০৫:৫৯ পি.এম
হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ থাকা কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। তবে এই বিশ্বব্যাপী সংকট এবং সরবরাহ ঘাটতির মুখে এশিয়ার তেলের বাজারকে কার্যত একাই টিকিয়ে রাখছে চীন। নিজেদের বিশাল মজুদ ব্যবহার করে দেশটি আমদানি ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনেছে। এর ফলস্বরূপ, এশিয়ার সামগ্রিক তেলের চাহিদার ভারসাম্য এখনও বজায় রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি দৈনিক প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বের সর্ববৃহৎ তেল আমদানিকারক অঞ্চল এশিয়াজুড়ে মারাত্মক ঘাটতি দেখা দেয়। তবে চীন কৌশলগতভাবে তাদের তেল আমদানি বিপুল পরিমাণে কমিয়ে এনেছে। যুদ্ধ শুরুর আগের তিন মাসের গড় যেখানে চীনা আমদানির পরিমাণ ছিল দিনে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল, তা জুন ও জুলাই মাসের গড় নেমে এসেছে মাত্র ৭৭ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে। সম্প্রতি রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এশিয়ায় তেলের সার্বিক আমদানি যে পরিমাণ কমেছে, তা চীনা আমদানির এই ঘাটতির প্রায় সমান।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চমূল্যের কারণে চীন সাধারণত জ্বালানি তেল আমদানি কমিয়ে দেয়। গত এপ্রিলের শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর চীনা শোধনাগারগুলো আমদানি হ্রাসের পথে হাঁটে। তবে এবার আমদানি কমার যে মাত্রা দেখা গেছে তা নজিরবিহীন। চীন দীর্ঘ সময় ধরে এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম, কারণ তাদের জাতীয় তেলের মজুত অন্তত ১২০ কোটি ব্যারেল বা তারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কীর্তিনাশা নদী থেকে ৩ বছরের অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার
যদিও আগস্ট মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সুযোগে আসা কিছু চালানের কারণে আমদানি কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সেপ্টেম্বরের চিত্র যথেষ্ট উদ্বেগজনক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তেহরানের মধ্যবর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ায় অঞ্চলটিতে ফের উত্তেজনা বেড়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আবার সরবরাহ কমে গেলে চীনা শোধনাগারগুলোকে তাদের জমানো রিজার্ভের ওপরই নির্ভর করতে হবে, অথবা বিকল্পভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের বাজার থেকে চড়া দামে অপরিশোধিত তেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
রয়টার্সের বিশ্লেষণ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন