০৯:২৯ এম
জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট সরকারের পথ দেখাতে ছায়া মন্ত্রিসভা বা সরকার গঠন করছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি এই উদ্যোগ নিয়ে কাজ প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
দলের এমপিদের নিয়ে এ সরকার গঠন করার প্রক্রিয়া চলমান। তারা ছায়া সরকার গFormation করতে চারটি প্রাথমিক উদ্দেশ্য সামনে রেখেছে। অনানুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন ৭ জুন থেকে শুরু হচ্ছে। বিরোধী জোটের ছায়া সরকারের ঘোষণা অধিবেশনের শেষ দিকে হতে পারে। সংসদ ও সংসদের বাইরের জামায়াতের নীতিনির্ধারক স্তরের শীর্ষ দুই নেতা এসব তথ্য জানিয়েছেন। তারা আরও জানান, ৫ ও ৬ জুন দলের এমপিদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি রয়েছে। বাজেট অধিবেশনের কেন্দ্র করে এসব কার্যক্রম হলেও সেখানে ছায়া সরকারের বিষয় নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
এ সরকার কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে এমপিদের মতামত নেওয়া হবে এবং গাইডলাইন চূড়ান্ত করা হবে। এমপিদের কাছ থেকে জানতে চাওয়া হবে, কার কোন মন্ত্রণালয়ে আগ্রহ রয়েছে। দলের নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জন্য এমপিদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। কাউকে একাধিক মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
বিরোধী দলের ছায়া সরকার হলো সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকল্প সাংগঠনিক কাঠামো। যেখানে সরকারে থাকা প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে বিরোধী দলের নির্দিষ্ট নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। একে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ বলা হয়।
বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা প্রাথমিকভাবে চারটি উদ্দেশ্য সামনে রেখে ছায়া সরকার গঠন করতে চান। প্রথমত, মন্ত্রীরা তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে পরিচালনা করছেন কি না, তা যাচাই করা। দ্বিতীয়ত, সরকারি নীতির সমালোচনা করার পাশাপাশি অগ্রসর নীতি ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা। তৃতীয়ত, বিরোধী দলের নেতাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে পারদর্শী করে তোলা। চতুর্থত, ভুলত্রুটি জনসমক্ষে তুলে ধরে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের এমপি রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ছায়া সরকার গঠনের ঘোষণা আমাদের বিরোধী দলীয় নেতা আগে থেকেই দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কাজ চলছে এবং সময়মতো ঘোষণা করা হবে।
আরও পড়ুন: ফেনীতে সাংবাদিককে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে সাবেক কাউন্সিলর আটক
আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, আমরা ছায়া সরকারের কাজ প্রায় চূড়ান্ত করেছি। অনানুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হবে, যা বাজেট অধিবেশনের পর আসতে পারে।
জামায়াতের কয়েক এমপি বলেন, সরকারের সব মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে ছায়ামন্ত্রী দেওয়া হতে পারে। বিশেষভাবে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, স্থানীয় সরকার, আইন, যোগাযোগ, তথ্য ও সম্প্রচার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও গণশিক্ষা, আইসিটি, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান, সংস্থাপন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবের মতো মন্ত্রণালয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ওয়েস্টমিনস্টার ধারার সংসদীয় গণতন্ত্রে এটি সবচেয়ে কার্যকর। উদাহরণস্বরূপ, সরকারি দলের অর্থমন্ত্রীর বিপরীতে বিরোধী দল একজন ‘ছায়া অর্থমন্ত্রী’ নিযুক্ত করে। সরকারি কোনো বিল বা বাজেটের ওপর ছায়া মন্ত্রীরাই প্রধান মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই ধারণাটি নতুন হলেও, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধান বিরোধী দল বা অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে ছায়া সরকার গঠনের আলোচনা ও প্রস্তুতি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও ছায়া সরকার গঠনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই, তবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শক্তিশালী বিরোধীদলের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন