০৪:৫২ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রবিবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা এ সংঘর্ষের ফলে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, থলিয়ারা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ি এলাকায় শিরু মিয়ার একটি চায়ের দোকানকে কেন্দ্রে করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকানে সারাক্ষণ টেলিভিশন চালু থাকায় সেখানে মানুষের জটলা লেগে থাকত এবং পথচারী নারী ও কিশোরীদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করা হতো। এই কারণে সম্প্রতি একটি গ্রাম্য সালিশে দোকানটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে, ওই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গ্রামের মিন্দান আলীর বাড়ির লোকজন এবং মইধ্যের বাড়ির হাজী জয়নাল আবেদীনের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। রবিবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে, তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
আরও পড়ুন: হোসেনপুরের ‘হেরার আলো ইসলামী ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস, প্রেশার ও ব্লাড গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচি
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন রামদা, বল্লম, টেঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
সংঘর্ষ গ্রাম থেকে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে ছড়িয়ে পড়লে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দুপুর ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া বলেন, কয়েক দিন আগে অনুষ্ঠিত একটি সালিশে চায়ের দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি পক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন/ধানের শীষ নাকি দাঁড়িপাল্লা, কার ওপর আস্থা রাখছেন ভোটাররা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন