০৬:৫৪ পি.এম
অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় বিবাহবিচ্ছেদ না করে বিয়ে করার কারণে ক্রিকেটার নাসির হোসেন এবং তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করার জন্য আগামী বুধবার, অর্থাৎ ১০ জুন, দিনধার্য রয়েছে।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই রায়টি ঘোষণা করবেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ ভৌমিক বিষয়টির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, বুধবার সকাল ১১টার দিকে রায় ঘোষণা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
এর আগে, ৬ মে বাদী এবং আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন নিয়ে শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য এই তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন।
ওই দিনে আদালতে বাদী রাকিব হাসানের পক্ষে আইনজীবী ইসরাত হাসান, ক্রিকেটার নাসিরের পক্ষে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, এবং তামিমার পক্ষে আইনজীবী মোসলেহ উদ্দিন জসীম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। শুনানির সময় বাদীপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের নির্দোষ দাবি করেন এবং খালাসের আবেদন করেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা ও রাকিব হাসানের মধ্যে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একটি আট বছর বয়সী কন্যাসন্তানও রয়েছে, এবং তামিমা পেশায় একজন কেবিন ক্রু।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরবর্তীতে তিনি পত্রপত্রিকার মাধ্যমে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।
মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে যে, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। অভিযোগ করা হয়েছে যে, নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন। তামিমা ও নাসিরের মধ্যে এই অনৈতিক সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছরের মেয়ে মারাত্মক মানসিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন এবং রাকিবের চরম মানহানি ঘটেছে।
দণ্ডবিধির ৪৯৭ (ব্যভিচার), ৫০০ (মানহানি) এবং ৩৪ ধারার আওতায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। মামলায় আগের বিয়ে গোপন রেখে অন্যত্র বিয়ে করার, অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়ার এবং মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে পিবিআইয়ের পরিদর্শক শেখ মো. মিজানুর রহমান নাসির, তামিমা ও আরও তিনজনকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন। ২০২২ সালের ২৪ জানুয়ারি আদালত নাসির এবং তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর নির্দেশ প্রদান করেন। তবে মামলার অপর আসামি তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলাটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় আদালত মোট ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন