ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
সিআইএ’র প্রতিবেদন

ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার আশঙ্কা


ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ ও রাষ্ট্র ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সতর্ক করে দিয়েছে যে, ইসরাইলের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন গভীর হতে থাকায় দেশটি গৃহযুদ্ধ বা রাষ্ট্রের কাঠামো ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সিআইএ-র বিশেষ শাখা ‘রেড সেল’ দ্বারা প্রস্তুত করা ‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইথিন’ (ভেতর থেকে ফাটল) শীর্ষক একটি গোপন মূল্যায়নে এই বিষয়টি উঠে এসেছে, যা সোমবার (০৪ অক্টোবর) প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে ইসরাইলের পরিস্থিতি বেশ কিছু জটিল সংকটের সম্মুখীন হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে চরম অস্থির করে তুলেছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক মন্দা, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরাইলিদের সহিংসতা এবং অতি-অর্থোডক্স ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণে সাধারণ জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: মোদির আত্মবিশ্বাসী ভাবমূর্তিতে চিড় ধরাচ্ছে তরুণদের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার রাজনৈতিক লড়াই ইসরাইলের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

ইসরাইলি সমাজের মধ্যে পুরোনো বিভাজনগুলো টানা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আরও গভীর হয়েছে। গাজা, লেবানন ও ইরানে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকারী বিপুলসংখ্যক সেনা ও রিজার্ভিস্ট মানসিক ট্রমা নিয়ে দেশে ফিরছেন।

অতি-অর্থোডক্স পুরুষদের সেনাবাহিনীতে যোগদান থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

সিআইএ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান একাকীত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রে তাদের জনসমর্থনের হ্রাসকে একটি বড় অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান ৭৩ বছর পর আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক বোর্ডের চেয়ারপারসন নির্বাচিত

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাইরের চাপ ও ভেতরের অস্থিতিশীলতা একত্রে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বকে অভূতপূর্ব সংকটের মুখে ফেলে দিচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১১ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের সভা শুরু

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় এই সভার কার্যক্রম শুরু হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতের বেশ কিছু মেগা এবং মাঝারি প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সভায় উপস্থিত রয়েছেন অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবগণ। সভার পর একনেকের গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ এবং অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আগুন-বিস্ফোরণে ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় বৃহত্তম শোধনাগার বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১১ পি.এম


আগুন-বিস্ফোরণে ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় বৃহত্তম শোধনাগার বন্ধ

ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগার কার্দোনে আগুন ও বিস্ফোরণের কারণে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার, ফ্যালকন রাজ্যের পুন্তো ফিখো এলাকায় অবস্থিত শোধনাগারটিতে এই ঘটনা ঘটে। একটি গ্যাসলাইনে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্যাসলাইনে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর শোধনাগারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগে সেখানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। নিরাপত্তার কারণে শোধনাগারের কর্মীদেরও সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

কার্দোন শোধনাগারের দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। এটি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ (PDVSA) দ্বারা পরিচালিত পারাগুয়ানা রিফাইনিং সেন্টারের একটি অংশ। ওই কমপ্লেক্সে কার্দোন ছাড়াও আমুয়াই শোধনাগার অবস্থিত।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ডিজেল উৎপাদনকারী একটি ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত গ্যাসলাইনে ত্রুটির পর আগুনের সূত্রপাত ঘটে। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো শোধনাগার এবং এর বয়লারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

একটি সূত্র জানিয়েছে, এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এ ঘটনায় কোনো শ্রমিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ তাৎক্ষণিকভাবে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের জবাব দেয়নি।

কার্দোন শোধনাগারটি ভেনেজুয়েলার জ্বালানি পরিশোধন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এর দৈনিক পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল হওয়ায় দীর্ঘ সময় কার্যক্রম বন্ধ থাকলে দেশটির জ্বালানি উৎপাদন ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে।

ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতি, যন্ত্রপাতির সমস্যা ও কাঁচামালের সংকটসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি। এর আগে কার্দোন শোধনাগারের কয়েকটি ইউনিটও বিভিন্ন সময়ে কারিগরি সমস্যা ও অপর্যাপ্ত কাঁচামালের কারণে বন্ধ ছিল।

ঘটনার পর শোধনাগারটি পুনরায় চালুর প্রস্তুতি ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তবে আগুনে শোধনাগারের অবকাঠামোর কতটা ক্ষতি হয়েছে এবং স্বাভাবিক উৎপাদন কবে নাগাদ ফিরবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার বাংলাদেশে, শিক্ষাঙ্গনে মব-সহিংসতা তদন্তে আসছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১২ পি.এম


জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার বাংলাদেশে, শিক্ষাঙ্গনে মব-সহিংসতা তদন্তে আসছেন

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর মব-হামলা, জোরপূর্বক পদত্যাগ এবং হয়রানির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জাতিসংঘের শিক্ষা অধিকারবিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফরিদা শাহীন বাংলাদেশে আসছেন। তিনি আগামী ২৩ নভেম্বর ঢাকায় এসে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করবেন। এই সময়ে তিনি মবের শিকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং নিহত শিক্ষকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক সংগঠনের দাবি, এ সময়ের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক মবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের মধ্যে অনেকেই এখনো কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি।

মবের শিকার শিক্ষকদের সংগঠন ‘পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোট’ এ তথ্য জানায়। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, বেপরোয়া মবকারীদের হাতে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত আটজন শারীরিক ও মানসিক আঘাতের পর মারা গেছেন। পাঁচ শতাধিক আহত বা অসুস্থ হয়েছেন। ৯৪০ জন শিক্ষক এখনো বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। মবের শিকারদের বেশিরভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক।

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক নেতাদের বরাত দিয়ে জাতীয় দৈনিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বিষয়ে সরকারি কয়েকটি নির্দেশনা জারি করা হলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান তা বাস্তবায়ন করেনি। ফলে দুই বছর ধরে অনেক শিক্ষক কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। কারো শিক্ষক ইনডেক্স (এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শনাক্তকরণ নম্বর) বাতিল করা হয়েছে। কারো বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আদালত ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বারবার আবেদন করেও অনেকে প্রতিকার পাননি।

পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোটের সভাপতি ও ঢাকা সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. বেদার উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও স্মারকলিপি দিয়ে আসছি। সরকারি নির্দেশনা থাকার পরও অনেক শিক্ষক কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। জাতিসংঘের দল ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের বক্তব্য শুনলে প্রকৃত চিত্র উঠে আসবে।’

জোটসূত্র জানায়, মবের শিকার শিক্ষকরা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ তাদের অভিযোগ জাতিসংঘের শিক্ষা অধিকার কমিশনে পাঠিয়েছেন। এই সব অভিযোগ পাঠানোর জন্য জাতিসংঘ থেকে একটি ফরমও তৈরি করে পাঠানো হয়। তাতে ২০০০ শব্দের মধ্যে অভিযোগ ও তথ্য-উপাত্ত পাঠাতে বলা হয়। এতে হেনস্তার বর্ণনা, বর্তমান অবস্থা, অভিযোগ বা মামলার তথ্য, প্রত্যাশার সঙ্গে ঘটনার ছবি, ভিডিও, অডিও, আইন অমান্যের প্রমাণসহ অন্যান্য সহায়ক তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। তবে কতজন শিক্ষক এ পর্যন্ত জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ পাঠিয়েছেন তার সংখ্যা জানা যায়নি।

একই সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৎকালীন সরকারি দলের ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী মবের শিকার হয়েছে। সংগঠনের পদধারী শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারেনি। অনেকে পরীক্ষা দিতে গিয়েও মবের শিকার হয়েছে।

জোটের সাধারণ সম্পাদক ও ধামরাইয়ের সূয়াপুর নান্নার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, জোর করে পদত্যাগ, শারীরিক লাঞ্ছনা, বেতন বন্ধ করে দেওয়া এবং কর্মস্থলে যেতে বাধা দেওয়ার কারণে শুধু শিক্ষক নয়; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নির্দেশনা আছে, তবু ফিরতে পারেননি অনেকে। শিক্ষকদের জোরপূর্বক পদত্যাগের ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট তৎকালীন শিক্ষা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরের মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জোরপূর্বক পদত্যাগ গ্রহণযোগ্য নয় জানিয়ে নির্দেশনা জারি করে।

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের সমস্যার সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তাদের বেতন-ভাতা চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। একই বছরের ৭ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপনে চাকরি পুনর্বহাল এবং ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা চালুর কথা বলা হয়। ৭ অক্টোবর সরকারি আদেশ অমান্যকারী ভারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সর্বশেষ চলতি বছরের ১ জানুয়ারির পরিপত্রে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদানে বাধা দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, অনেক প্রতিষ্ঠান এসব নির্দেশনা মানেনি। তাদের দাবি, ভারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কেউ কেউ এখনো বেতন-ভাতা চালু করেননি। ইএফটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যও হালনাগাদ করা হচ্ছে না। ফলে অন্তত ৯৪০ জন শিক্ষক বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত আছেন। এ ছাড়া প্রায় সাড়ে চার হাজার প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি।

হামলার পর অচেতন হয়ে হাসপাতালে

মবের শিকার শিক্ষকদের একজন রাজধানীর আরমানিটোলার আনন্দময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমা বেগম। তার ভাষ্য, ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান ও তার সহযোগীরা তাকে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করেন। একই দিন কমিটি ছাড়াই মোখলেছুর রহমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেন।

নাজমা বেগমের অভিযোগ, এরপর তার স্কুল ও সরকারি বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়। তদন্তের কাজে বিদ্যালয়ে গেলে তার ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত দেড়টার দিকে পুলিশ তাকে বাসা থেকে ধরে থানায় নিয়ে যায় এবং আদালতে পাঠায়।

নাজমা বেগম বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এরপর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর তার সরকারি বেতন ছাড় করে।

তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইএফটির মাধ্যমে স্কুল ও সরকারি বেতন পাচ্ছি। কিন্তু বদলির জন্য প্রয়োজনীয় এনওসি ও পাসওয়ার্ড নিয়ে সমস্যা যায়নি। আমার তিন সন্তানের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে। আমি বিধবা। মানবেতর জীবনযাপন করছি।

চার ঘণ্টা আটকে রেখে পদত্যাগে সই

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায় এবং সহকারী অধ্যাপক ড. ফারহানা খানমও ২০২৪ সালের আগস্টে জোর করে পদত্যাগে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ করেন।

ফারহানা খানম বলেন, ‘আমাকে চার ঘণ্টা আটকে রেখে পদত্যাগপত্রে সই নেওয়া হয়েছে। সাদা কাগজেও বাংলা ও ইংরেজিতে সই নেওয়া হয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায়কেও জোর করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। তিনি সাধারণ শিক্ষক হিসেবে থাকতে চেয়েছিলেন। সেই সুযোগও দেওয়া হয়নি।’

পদবঞ্চিত শিক্ষক জোটের নেতাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও বহিরাগতদের একটি অংশ শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের ওপর চড়াও হয়। তারা বলেন, কোথাও পদ দখল, কোথাও ব্যক্তিগত বিরোধ এবং কোথাও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উদ্দেশ্যে এসব ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

মবের মাধ্যমে পদত্যাগ করানোর পর কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগ, শিক্ষককে বাধ্যতামূলক ছুটি বা অবসর দেওয়া কিংবা বরখাস্ত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে তাদের অভিযোগ। এর ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে অস্থিরতা এবং পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আদালতে গিয়েও অনিশ্চয়তা

রাজধানীর সোলমাইদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগম বলেন, জোরপূর্বক পদত্যাগ করা শিক্ষকদের অধিকার ও পুনর্বহাল নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে। তিনিও ২০২৪ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করা শিক্ষকদের পক্ষে হাইকোর্টের একটি রায় হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কুমিল্লা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ নার্গিস আক্তার বলেন, প্রশাসনিক নির্দেশনা ও আদালতের আদেশের পরও কোনো প্রতিষ্ঠান তা বাস্তবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। তা না হলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকরা বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবেন।

শিক্ষার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ

রাজধানীর বিসিএসআইআর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ড. মো. ইদ্রিস আলী বলেন, শিক্ষককে অপমান, শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা বা মবের চাপে পদত্যাগে বাধ্য করা শুধু তার ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘন নয়; এর প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপরেও পড়ে। প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষকদের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ভেঙে পড়লে শৃঙ্খলা ও পাঠদানের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক নেতাদের মতে, জাতিসংঘের তদন্তে জোরপূর্বক পদত্যাগ ও মব-সহিংসতার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসন, শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের বিষয়টিও স্থান পাওয়া উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউমোনিক প্লেগ: কি, কতটা ভয়ংকর এই রোগ?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১৩ পি.এম


নিউমোনিক প্লেগ: কি, কতটা ভয়ংকর এই রোগ?

রাশিয়ার একটি প্লেগ গবেষণাগারে কর্মরত ২৮ বছর বয়সী এক গবেষকের অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়ায় মৃত্যুর পর নিউমোনিক প্লেগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্লেগের ধরনটিকে রোগটির সবচেয়ে ভয়ংকর ও প্রাণঘাতী রূপ হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানাচ্ছে, বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য এ রোগের ঝুঁকি কম বলে মনে হচ্ছে।

নিউমোনিক প্লেগের কারণ হচ্ছে ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। এটি ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটিয়ে দ্রুত গুরুতর নিউমোনিয়া তৈরি করতে সক্ষম। প্লেগের সবচেয়ে পরিচিত ধরন বুবোনিক প্লেগ, যা সাধারণত আক্রান্ত মাছির কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। অন্যদিকে, সেপ্টিসেমিক প্লেগে ব্যাকটেরিয়া রক্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

যেভাবে ছড়ায়

নিউমোনিক প্লেগের বিশেষ ঝুঁকি হলো এটি আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে সরাসরি অন্য মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি যখন কাশি বা হাঁচি দেয়, তখন বের হওয়া শ্বাসতন্ত্রের কণাগুলি অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। আক্রান্ত প্রাণীর নিঃসরণ থেকেও এ রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ থেকে মানুষে নিউমোনিক প্লেগ ছড়ানোর সর্বশেষ নথিভুক্ত ঘটনা ঘটে ১৯২৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে।

দ্রুত দেখা দিতে পারে উপসর্গ

নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, বমি, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট। ফুসফুসে সংক্রমণ গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছালে রোগীর শ্বাস নেওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা না করা হলে নিউমোনিক প্লেগ প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

দ্রুত চিকিৎসাই গুরুত্বপূর্ণ

তবে যদি সময়মতো শনাক্ত করা যায়, তাহলে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে নিউমোনিক প্লেগের চিকিৎসা করা সম্ভব। চিকিৎসায় সিপ্রোফ্লক্সাসিন, লেভোফ্লক্সাসিন, মক্সিফ্লক্সাসিন, জেন্টামাইসিন ও স্ট্রেপ্টোমাইসিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা গেলে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। প্রয়োজনে অক্সিজেন, তরল ও অন্যান্য সহায়ক চিকিৎসাও প্রদান করা হয়।

সাধারণ মানুষের ঝুঁকি কতটা?

রাশিয়ার গবেষণাগারে এক গবেষকের মৃত্যুর ঘটনায় কয়েকজনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কম।

তবে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকা মানুষের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগীর সরাসরি সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, শরীরের তরল থেকে দূরে থাকা এবং নিয়মিত সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সংক্রমণের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণে রাখতে পারে। প্রয়োজন হলে তাদের অসুস্থ হওয়ার আগেই প্রতিরোধমূলক অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতে পারে।

চতুর্দশ শতকের ‘ব্ল্যাক ডেথ’ মহামারিতে ইউরোপে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আধুনিক অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে বর্তমানে প্লেগ অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণযোগ্য হলেও রোগটির ব্যাকটেরিয়া এখনো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%