বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:১১ পি.এম
আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের খেলা উপলক্ষে পাবনায় একটি ভূরিভোজের আয়োজনের খরচ জোগানোর লক্ষ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগে জেলা পুলিশ রাতুল ইসলাম (২৩) নামের এক যুবককে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে। অসতর্ক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো এক ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হামলার পরিকল্পনার সময় রাতুলকে আটক করা হয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাত সোয়া ৯টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার দক্ষিণ রামচন্দ্রপুরের চর মণ্ডলপাড়া এলাকার ইছামতি ক্যানেলের শালতলা ব্রিজসংলগ্ন স্থান থেকে রাতুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের হাতে তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় দুটি সচল বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ এসব তথ্য জানায়। গ্রেপ্তার রাতুল পাবনা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মণ্ডলপাড়া এলাকার মো. রাসেল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ বলেছে, রাতুল এবং তার পলাতক সহযোগীরা আর্জেন্টিনা দলের ফুটবল খেলা উপলক্ষে রাতের একটি বড় ভূরিভোজের আয়োজন করার পরিকল্পনা করে। ভূরিভোজের খরচ মেটানোর জন্য তারা অঞ্চলটির ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের কাছে জোরপূর্বক চাঁদা দাবি শুরু করে।
এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে স্থানীয় মুদি দোকানদার জাকির হোসেনের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। জাকির চাঁদা দিতে না চাইলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে দুপুরের দিকে বৌবাজার ব্রিজের ওপর জাকিরের মালিকানাধীন অটোরিকশা আটক করে। তারা জাকিরকে হুমকি দেয় যে, চাঁদা না দিলে অটোরিকশার ব্যাটারি খুলে টাকা আদায় করা হবে। তবে স্থানীয় জনতা জড়ো হলে তারা অটোরিকশাটি রেখে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরও তারা জোর পায়নি। চাঁদা না পাওয়ার কারণে আর্জেন্টিনার খেলার সময়ে জাকির হোসেনের ওপর বড় ধরনের হামলা করার পরিকল্পনা করা হয়। এ উদ্দেশ্যে রাতুলের পলাতক সহযোগীরা একটি কালো ব্যাগে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি জমা রাখে। পরে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে গেলেও রাতুলকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়, সাথে ছিল দুটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি।
এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানিয়েছেন, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জেলা পুলিশের অভিযান পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জেলার সদর উপজেলার দুর্গাপুর-ডুমুরতলা এলাকার পাতিয়ার (পাতেল) বিলে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
পাতিয়ার বিলের মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আজিজুর রহমান মিয়া।
এ সময় মাইজপাড়া ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. ইসহাক মিয়াসহ স্থানীয় মৎস্য চাষি, উপকারভোগী ও বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নড়াইল পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. জহুরুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাছের অভয়াশ্রম পাতিয়ার বিলে রুই, মৃগেল ও পুটি মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১৬০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
প্রধান অতিথি মো. আজিজুর রহমান মিয়া বলেন, পাতিয়ার বিল এ অঞ্চলের মানুষের আমিষের চাহিদা মেটানোর প্রধান উৎস। মাছের পোনা অবমুক্তকরণের এই উদ্যোগের ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় প্রজাতির মাছ রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির জহুরুল ইসলাম জানান, পাতিয়ার বিলের উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনতে দেশীয় প্রজাতির পুটি মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এ বিলে মাছ চাষ আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পাবে যা এলাকার মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লিবিয়ার বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ১৭১ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোর ৬টা ২২ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকায় পৌঁছান।
এই প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করা হয়েছে। লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাঁদের এই স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
জানা যায়, প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। অনেকে লিবিয়াতে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের ডাক বিভাগের কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে। জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। একই দাবি নিয়ে ডাক বিভাগের প্রধান ডাকঘরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিও তারা পালন করেছেন।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজি. বি-২০৩১), বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতি এবং বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেই সঙ্গে দিনাজপুর প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টারের কাছেও একটি আলাদা স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডাক কর্মচারী ইউনিয়নের দিনাজপুর জেলা শাখার সভাপতি এস এম আক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক মো. আবু তালেব, কোষাধ্যক্ষ আনোয়ারুল আলম, সদস্য আবুল কালাম, সুলতানা রাজিয়া, মোকলেছুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মচারী।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলছেন, গত ৬ জুলাই থেকে ডাক বিভাগের কর্মচারীরা ধর্মঘট পালন করছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে সর্বোচ্চ সাড়ে চার হাজার টাকা বেতনে অনেক কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির বাজারে এ বেতন-ভাতায় পরিবার চলানো সম্ভব নয়।
বক্তারা আরও জানাচ্ছেন, দিনাজপুর জেলায় ২১৬টি ডাকঘরে প্রায় ৬০০ কর্মচারী কর্মরত আছেন। তাদের মানবেতর জীবনযাপন বিবেচনা করে দ্রুত দুই দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার দেবীদ্বারে বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী বীন আব্দুস সালাম নান্নুকে (৭৬) রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে। দাফনের অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় গুনাইঘর আলিম মাদরাসা মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর পর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানের সময় উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহাদাতের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে ছিল। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা সালাম গ্রহণ করেন। দাফন অনুষ্ঠানে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল।
মুক্তিযোদ্ধা গাজী বীন আব্দুস সালাম নান্নু বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেছেন। তিনি যুদ্ধের সময় আফসার উদ্দিন রাজাকারের আস্তানা ধ্বংসে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
মৃত্যুকালে গাজী বীন আব্দুস সালাম নান্নুর স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি হালিমা আক্তার, দুই সন্তান—ইঞ্জিনিয়ার গাজী রাসেল বিন সালাম ও ইঞ্জিনিয়ার গাজী আশরাফ বিন সালাম এবং একটি কন্যা উপসচিব ড. উর্মি বিনতে সালামসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহযোদ্ধা এবং গুণগ্রাহী রয়েছেন।
এর আগে বুধবার বাদ আসর ঢাকার মনিরাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার আগে মরহুমের বর্ণাঢ্য জীবন, মুক্তিযুদ্ধে অবদান এবং কর্মময় জীবনের স্মৃতিচারণ করেন সাবেক উপসচিব মো. ফজলুল করিম সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী ইমাম, অধ্যাপক আবু হানিফ, ব্যবসায়ী মো. সফিউদ্দিন সফি, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী আব্দুস সামাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলাম, ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, সাবেক পৌর মেয়র মো. সাইফুল ইসলাম শামীম এবং লন্ডন থেকে অডিও কলে ব্যারিস্টার মো. আবু বকরসহ স্থানীয় বিশিষ্টজন ও মরহুমের পরিবারের সদস্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ