১০:৪৩ এম
সুদানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এল-ওবেইদ শহরে একের পর এক ড্রোন হামলার ঘটনায় অন্তত ২৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার মানবাধিকার সংগঠন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এ ব্যাপারে তথ্য জানিয়েছেন। গত ২০২৩ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে শহরটিতে এটি ছিল অন্যতম ভয়াবহ ড্রোন হামলা।
এই খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটির সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই যুদ্ধে ড্রোন হামলা একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধকৌশলে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা হুমকির মুখে, শান্তি সুদূরপরাহত
শহরের পূর্বাঞ্চলের আল-মাতার এলাকার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, হামলার ফলে অনেক বাড়ির ছাদ ধসে পড়েছে এবং বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি এএফপিকে বলেছেন, ‘কিছু বাড়ির অবস্থা দেখে মনে হয়েছে সেখানে কেউ বেঁচে থাকার সুযোগই পায়নি।’
শহরের কেন্দ্রস্থল আল-কুব্বা এলাকার আরেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তার এক চাচাতো ভাইও রয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালে সাতটিরও বেশি মরদেহ আনা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এএফপিকে একটি চিকিৎসা সূত্র জানায়, প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের মধ্যে দুই শিশু এবং তাদের মা বলে মনে করা হচ্ছে এমন এক নারীও রয়েছেন।
যুদ্ধজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে রিপোর্ট করতে থাকা ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ গ্রুপ জানিয়েছেন, দক্ষিণ কর্ডোফান অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহরে বুধবার সন্ধ্যায় হামলা শুরু হয় এবং তা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। হামলায় আবাসিক এলাকা, একটি জানাজা-পরবর্তী শোকসমাবেশ এবং খাদ্যসামগ্রী বহনকারী একটি ট্রাক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন: ‘ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ’
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় আরও অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। তারা এই হামলার জন্য আরএসএফকে দায়ী করেছেন। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে আরএসএফের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উত্তর কর্ডোফান রাজ্যের রাজধানী এল-ওবেইদ কয়েক মাস ধরে আরএসএফ বাহিনীর আংশিক অবরোধের মধ্যে রয়েছে। শহরটি দারফুর অঞ্চলে আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং পূর্বাঞ্চলে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে অবস্থিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন