ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

রিশাল বাফার গুদাম অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড়: ইনচার্জের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বদলির আবেদন


রিশাল বাফার গুদাম অনিয়মের অভিযোগে তোলপাড়: ইনচার্জের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বদলির আবেদন

 

সরকারি সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, পরিবহন ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত, আর্থিক অসঙ্গতি এবং বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বাফার গুদামের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মোঃ শাহে আলম গাজীর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)-এর চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

একই সঙ্গে তদন্তে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা এড়াতে তাঁকে দ্রুত বরিশাল বাফার গুদাম থেকে অন্যত্র বদলির দাবি জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এন্ড প্রেস সোসাইটির বরিশাল বিভাগের পক্ষ থেকে করা ওই আবেদনে বরিশাল বাফার গুদামের সার গ্রহণ, সংরক্ষণ, উত্তোলন, পরিবহন, খালাস ও বিতরণ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)-এর অধীন চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)-এর নিয়ন্ত্রণাধীন বরিশাল বাফার গুদামের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আলোচিত হয়ে আসছে।

বিশেষ করে গুদামটির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মোঃ শাহে আলম গাজী দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করার সুযোগে বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।


আবেদনে গুদামে সার গ্রহণ, সংরক্ষণ, উত্তোলন, পরিবহন এবং সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে চট্টগ্রামের সিইউএফএল থেকে ট্রাকযোগে বরিশাল বাফার গুদামে সার পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি কার্যক্রমে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং সেখানে কোনো ধরনের স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় আনার অনুরোধ করা হয়েছে।

লিখিত আবেদনে আরও বলা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে জাহাজ থেকে সরাসরি গুদামে সার খালাস না করে এক জাহাজ থেকে অন্য কার্গো অথবা অন্য কোনো স্থানে পণ্য স্থানান্তরের মাধ্যমে সরকারি সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জাহাজের কাগজপত্র, চালান, ওজন রেকর্ড, গুদামের রিসিভ রেকর্ড, পরিবহন নথি এবং ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য পরীক্ষা করার দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনকারীদের মতে, সরকারি সার ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাতে সামান্য অনিয়মের অভিযোগও জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এসব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।


আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগে কোনো ব্যক্তি, ব্যবসায়ী কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনৈতিক যোগসাজশ, বিশেষ সুবিধা প্রদান অথবা আর্থিক স্বার্থের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।

এ জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি নথিপত্র, পরিবহন চুক্তি, বিল-ভাউচার এবং আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: শিবচরে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন, সফল আত্মকর্মী ও যুব সংগঠকদের সম্মাননা প্রদান


মোঃ শাহে আলম গাজীর নামে অথবা তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো অস্বাভাবিক সম্পদ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনে তাঁর বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে বাড়ি, গাড়ি, জমি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য যাচাই করে তা তাঁর বৈধ আয় ও চাকরিজীবনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রয়োজনে আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী এবং অন্যান্য আর্থিক নথিপত্র যাচাইয়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় তিনি নিজে অথবা তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঠিকাদারি কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন কি না, তা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

এ ধরনের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তা প্রচলিত সরকারি চাকরির বিধি এবং বিসিআইসির সংশ্লিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

আবেদনে গুদামের সার গ্রহণ ও বিতরণ সংক্রান্ত হিসাব, স্টক রেজিস্টার, চালান, গেট পাস, ট্রাক প্রবেশ ও বহির্গমন রেজিস্টার, জাহাজের কাগজপত্র, ওজন স্লিপ, ব্যাংক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি নথিপত্র যাচাইয়ের দাবি করা হয়েছে।

আবেদনকারীদের ভাষ্য, অভিযোগগুলোর কোনোটি সত্য প্রমাণিত হলে তা সরকারি সম্পদ, রাষ্ট্রীয় অর্থ এবং দেশের জনগণের স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।

তাই বিষয়টি শুধু বিভাগীয় বা অভ্যন্তরীণ তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি প্রতিরোধকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমেও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

লিখিত আবেদনে প্রধানত ছয়টি দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো—
নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মোঃ শাহে আলম গাজীকে দ্রুত বরিশাল বাফার গুদাম থেকে অন্যত্র বদলি করা।
তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা।
তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ের সার গ্রহণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিতরণ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা।
জাহাজভিত্তিক পণ্য খালাস, পরিবহন, ঠিকাদারি কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন যাচাই করা।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন, সরকারি চাকরির বিধি এবং বিসিআইসির বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সরকারি অর্থ বা সম্পদের কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে তা নির্ধারণ করে আইনানুগভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করা।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে নানা অভিযোগ

লিখিত আবেদনে জাতীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল তালাশ বিডিতে প্রকাশিত একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১০ আগস্ট ও ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্যকেও অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে সহায়ক উপাদান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনটির অনুলিপি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিসিআইসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধান (বিপণন)-এর কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে মোঃ শাহে আলম গাজীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত উত্থাপিত বিষয়গুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে যথাযথভাবে সংযোজন করা হবে।

আরও পড়ুন: স্কুলের দুধ চুরির অভিযোগ, উদ্ধার দুই কার্টন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সন্দ্বীপে নি/হত আফরিন কাণ্ডে নতুন মোড়: সাখওয়াতের পুরো পরিবার পলাতক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমিনুল ইসলাম রিয়াদ সন্দ্বীপ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২২ পি.এম


সন্দ্বীপে নি/হত আফরিন কাণ্ডে নতুন মোড়: সাখওয়াতের পুরো পরিবার পলাতক

সন্দ্বীপের সারিকাইতে সম্প্রতি আফরিনের মৃত্যুর ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে, যখন সাখওয়াতের পরিবার ঘরের সামনে ও পেছনে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে।

গতকাল সন্দ্বীপের এমপি মোস্তফা কামাল পাশা আফরিনের ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা বলেন এবং পরিবারের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। তিনি ঘটনার বিবরণও জানতে পারেন। আজ এমপি মহোদয়ের নির্দেশে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন আফরিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এই সাক্ষাতের পর, বিকেলে সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফরিনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার জন্য নিজে কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ সেখানে যান। পরিবারের বক্তব্য গ্রহণ করার পর, তিনি সরাসরি আফরিন যে বাসায় কাজ করতেন, সেখানে চলে যান।

কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর ওসি এবং পুলিশ দল দেখতে পান, ঘরে কেউ নেই। ঘরের সামনে ও পেছনে তালা দেয়া হয়েছে। ইউএনওর সাক্ষাতের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পরেই ওই বাড়ির পরিবারের সবাই পালিয়ে গেছে।

আফরিন যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেখানকার পরিবারের সবাই এখন পলাতক। আজ ইউএনও আফরিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর, সন্দ্বীপ থানার ওসি সেখানে যান, সাথে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে। আফরিনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর, তিনি যে বাড়িতে কাজ করতেন, সেখানে গিয়ে দেখেন, ঘরে কেউ নেই। সবাই পলাতক। ঘরের সামনে ও পেছনে তালা ঝুলছে।

সাখওয়াতের পরিবারের এভাবে পালিয়ে যাওয়া এলাকাবাসীর মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে।

তাদের যদি নির্দোষ হয়, তাহলে পুলিশের মুখোমুখি না হয়ে এভাবে পালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কেন হলো?

নাকি তারাই হ'''ত্যা করেছে আফরিনকে?

এ নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় শেষ হলো স্পেস এক্সপ্লোরেশন অলিম্পিয়াড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৩ পি.এম


ঢাকায় শেষ হলো স্পেস এক্সপ্লোরেশন অলিম্পিয়াড

ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : মহাকাশকে জানার আগ্রহ আর ভবিষ্যতে মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশু-কিশোরদের মিলনমেলায় পরিণত হয় ঢাকার এআইইউবি ক্যাম্পাস। 

গ্রহ-নক্ষত্র থেকে শুরু করে রকেট, স্যাটেলাইট, মহাকাশ অভিযান ও আধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের জ্ঞান ও মেধার পরীক্ষা দিতে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় তৃতীয় ‘স্পেস এক্সপ্লোরেশন অলিম্পিয়াড’-এর চূড়ান্ত পর্বে।

গতকাল আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাছাই হয়ে আসা ২০২ জন শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগীদের বয়স ছিল ৬ থেকে ১৬ বছর। বয়স ও শেখার স্তর বিবেচনায় তাদের চারটি পৃথক ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া হয়।

আয়োজকরা জানান, এবারের অলিম্পিয়াডকে শুধু সাধারণ কুইজ প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। শিক্ষার্থীদের বয়স ও সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন বিষয়কে প্রতিযোগিতার পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ছোটদের জন্য ছিল মহাকাশবিজ্ঞান, সৌরজগৎ, গ্রহ-নক্ষত্র, রকেট ও স্যাটেলাইটের মতো মৌলিক বিষয়। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত বড় শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয় মহাকাশ রোবোটিকস, মঙ্গল গ্রহের রোভার, স্পেস স্টেশন, মহাকাশ অভিযান এবং ভবিষ্যৎ মহাকাশ প্রযুক্তির মতো তুলনামূলকভাবে উন্নত বিষয়।

চূড়ান্ত পর্বের আগে অনলাইনে কয়েকটি ধাপে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে থাকা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরাও অনলাইন পর্বে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। অনলাইন বাছাইয়ের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরাই ঢাকার চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি)-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক। মহাকাশ বিজ্ঞানের মতো বিষয়কে আনন্দের সঙ্গে, হাতে-কলমে শেখার সুযোগ করে দিতে পারলে শিশুদের শেখা হয় আরো গভীর ও কার্যকর।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) এর ফিজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন।

স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের সভাপতি আরিফুল হাসান বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের মধ্যেই ভবিষ্যতের বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে বিকশিত করার জন্য ছোট বয়স থেকেই বিজ্ঞান ও মহাকাশ বিষয়ে আগ্রহ তৈরি করা জরুরি। দিনব্যাপী চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা শেষে চারটি বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতে মোট ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকৃবির চার হলে সংঘর্ষ: তদন্ত শেষে শাস্তির পথে প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকৃবি প্রতিনিধি

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৪ পি.এম


বাকৃবির চার হলে সংঘর্ষ: তদন্ত শেষে শাস্তির পথে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনটি উপাচার্যের কাছে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব ড. মো. মনজুর হোসেন। এদিকে, সংঘর্ষে জড়িত সন্দেহভাজন ৪২ শিক্ষার্থীর কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশের (শোকজ) জবাবও প্রশাসন পর্যালোচনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন ও শোকজের জবাব যাচাই-বাছাই করার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. মনজুর হোসেন বলেন, "আমরা গত ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। মূলত কী ঘটনা ঘটেছিল, কোন প্রেক্ষাপটে ঘটেছিল এবং কারা এতে জড়িত ছিল, তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করে আমরা যা পেয়েছি, তা প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক যে সুপারিশ রয়েছে, সেটিই প্রতিবেদনে দেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী যা ব্যবস্থা হওয়ার, তা উপাচার্যের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।"

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম জানান, সংঘর্ষে জড়িত শিক্ষার্থীদের শোকজের জবাব প্রশাসনের কাছে এসেছে এবং সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীরা শোকজের জবাব আমাদের দিয়েছে। আমরা সেগুলো বিশ্লেষণ করছি। এরপর দ্রুতই একটা অ্যাকশনে যাব। আমাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ এবং একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনের যে অভিযোগ ছিল, সেই বিবৃতির ওপর ভিত্তি করেই শোকজ করা হয়েছিল। এখন শোকজের জবাবের সঙ্গে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট মিলিয়ে দেখা হবে। আমাদের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে কতটুকু মিল আছে, সেটিও যাচাই করতে হবে। তদন্তে যা আসবে, সেই অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেছেন, হলের সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা পড়েছে এবং দোষীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, তাদের অভিভাবকদেরও বিষয়টি জানানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। হলের ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের ক্ষেত্রে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ন্যায্য শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

শাস্তির ধরন সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, "এর মধ্যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ থেকে শুরু করে একাডেমিক ও হলে থাকার ব্যাপারে বিদ্যমান নিয়ম বা ক্লজ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ও ২৪ জুলাই ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে বাকৃবির আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩ শিক্ষার্থী আহত হন। এর এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১ আগস্ট রাতে মেসেঞ্জার গ্রুপে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল ও মাওলানা ভাসানী হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। পরদিন ২ আগস্ট রাতে চার হলের শিক্ষার্থীরা পৃথক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে ৯ আগস্ট চার হলের সংঘর্ষ, হামলা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪২ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। প্রশাসন জানিয়েছিল, তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

--

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে ‘গ্রাম আদালত তথ্য ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৪ পি.এম


বরিশালে ‘গ্রাম আদালত তথ্য ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

বরিশাল, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : জেলায় ‘গ্রাম আদালত তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

আজ রোববার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।

প্রধান অতিথি বলেন, গ্রাম আদালত শক্তিশালী করতে এর তথ্য ব্যবস্থাপনা সহজ ও ডিজিটালকরণে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিকে ডিজিটালাইজড করতে পারলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ আরও সহজ হবে। ডিজিটাল সিস্টেমের কল্যাণে সাধারণ মানুষ এখন ভোগান্তি ছাড়াই ঘরে বসে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা অত্যন্ত দ্রুত, স্বচ্ছ এবং সাশ্রয়ী উপায়ে নিতে পারছেন। এ সিস্টেমে মামলা এন্ট্রি হওয়ার পর সব ডেটা কেন্দ্রীয় সার্ভারে সুরক্ষিত থাকায় মামলার তথ্য কারচুপির কোন সুযোগ থাকে না। তাই সরকার প্রান্তিক অঞ্চলের সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তি সহজীকরণের উদ্দেশ্যে আদালত সংশ্লিষ্টদের জন্য আবাসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে।

তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারাই গ্রাম আদালত কার্যক্রমের প্রাথমিক বিচারক। কারণ আপনারা যেভাবে মামলার নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করবেন, তার ওপর পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম অনেকাংশে নির্ভর করবে। গ্রাম আদালতে চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা থাকেন। 

তাই মামলার নথি প্রস্তুত ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না করে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আইনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিধান অনুযায়ী, সাধারণভাবে ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আবেদনের মাধ্যমে নির্ধারিত সময় আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে গিয়ে যদি দেখা যায় কোনো মামলা ছয়-সাত মাস কিংবা দুই বছর ধরে চলমান রয়েছে তাহলে তা আইনের উদ্দেশ্য ও বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসময় তিনি গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, বরিশাল স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক উপমা ফারিসা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা সুলতান। 

এসময় প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী ৩৫টি ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%