০১:০১ এম
ভারতের দেহরাদুনে শ্বশুরবাড়ি ও স্বামীর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এক সরকারি স্কুল শিক্ষিকা আত্মহত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুর আগে তিনি এক ভিডিও রেকর্ড করে রেখে গেছেন, যা এখন নেট দুনিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, চোখ থেকে অনবরত গড়িয়ে পড়া পানি, মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি থেকে লাগাতার ‘অপয়া’ বা ‘অভিশপ্ত’ বলে গালমন্দ করার জন্য আক্ষেপ করছেন তিনি।
দেহেরাদুনের দোইওয়ালা এলাকার বাসিন্দা ও সরকারি শিক্ষিকা সৃষ্টি কান্ধারির সঙ্গে গত বছরের নভেম্বরে বিয়ে হয়েছিল আরেক সরকারি কর্মচারী সৌরভ রাতুড়ির। বিয়ের মাত্র আট মাসের মাথায় সৃষ্টি বুধবার আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার ঠিক আগে রেকর্ড করা ৯০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সৃষ্টি অঝোরে কাঁদছেন এবং কান্না সামলে ভিডিও শুরু করার প্রায় ৩৫ সেকেন্ড পর প্রথম কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ঢামেকে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক, থানায় হস্তান্তর
ভিডিওতে সৃষ্টিকে বলতে শোনা যায়, “সরি মামণি, আমি এভাবে চলে যাচ্ছি। সবকিছু কেমন যেন বদলে গেছে। বিগত ছয় মাস ধরে আমি এসব সহ্য করছি... আর সহ্য করতে পারছি না। ওদের মানসিকতা কখনোই বদলাবে না। বিয়ের পর যা কিছু হয়েছে, তার সব কিছুর জন্য ওরা আমাকেই দায়ী করে এবং ‘অপয়া, অপয়া’ বলে ডাকতে থাকে।”
ঘটনার পর সৃষ্টির মা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, যৌতুকের জন্য তার মেয়েকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো এবং শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে ‘অপয়া’ ও ‘অশুভ’ বলে ডাকত। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সৃষ্টির স্বামী সৌরভ, শাশুড়ি পরবীণা এবং ননদ চারুর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
দোইওয়ালার সার্কেল অফিসার বন্দনা ভার্মা জানান, যৌতুকজনিত মৃত্যুর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন: প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার তিন দাবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন