০৯:৩২ পি.এম
আগস্ট মাস থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো ওপেক প্লাস অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদনের কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পর দুটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে- জোটটি সত্যিই কি ঘোষিত হারে উৎপাদন বাড়াতে পারবে? আর যদি পারে, তাহলে সেই অতিরিক্ত তেল কিনবে কারা?
ওপেক এবং রাশিয়াসহ সহযোগী উৎপাদক দেশগুলো নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য রোববার (৫ জুলাই) বৈঠকে আগস্ট থেকে দৈনিক আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে গত এপ্রিল থেকে দৈনিক মোট উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল।
বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতা অনেকটাই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকার ওপর। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন যদি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের ইরানে হামলার আগের পর্যায়ে ফিরে আসে, তাহলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।
আরও পড়ুন: ৬৭ পুলিশ পরিদর্শক এসএসপি পদে পদোন্নতি পেলেন
তবে শুধু হরমুজ প্রণালি দিয়ে কত তেল যাচ্ছে, সেটি নয়; মধ্যপ্রাচ্য থেকে মোট অপরিশোধিত তেল রফতানির পরিমাণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালির বাইরের বন্দরও ব্যবহার করে থাকে।
তার পরও তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রফতানি কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু তা এখনও যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থানের তুলনায় অনেক কম।
পণ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জুনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক ৯৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল রফতানি হয়েছে। অথচ ইরান সংঘাতের পূর্ববর্তী তিন মাসে গড়ে দৈনিক রফতানি ছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ ব্যারেল।
জুলাইয়ে পরিস্থিতির আরও কিছুটা উন্নতি হতে পারে। কেপলার বর্তমানে দৈনিক ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল চালানের হিসাব রাখছে। তবে আরও কার্গো মূল্যায়নের পর এ সংখ্যা বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: মাদক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী
তবুও তথ্য বলছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে রফতানি এখনো সীমিত। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার মতো অঞ্চল থেকে চালান বেড়েছে তবুও তা উপসাগরীয় অঞ্চলের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি।
তবে তেল শিল্প অতীতে দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তাই হরমুজ প্রণালি খোলা থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে উৎপাদন ও রফতানি আরও বাড়ানো সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অপরিশোধিত তেলের ফিউচার বাজারও এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওপেক প্লাস তাদের বাড়তি উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে। একই সঙ্গে ওপেক প্লাসের সাবেক সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরান থেকেও অতিরিক্ত তেল বাজারে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার (৭ জুলাই) এশিয়ার লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭১ দশমিক ৭২ ডলার। যা ৩ জুলাইয়ের সমাপনী মূল্য ৭২ দশমিক ১২ ডলার এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আগের দিনের ৭২ দশমিক ৪৮ ডলারের চেয়েও কম।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান রিজভীর
ফিউচার বাজারের চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, ইরান যুদ্ধের আগে যে অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কা ছিল, সেটিই আবার ফিরে আসছে। যদি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয় এবং ওপেক প্লাস ও অন্যান্য উৎপাদক দেশ উৎপাদন বাড়াতে পারে, তাহলে বাজারে অতিরিক্ত তেলের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চীনের চাহিদা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশটি ইরান যুদ্ধ চলাকালে উল্লেখযোগ্যভাবে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল। এ কারণেই ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের বেশি বাড়েনি।
কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জুনে চীনের সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেল আমদানি এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। দেশটি দৈনিক মাত্র ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করেছে, যা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের প্রায় অর্ধেক।
জুলাইয়েও চীনের কম আমদানির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। কেপলার বর্তমানে দৈনিক ৫৩ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল আমদানির হিসাব রাখছে। যদিও মাসজুড়ে আরও কার্গো যুক্ত হলে এই সংখ্যা বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসের জন্য আন্দোলন করছে সরকার: এমপি দিপু
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, চীন আবার কবে বড় পরিসরে অপরিশোধিত তেল কেনা শুরু করবে। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, দেশটির শোধনাগারগুলো তখনই বাজারে ফিরে আসে, যখন তারা মনে করে তেলের দাম যথেষ্ট কমে গেছে।
দাম কমলে আমদানি বাড়ানো এবং দাম বাড়লে তা কমিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে চীনের দীর্ঘদিনের একটি প্রবণতা রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বড় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর আগে ছোট স্বাধীন শোধনাগারগুলো বাজারে ফিরতে পারে। আগস্ট থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানের আমদানি বাড়তে পারে। আর তেলের দাম কম থাকলে বড় শোধনাগারগুলোও আবার কিনতে শুরু করতে পারে। তবে সেই প্রভাব বৈশ্বিক আমদানির তথ্যে প্রতিফলিত হতে সম্ভবত বছরের চতুর্থ প্রান্তিক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
সূত্র- রয়টার্স
আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩৯৬
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন