প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁদপুরে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। একটি কক্ষে গাদাগাদি করে বসে একাধিক চিকিৎসক রোগীদের চাপ সামাল দেন। নারীরা, শিশুরা এবং পুরুষ ওয়ার্ডের অবস্থাও একই রকম। চালকের অভাবে দুটি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় অচল হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নেই। অবকাঠামোগত নানা সমস্যার কারণে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য সংকটের সমাধানে আশা দিচ্ছেন।
হাইমচর হল মেঘনাপাড়ের জনপদ। এই উপজেলার বেশিরভাগ নিটে মানুষ দুর্গম চরে বাস করে। বিশেষ করে ঈশানবালা, নীলকমল, মাঝেরচরসহ আশপাশের চরগুলোতে কোনো ক্লিনিক বা হাসপাতাল নেই। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে তাদের মেঘনা নদী পার করতে হয়। কিন্তু মূল ভূখণ্ডের সরকারি হাসপাতালটিরও দুরাবস্থা।
পুরনো জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে চলছে স্বাস্থ্যসেবা। ছোট ছোট কয়েকটি কক্ষে একাধিক চিকিৎসককে বসতে হচ্ছে। নেই একটি এক্স-রে মেশিন, অস্ত্রোপচার বা প্রসূতি ডেলিভারি কক্ষ। টিনের চালায় ফুটো হওয়ার কারণে বৃষ্টির সময় দুর্ভোগ বাড়ে। সাধারণ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক সময় চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার জন্য রোগীর মৃত্যু ও নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসকরাও কষ্টের কথা জানান। ছোট একটি কক্ষে বসে এক দিনে বহির্বিভাগের অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হয় তাদের। এর ফলে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা দেয়া ব্যাহত হয়। তাছাড়া নারী, শিশু ও পুরুষ ওয়ার্ডের অবস্থা আরো শোচনীয়। নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকছে না, পানির ব্যবস্থাও নেই। এতে ভর্তি হওয়া রোগীদের কষ্ট অনেক বেড়ে যায়। এসব সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুন নবী মাসুম।
হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমন বেহাল অবস্থার সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূর আলম দীন। হাসপাতালের এমন দুর্দশা স্বীকার করে তিনি বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে এনেছেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, ‘গুরুতর সমস্যাগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর জন্য জরুরি আর্থিক বরাদ্দও দেয়া হবে। এছাড়া ৫০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে হাইমচরে মানসম্মত একটি সরকারি হাসপাতাল গড়ে উঠবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চার বছর আগে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের পরে ঠিকাদার পালিয়ে যান। তারপর থেকে মূল ভবনসহ আরও কয়েকটি স্থাপনার নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এ কারণে পুরোনো ও জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে অব্যাহত রয়েছে উপজেলার চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন