০১:০৮ পি.এম
ঈদের ছুটি শেষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে যাচ্ছে। আর এই কারণে হামের সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, বিদ্যালয়ে অধিক সংখ্যক ছাত্রছাত্রী সমাগমের ফলে হাম ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি গরম আবহাওয়ার কারণে শিশুদের চিকেনপক্স এবং ডায়ারিয়ার কারণে তাদের উদ্বেগও বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, অসুস্থ শিশুদের পুরোপুরিভাবে আইসোলেশনে রেখে বাসায় চিকিৎসা করতে।
দেশে নিয়ন্ত্রিত হাম এবারে লাগামহীনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র তিন মাসের কম সময়ের মধ্যে এই সংক্রামক রোগটি ছয় শতাধিক প্রান কেড়ে নিয়েছে এবং প্রায় ৯০ হাজার মানুষকে আক্রান্ত করেছে।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশু তাদের পরিবারের সদস্যদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। আবার কিছু শিশু হাসপাতাল থেকেই সংক্রমিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: আনোয়ারায় কেইপিজেড ও চায়না ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে গেলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। ঈদের ছুটি শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে তাই চিকিৎসকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা উদ্বিগ্ন যে, এর ফলে হামের সংক্রমণ আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে।
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ এনায়েত হোসেন বলেছেন, ‘অতিরিক্ত গরমের কারণে হামের পাশাপাশি শিশুদের চিকেনপক্স এবং ডায়ারিয়া নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সংক্রমণ পুরোপুরি প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনে শিশুদের আইসোলেশনে রাখতে হবে।’
হামে আক্রান্ত শিশুদের সঠিক আইসোলেশনে রেখে বাসায় চিকিৎসা নেওয়া হলেও, বেশ কিছু শিশু সুস্থ হয়ে উঠছে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত সারা দেশে হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৬১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯১টি শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৫১৯ জন মারা গেছে।
আরও পড়ুন: জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রযুক্তি হস্তান্তর চায় বাংলাদেশ
১৫ মার্চ থেকে ৫ জুন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৭৬ হাজার ৮৭৬ জন। নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৫০৩ জন। এর মধ্যে হাসপাতাল ভর্তি হয়েছে মোট ৬২ হাজার ২৩৭ রোগী, যাদের মধ্যে ৫৮ হাজার ১৫৪ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন