বেলুনের তোড়া নিয়ে। তার সম্মানে বিমানবন্দরে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমী ওয়াটার স্যালুট। পানির ফোয়ারার নিচ দিয়ে বিমান চলাচলের মতোই বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাকে জানানো হয় বিদায়।
অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্যারল জানান, এবার থামার সময় হয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রতিটি মুহূর্ত তিনি উপভোগ করেছেন। প্রায় ৩০ হাজার কর্মীর মধ্যে জ্যেষ্ঠতার তালিকায় শীর্ষে পৌঁছানোর পর সামনে আর এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই এমন উপলব্ধি থেকেই অবসরের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
মাত্র ছয় মাসের পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হওয়া যে কর্মজীবন ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলেছে, তার পরিসমাপ্তি ঘটল এক আবেগঘন বিদায়ের মধ্য দিয়ে। ৬৩ বছরের আকাশযাত্রা শেষ হলেও বিমান চলাচলের ইতিহাসে নিজের জন্য স্মরণীয় এক অধ্যায় রেখে গেলেন ক্যারল ফেয়ার।
আরও পড়ুন: জীবনে শান্তি পেতে আজ থেকেই বাদ দিন ১২টি অভ্যাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন