প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ, সাহস এবং গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে স্মরণ করতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে (বিইউ) আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, কবিতা আবৃত্তি এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয় বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে। পরে, শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় গণঅভ্যুত্থানের ওপর দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের সাহস এবং ত্যাগের মাধ্যমে ন্যায়বিচার, সমতা, গণতন্ত্র এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষা প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে শিক্ষার্থীদের সততা, মানবিকতা এবং দেশপ্রেমের আদর্শে চলতে হবে। সামঞ্জস্যের সঙ্গে দায়িত্বশীল, জ্ঞানভিত্তিক এবং ন্যায়সংগত সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুল হক বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা যে সাহস, ঐক্য, এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আন্দোলনে নিহত এবং আহতদের অবদান কখনো ভুলে যাওয়া যাবে না।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা জানান, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
এটি অন্যায়, অত্যাচার এবং স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান।’
আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ২৪ জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ইমাম হাসান জুয়েল (আইন বিভাগ), কাউছার আহমেদ রিফাত (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ), আব্দুল্লাহ আল নোমান (আইন বিভাগ), জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ শ্রেবন্তী (ইংরেজি বিভাগ), আসাদুজ্জামান আসাদ (আইন বিভাগ), ইমাম মেহেদী হাসান (আইন বিভাগ), শাহিন আহম্মেদ (আইন বিভাগ), ফারদিন আহম্মেদ (অর্থনীতি বিভাগ), সাজেদুর রহমান সৌমিক (আইন বিভাগ), মেহেরান বুখারী (আইন বিভাগ) এবং আইন বিভাগের প্রভাষক মো. রাজিউল আলিম বক্তব্য দেন।
বক্তারা আন্দোলনের সময়ের অভিজ্ঞতা, প্রতিকূল পরিস্থিতি, সহযোদ্ধাদের সাহস এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধুমাত্র একটি আন্দোলন নয়; এটি বৈষম্য, অন্যায় এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে গণমানুষের সম্মিলিত আকাক্সক্ষার প্রতিফলন।
বক্তারা শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন, মানবিক এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরি করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, আহতদের সুচিকিৎসা এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এবং শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দাবি জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ও অর্থনীতি বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম, কলা, সমাজবিজ্ঞান এবং আইন বিভাগের ডিন অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবির, ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন