০৭:০৮ পি.এম
বোরো ধান ঘরে তোলার পর পরই শুরু হয় আউশ আবাদের মৌসুম। বিগত সময়ে আউশের ফলন কম হওয়ায় কৃষকেরা এ আবাদের প্রতি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন। ফলস্বরূপ, সরকার আউশ চাষকে উৎসাহিত করতে সার ও বীজ দিয়ে প্রণোদনা প্রদান করে।
তবে সম্প্রতি দেখা দিয়েছে যে, ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় আউশের আবাদে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ বিভাগে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৯৮৮ হেক্টর জমি। মঙ্গলবার (১৬ জুন) পর্যন্ত শেয়ারিংয়ের অধীনে আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ৬০৮ হেক্টর জমি।
আরও পড়ুন: জিয়ানগরে ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল জলিল শেখের সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগ ও পথসভা
যদিও এখনো আউশের চারা রোপণ চলছে, তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে যথেষ্ট সংশয় বিদ্যমান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আউশ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকার এই প্রণোদনা দেয়। একটি এক বিঘা জমি চাষ পার্টনারশিপের জন্য প্রত্যেক কৃষককে এই প্রণোদনা দেওয়া হয়। বিভাগের চার জেলায় মোট ২৯ হাজার ৬০০ জন কৃষক এই প্রণোদনার আওতায় রয়েছেন।
সারা দেশে আউশে মোট সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
কৃষকরা জানান, আউশের ফলন কম হয় বিধায় তাঁদের আগ্রহও কম। আউশের চারা পরিণত হতে অনেক সময় লেগে যায়। এদিকে, আউশ ধান কাটার সময় দেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এতে, যদি পরিণত ধান কাটাতে দেরি হয় তবে ধানে চারা গজিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আরও পড়ুন: চলতি বছরে ৯ মাসে ‘মব’ সহিংসতায় নিহত ১৮৭ জন
এইসব কারণে ময়মনসিংহ অঞ্চলে আউশের আবাদ কমে যায়।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কড়মরিয়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ শেখ সাদী কালের কণ্ঠকে বলেছেন, তিনি সরকারি প্রণোদনায় এর আগে দুইবার আউশ চাষ করেছেন। তবে এবারে করেননি। কারণ বোরো ধানে যেখানে প্রতিকাঠায় (১০ শতাংশ) আট থেকে ১০ মণ ধান পাওয়া যায়, আউশে সর্বোচ্চ তিন মণ পাওয়া যায়। ফলে আউশ চাষে খরচ কম হলেও কৃষক আগ্রহী হয় না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানানো হয়, ময়মনসিংহ বিভাগে বোরো আবাদেও পূরণ হয়নি চাষ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা। সূত্র জানায়, এ বছর ময়মনসিংহ বিভাগে বোরো আবাদ করা হয়েছিল ছয় লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৩ হেক্টর জমি। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ১৯ হাজার ৮১২ হেক্টর জমির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলস্বরূপ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ফলনও কম হয়েছে। তিন লাখ ৯২ হাজার ৩১০ মেট্রিক টন চালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল। উৎপাদন হয়েছে দুই লাখ ৯৭ হাজার ৪০৪ মেট্রিক টন।
ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আউশ চাষ হয়েছে ময়মনসিংহ জেলায়। এখানে মোট লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর। গতকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত মোট আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ১৪৫ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ।
আরও পড়ুন: ফরিদগঞ্জে জালটাকা দিয়ে কেনাকাটার অভিযোগে ৪ নারী আটক
নেত্রকোনা জেলায় সবচেয়ে কম লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার ৮৬০ হেক্টর। হাওরবিষ্টিত হওয়ার ফলে জেলায় বর্ষাকালে কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। এই কারণে আউশের আবাদ কম হয়। ময়মনসিংহ বিভাগে লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে আউশের আবাদ হয়েছে ৭০ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে এখনো চারা রোপণ চলছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক সালমা আক্তার বলেছেন, বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক এখনো চারা রোপণ করতে পারেনি। যদিও, এখনো চারা রোপণ চলছে। এই বিষয়ে আশা করা যায় যে, আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন