১২:০৯ পি.এম
অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ আদালত জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি যথাযথভাবে বিবেচনা না করার কারণে নিউ সাউথ ওয়েলসের মাউন্ট প্লেজ্যান্ট কয়লাখনি সম্প্রসারণের অনুমোদন বাতিলের সিদ্ধান্তকে বহাল রেখেছেন। বুধবার ৩-২ সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, প্রকল্প থেকে নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত আরোপের বিষয়টি পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষকে বিবেচনা করতে হবে।
এটি অস্ট্রেলিয়ার হাইকোর্টে পৌঁছানো প্রথম জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত মামলা। পরিবেশবাদী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সংগঠনগুলো বলছে, এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প অনুমোদনের সময় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। তবে আদালতের রায়টি সব ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পের জন্য একই ধরনের বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ করেনি।
মাউন্ট প্লেজ্যান্ট কয়লাখনিটি নিউ সাউথ ওয়েলসের হান্টার ভ্যালির মাসওয়েলব্রুকের কাছে অবস্থিত। খনিটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক এনার্জি (MACH Energy) খনিটির কার্যক্রম ২০৪৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর পাশাপাশি বার্ষিক কয়লা উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করার অনুমোদন চেয়েছিল। ২০২২ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্ল্যানিং কমিশন প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়।
আরও পড়ুন: রাশিদা তালিবের মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্যের নিন্দা, নেতিবাচক প্রভাবের সতর্কতা
এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেন অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞান শিক্ষক ওয়েন্ডি ওয়েলস এবং টনি লোনারগান। তারা স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ডেনম্যান অ্যাবারডিন মাসওয়েলব্রুক স্কোন হেলদি এনভায়রনমেন্ট গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল, কয়লা উত্তোলন ও পরে তা পোড়ানোর ফলে যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হবে, তার জলবায়ুগত প্রভাব প্রকল্প অনুমোদনের সময় বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মামলার মূল প্রশ্ন ছিল, কয়লা উত্তোলনের পর বিদেশে পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট ‘স্কোপ-৩’ নির্গমনও প্রকল্পটির পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত কি না। আদালতের নথি অনুযায়ী, প্রকল্পটির মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রায় ৯৮ শতাংশই এই ধরনের নির্গমনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
হাইকোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মনে করেন, এসব নির্গমন কমানোর জন্য কী ধরনের শর্ত আরোপ করা যেতে পারে, তা নিউ সাউথ ওয়েলসের পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি। ফলে খনি সম্প্রসারণের অনুমোদন আইনসম্মত হয়নি।
মামলার আবেদনকারী ওয়েন্ডি ওয়েলস বলেন, "কয়লা উত্তোলন করে বিদেশে পাঠানোর পর তা পোড়ানোর ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি হবে, অথচ সেই ক্ষতির সঙ্গে স্থানীয় জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই, এমনটি ধরে নেওয়া যায় না।" টনি লোনারগান বলেন, "এই রায় কয়লা উত্তোলন রাতারাতি বন্ধ করে দিচ্ছে না, তবে জলবায়ু ক্ষতি উপেক্ষা করে খনি অনুমোদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ আইনি পরিবর্তন এনেছে।"
আরও পড়ুন: জাপানে টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ম্যাক এনার্জি আদালতের সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছে এবং মাউন্ট প্লেজ্যান্ট খনির দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম চালু রাখার জন্য তাদের হাতে থাকা বিকল্পগুলো নিয়ে কাজ করবে।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম বড় কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ। তাই মাউন্ট প্লেজ্যান্ট মামলার রায় ভবিষ্যতে দেশটির জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় জলবায়ু প্রভাব কীভাবে বিবেচনা করা হবে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোন প্রকল্পে রায়ের প্রভাব কতটা পড়বে, তা সংশ্লিষ্ট আইন ও প্রতিটি প্রকল্পের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তথ্যসূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন