০১:১৫ পি.এম
গাজা উপত্যকায় শনিবার ইসরাইলি হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ওই তিন শিশুর বাবা-মাও রয়েছেন। গাজার সিভিল ডিফেন্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরাইল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজায় সহিংসতা থেমে নেই। যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির প্রচেষ্টা এখনও থমকে আছে।
গাজা সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি খবরটি জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: এল-সায়েদের জয়ে উচ্ছ্বসিত মুসলিমরা, তবে ধর্মের কারণে নয়
হামাস পরিচালিত উদ্ধার সংস্থা গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টে ইসরাইলি হামলায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু এবং তাদের বাবা-মা রয়েছেন।
সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসসাল এএফপিকে বলেন, ‘পরিবারটির একমাত্র জীবিত সদস্য একটি শিশু। হামলার সময় সে বাড়ির ভেতরে ছিল না।’
গাজার আল-শিফা হাসপাতাল পাঁচটি মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান যে, শনিবার গাজা সিটিতে হামাসের এক যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, হামলার ফলাফল এখনও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দুর্যোগের পর ৮০% শিশু অসুস্থ, ৪৯% স্কুল বন্ধ: সেভ দ্য চিলড্রেন
গাজার বাসিন্দা মুসা আল-আইমাউই বলেন, হামলার আগে कोई সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। তিনি এএফপিকে জানিয়েছেন, হঠাৎ একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভবনটিতে আঘাত হানে এবং কেউ কিছু জানত না। এসময় কোনো সতর্কবার্তা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, ‘তারা কোনো পরোয়া না করেই হামলা চালিয়েছে। সেখানে বেসামরিক মানুষ, শিশু, নারী ও মেয়েরা ছিল।’
একই ভবনের বাসিন্দা মোহাম্মদ কালি জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেছেন। তিনি বলেন, মাটিতে মরদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল, নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু বয়স্কও ছিল।
ঘটনাস্থলের এএফপির ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনটির সামনের অংশটির বড় অংশ ধসে গেছে এবং উদ্ধারকর্মীরা আহতদের সরিয়ে নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: মহাকাশ থেকে মার্কিন নির্বাচনে ভোট দিলেন নাসার তিন নভোচারী
এসময় উপস্থিত লোকজন ধ্বংসস্তূপে ছড়িয়ে থাকা কংক্রিটের টুকরা ও বাঁকানো লোহার মধ্যে উদ্ধারযোগ্য জিনিসপত্র খুঁজছিলেন।
সিভিল ডিফেন্স জানাচ্ছে, গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় বেসামরিক লোকজনের একটি দলের ওপর ইসরাইলি বিমান হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।
আল-শিফা হাসপাতাল তিনটি মরদেহ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
কয়েক ঘণ্টা পর বাসসাল জানান, জেইতুন এলাকার পূর্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থল একটি তাঁবুতে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে এক নারী নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: আবার নতুন সকাল এসেছে-ডেমোক্র্যাটদের জয়ী বলে মন্তব্য মামদানি
গাজার আল-আহলি হাসপাতাল জানাচ্ছে, নিহত ওই নারীর মরদেহের পাশাপাশি কয়েকজন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তার মেয়েও রয়েছে।
বাসসাল বলেছেন, হামলার ওই এলাকায় আরও কয়েকজন আহত এবং তিনজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গাজার অন্য এলাকাগুলোতে ইসরাইলি হামলায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন।
এসব হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
আরও পড়ুন: ৬৭ পুলিশ পরিদর্শক এসএসপি পদে পদোন্নতি পেলেন
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শুক্রবারের হতাহতের আগে, গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ১ হাজার ১৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ এ মন্ত্রণালয়ের তথ্যকে নির্ভরযোগ্য বলে মনে করে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানাচ্ছে, একই সময়ে গাজায় পাঁচজন সেনাসদস্য এবং একজন বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতদের জন্য সউদীর ২৩২টি বাড়ি, স্কুল, মসজিদ ও খেলাধুলার সুযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন