ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

“প্রণোদনা থাকলেও আউশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সংশয়”


“প্রণোদনা থাকলেও আউশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সংশয়”

 

বোরো ধান ঘরে তোলার পর পরই শুরু হয় আউশ আবাদের মৌসুম। বিগত সময়ে আউশের ফলন কম হওয়ায় কৃষকেরা এ আবাদের প্রতি বিশেষ আগ্রহী ছিলেন। ফলস্বরূপ, সরকার আউশ চাষকে উৎসাহিত করতে সার ও বীজ দিয়ে প্রণোদনা প্রদান করে।

তবে সম্প্রতি দেখা দিয়েছে যে, ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় আউশের আবাদে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ বিভাগে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৯৮৮ হেক্টর জমি। মঙ্গলবার (১৬ জুন) পর্যন্ত শেয়ারিংয়ের অধীনে আবাদ হয়েছে ১৭ হাজার ৬০৮ হেক্টর জমি।

আরও পড়ুন: জিয়ানগরে ইউপি নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আব্দুল জলিল শেখের সমর্থকদের নিয়ে জনসংযোগ ও পথসভা

যদিও এখনো আউশের চারা রোপণ চলছে, তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে যথেষ্ট সংশয় বিদ্যমান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আউশ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকার এই প্রণোদনা দেয়। একটি এক বিঘা জমি চাষ পার্টনারশিপের জন্য প্রত্যেক কৃষককে এই প্রণোদনা দেওয়া হয়। বিভাগের চার জেলায় মোট ২৯ হাজার ৬০০ জন কৃষক এই প্রণোদনার আওতায় রয়েছেন।

সারা দেশে আউশে মোট সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে ৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

কৃষকরা জানান, আউশের ফলন কম হয় বিধায় তাঁদের আগ্রহও কম। আউশের চারা পরিণত হতে অনেক সময় লেগে যায়। এদিকে, আউশ ধান কাটার সময় দেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এতে, যদি পরিণত ধান কাটাতে দেরি হয় তবে ধানে চারা গজিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

আরও পড়ুন: চলতি বছরে ৯ মাসে ‘মব’ সহিংসতায় নিহত ১৮৭ জন

এইসব কারণে ময়মনসিংহ অঞ্চলে আউশের আবাদ কমে যায়।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কড়মরিয়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ শেখ সাদী কালের কণ্ঠকে বলেছেন, তিনি সরকারি প্রণোদনায় এর আগে দুইবার আউশ চাষ করেছেন। তবে এবারে করেননি। কারণ বোরো ধানে যেখানে প্রতিকাঠায় (১০ শতাংশ) আট থেকে ১০ মণ ধান পাওয়া যায়, আউশে সর্বোচ্চ তিন মণ পাওয়া যায়। ফলে আউশ চাষে খরচ কম হলেও কৃষক আগ্রহী হয় না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানানো হয়, ময়মনসিংহ বিভাগে বোরো আবাদেও পূরণ হয়নি চাষ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা। সূত্র জানায়, এ বছর ময়মনসিংহ বিভাগে বোরো আবাদ করা হয়েছিল ছয় লাখ ৬৭ হাজার ৬৫৩ হেক্টর জমি। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ১৯ হাজার ৮১২ হেক্টর জমির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলস্বরূপ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ফলনও কম হয়েছে। তিন লাখ ৯২ হাজার ৩১০ মেট্রিক টন চালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল। উৎপাদন হয়েছে দুই লাখ ৯৭ হাজার ৪০৪ মেট্রিক টন।

ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আউশ চাষ হয়েছে ময়মনসিংহ জেলায়। এখানে মোট লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর। গতকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত মোট আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ১৪৫ হেক্টর, যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ফরিদগঞ্জে জালটাকা দিয়ে কেনাকাটার অভিযোগে ৪ নারী আটক

নেত্রকোনা জেলায় সবচেয়ে কম লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে লক্ষ্যমাত্রা এক হাজার ৮৬০ হেক্টর। হাওরবিষ্টিত হওয়ার ফলে জেলায় বর্ষাকালে কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যায়। এই কারণে আউশের আবাদ কম হয়। ময়মনসিংহ বিভাগে লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে আউশের আবাদ হয়েছে ৭০ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে এখনো চারা রোপণ চলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক সালমা আক্তার বলেছেন, বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক এখনো চারা রোপণ করতে পারেনি। যদিও, এখনো চারা রোপণ চলছে। এই বিষয়ে আশা করা যায় যে, আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
লন্ডনে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের নাগরিক সংবর্ধনায় হাসনাত আব্দুল্লাহ

সবার জন্য সেবা নিশ্চিতের আগে বিশেষ সুবিধা নেবো না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০৯ পি.এম


সবার জন্য সেবা নিশ্চিতের আগে বিশেষ সুবিধা নেবো না

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, দেশের সকল নাগরিকের সমান মর্যাদা এবং সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্রের সব সেবা ও সুযোগ-সুবিধা সাধারণ মানুষের জন্য সমভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো বিশেষ সুবিধা বা ভিআইপি সংস্কৃতির অংশ না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বুধবার এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য সফরের সময় গত রবিবার লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার মাইদা ব্যাংকুয়েটিং হলে একটি বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয় হাসনাত আব্দুল্লাহকে। সেখানে তিনি তার প্রতিশ্রুতি করেন।

অনুষ্ঠানে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐতিহাসিক অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামে সকল নাগরিক, বুদ্ধিজীবী, তরুণ সমাজ এবং গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগের পলাতক কর্মীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে এবং সংবর্ধনা বানচাল করার চেষ্টা করেছিল। তবে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের স্বেচ্ছাসেবক টিমের তৎপরতা এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে আগত প্রবাসী বাংলাদেশি, জুলাই যোদ্ধা, এনসিপির নেতাকর্মী ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মাকসুদুল হক শাকুর এবং সদস্য সচিব এম. এ. হিমেল। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক এহতেশামুল হক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ, জামায়াতে ইসলামীর ইউরোপীয় মুখপাত্র আবুবকর মোল্লা প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলি গণমাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১১ পি.এম


ইসরাইলি গণমাধ্যমে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। তবে এই সমঝোতার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই চুক্তির বিস্তারিত বিবরণ ‘খুব শিগগিরই’ প্রকাশ করা হবে।

এদিকে, এক ব্লগ পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, ইসরাইলের অনুরোধ পর্যালোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে ইসরাইল পুরো বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেনি।

তবে কিছু সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত টেক্সট তারা পেয়েছে। ইসরাইলের টেলিভিশন নেটওয়ার্ক চ্যানেল ১২ গত মঙ্গলবার এই সমঝোতা স্মারকের ১২টি দফার বিবরণ প্রকাশ করেছে। এই দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবানন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালী, নিষেধাজ্ঞা এবং জব্দকৃত সম্পদের বিষয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সমঝোতা স্মারকের প্রধান দফাগুলো হলো- ১. ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব এলাকায় শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করবে।

২. সমঝোতার আওতায় ইরান ফের প্রতিশ্রুতি দেবে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না। ৩. একইসঙ্গে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অপসারণের বিষয়টি সমাধানে দুই দেশ সহযোগিতা করবে।

৪. এতে আরো বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং দেশের বেসামরিক পারমাণবিক চাহিদা নিয়ে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে আলোচনা হবে। ৫. চূড়ান্ত সমঝোতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইরান তার বর্তমান পারমাণবিক কর্মসূচির অবস্থান অপরিবর্তিত রাখবে।

৬. চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন থেকেও বিরত থাকবে।

৭. হরমুজ প্রণালী সম্পর্কিত ধারায় বলা হয়েছে, সমঝোতা কার্যকর হলে ৬০ দিনের জন্য ইরান বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ এবং টোলমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করবে। ৮. সমঝোতা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহারের সুযোগও দেবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

৯. চূড়ান্ত চুক্তি হলে, ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চল থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে এবং ইরানের বিপক্ষে আরোপিত সমস্ত নিষেধাজ্ঞা বাতিল করবে বলেও জানানো হয়েছে।

১০. সমঝোতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।

১১. আলোচনা চলাকালীন তেহরানকে তেল রফতানির সুযোগ দিতে ওয়াশিংটন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ছাড় প্রদান করবে বলেও উল্লেখ রয়েছে।

১২. প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর অংশগ্রহণে নৌপরিবহন ও সামুদ্রিক সেবাবিষয়ক নতুন ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হবে।

গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের সংবাদ সংস্থা আল-আরাবিয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছে। এতে ১৪টি দফা রয়েছে। সেগুলো হলো-

১. ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে যুদ্ধের অবিলম্বে এবং স্থায়ী সমাপ্তি ঘোষণা করছে এবং একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো বৈরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না এবং তারা একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি বা ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে।

২. উভয় দেশ একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতাকে সম্মান করবে এবং একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকবে। ৩. সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চলবে, যা পারস্পরিক সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে।

৪. এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সাথে সাথেই (যা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে), যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর উপর থেকে তার অবরোধ তুলে নেবে এবং ইরানি জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপ প্রতিরোধ করবে।

সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে যান চলাচল তার পূর্ণ সক্ষমতায় পুনরুদ্ধার হবে এবং তা এক্ষেত্রে ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পরিমাণের সমানুপাতিক হবে। যুক্তরাষ্ট্রও ৩০ দিনের মধ্যে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করে নেবে।

৫. কারিগরি প্রতিবন্ধকতা অপসারণ এবং মাইন নিষ্ক্রিয়করণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখে, ইরান অবিলম্বে পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগরে এবং এর বিপরীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ৩০ দিনের মধ্যে যুদ্ধ-পূর্ববর্তী পরিমাণে পুনরায় চালু করবে।

৬. যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে সেভাবে মিলিত হয়ে ইরানের পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য একটি ব্যাপক পরিকল্পনা তৈরি করবে। যা অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নও নিশ্চিত করবে। চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ৬০ দিনের মধ্যে প্রণয়ন করা হবে।

৭. যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান ইরানের উপর আরোপিত সকল প্রকার নিষেধাজ্ঞা, যা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) বোর্ড অফ গভর্নরস-এর প্রস্তাবনা এবং সকল একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয়ই) অন্তর্ভুক্ত, তা তুলে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে।

৮. ইরান পুনর্ব্যাক্ত করছে যে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন করবে না এবং সমৃদ্ধকৃত উপাদানের ভাগ্য ও ইরানের পারমাণবিক চাহিদাসহ পারস্পরিকভাবে সম্মত অন্যান্য সকল পারমাণবিক-সম্পর্কিত বিষয় একটি চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে সমাধান হবে।

৯. একটি চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত, তারা স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে: ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের উপর নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না বা এই অঞ্চলে তার শক্তি বৃদ্ধি করবে না।

১০. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ও এর উপজাত এবং ব্যাংকিং, বীমা, পরিবহনসহ সকল সংশ্লিষ্ট পরিষেবার রপ্তানির জন্য ছাড়পত্র জারি করবে।

১১. ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জব্দকৃত বা সীমাবদ্ধ তহবিল ও সম্পদ মুক্ত করে সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধ করা হবে। এই তহবিল, যা মূল অ্যাকাউন্টে রাখা হোক বা স্থানান্তর করা হোক, তা ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত যেকোনো চূড়ান্ত সুবিধাভোগীকে অর্থ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হবে এবং ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রও এর ভিত্তিতে সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি ও লাইসেন্স জারি করবে।

১২. চূড়ান্ত চুক্তির সফল বাস্তবায়ন এবং এর প্রতি ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার তদারকির জন্য একটি কার্যপ্রণালী স্থাপন করা হবে।

১৩. ৪, ৫, ১০ এবং ১১ নং অনুচ্ছেদের বাস্তবায়ন শুরুর বিষয়ে আশ্বাস প্রাপ্তির পর, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র অবশিষ্ট অনুচ্ছেদগুলোর বিষয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু করবে।

১৪. চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।

তবে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র বা ওমান আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও এই ইসরাইলি গণমাধ্যমের ১২ দফা কিংবা সৌদি গণমাধ্যমের ১৪ দফার দাবিগুলোর একটি নিশ্চিত করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টি-টোয়েন্টির ম্যাচ, জ্যোতিদের টেস্ট খেলতে বাধ্য করলো অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


টি-টোয়েন্টির ম্যাচ, জ্যোতিদের টেস্ট খেলতে বাধ্য করলো অস্ট্রেলিয়া

কি টেস্ট ম্যাচ ছিল এটা! ম্যাচটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হলেও স্কোর কার্ড দেখে এই কথাটি ভাবা যে কোনো কঠিন নয়। ব্যাট করতে নামা ১০ জনের মধ্যে ৯ জনের স্ট্রাইকরেট একশর নিচে ছিল, অধিকাংশের স্কোর পঞ্চাশের আশপাশে বা তার নিচেই। একটি মাত্র ব্যাটসম্যান, রাবেয়া খান, একশ ছুঁয়েছেন, কিন্তু তিনি করেছেন মাত্র ৮ রান ৬ বল করে।

ফলস্বরূপ, অস্ট্রেলিয়া নারী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ইনিংস থেমে গেছে ৭৭ রানে। আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন বাংলাদেশ অলআউট হয়ে গিয়েছিল! কিন্তু তা নয়, টাইগ্রেসরা সব কটি উইকেট হারায়নি, হাতে ছিল আরও ২ উইকেট।

লিডসে, নিগার সুলতানা জ্যোতি ৪৭ বল মোকাবিলা করে ২৭ রানের স্কোর করেছেন। রিতু মনির করেছেন ১৬ রান ২৬ বল খেলে। এছাড়া জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ৯ বল থেকে ৮ রান, শারমিন আক্তার ১৩ বল থেকে ৫ রান, সোবাহানা মোস্তারি ৭ বল থেকে ৪ রান ও নাহিদা আক্তার ৫ বল থেকে ২ রান সংগ্রহ করেছেন। দিলারা আক্তার, স্বর্ণা আক্তার ও সুলতানা খাতুনের রানের খাতা খোলা হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন কিম গার্থ, সোফি মলিনাক্স ও এলিস পেরি। আর একটি করে উইকেটের মালিক হলেন অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড ও জর্জিয়া ওয়েয়ারহ্যাম।

অস্ট্রেলিয়া ৭৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে মাত্র ৫৭ বলের মধ্যে। জর্জিয়া ভল ৩২ বল খেলে ৪৫ রান করেছেন, বেথ মুনি ১০ বল থেকে ১০ রান ও এলিস পেরি ১৫ বল মোকাবিলা করে ১৯ রান করেন। মুনির উইকেটটি নেন মারুফা আক্তার।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারলেও বাংলাদেশ বিশ্বকাপ শুরু করেছিল জয় দিয়ে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে তারা রেকর্ড ১৪০ রান তাড়ায়। ২০ জুন নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জ্যোতিরা পাকিস্তান নারী দলের বিপক্ষে মুখোমুখি হবেন।

জ্যোতিদের মতো আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরেছে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দলও। চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে তাওহীদ হৃদয় নেতৃত্বাধীন দলের হার ৪ উইকেটে হয়েছে। বাংলাদেশের ১৩২ রানের লক্ষ্য মিচেল মার্শ বাহিনী ১০ বল হাতে রেখেই অতিক্রম করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পিকারের সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৩ পি.এম


স্পিকারের সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আজ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনচি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎটি হয়েছিল স্পিকারের সংসদ কার্যালয়ে।

স্পিকার জাপানকে দেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং অকৃত্রিম বন্ধু দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে বিনিয়োগের জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানান। বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি জাপানে রপ্তানি করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রদূতের সহায়তা কামনা করেন স্পিকার।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাপানের শর্তহীন বিনিয়োগের জন্য তিনি জাপান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম শিল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম, এ বিষয়টি তিনি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ এবং জাপানের মধ্যে সুদৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তি হলো দুই দেশের জনগণের মধ্যে আন্তরিকতা ও সহানুভূতির মেলবন্ধন। তিনি জানান, বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্ব, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন জাপান সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

রাষ্ট্রদূত জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে জাতিসংঘ, জাপানসহ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দল গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও অবাধ বলে রিপোর্ট দিয়েছে। নির্বাচনের পর বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসায়, বাংলাদেশে জাপানের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্পিকারকে অবহিত করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় রাষ্ট্রদূত স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এসময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া এবং জাপান দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব নিশি ইউকি উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%