আহমেদ আক্তার রানা প্রতিনিধি কুলাউড়া উপজেলা
০৭:৪৬ পি.এম
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও, হাজিপুর ও পৃথিমপাশা ইউনিয়নের মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে নদীতীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে এখন ভয়াবহ ভাঙনের ঝুঁকি দৃশ্যমান হয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিলাগাঁও ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের মনু নদীর তীর, মিয়ারপাড়া, দক্ষিণ হাজিপুর, আশ্রয়গ্রাম, হাজিপুর ইউনিয়নের কঠারকোনা ও কাওকাপন বাজার এবং পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুরসহ বিভিন্ন স্থানে নদীতীর ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমানে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকা সত্ত্বেও টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে, যা যেকোনো সময় নদীর পানি বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে উস্কে দিচ্ছে। বিশেষ করে টিলাগাঁও ইউনিয়নের তাজপুর এলাকায় প্রায় ৮০ ফুট বাঁধ ইতোমধ্যে ধসে গেছে। এর ফলে বাঁধসংলগ্ন সড়কের অর্ধেকেরও বেশি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া অবশিষ্ট অংশও চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
এলাকাবাসীর মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে যে, যদি দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু না হয় তবে বাঁধ সম্পূর্ণ ধসে গিয়ে উপজেলার একাধিক ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারেন। এ অবস্থায় কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুপ্তা সেন, লীলা সেন, লক্ষ্মী সেন, নিউটন চন্দ্র সেন, শ্রীকান্ত দে, সুমন দত্ত ও রাকু সেন জানান, তাজপুর এলাকার বাঁধটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে এবং তাদের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই তারা দ্রুত বাঁধ সংস্কারের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
টিলাগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্বাস আলী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে ভাঙন ঘটলে শুধু টিলাগাঁও নয়, কুলাউড়ার আরও কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি কৃষিখাতে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হবে।
টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত জানান, তিনি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত বাঁধ সংস্কার করার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবির কথা জানিয়েছেন। দ্রুত কাজ শুরু হলে বড় ধরনের দুর্যোগ এড়ানো সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদী।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার বলেন, মনু নদীর ঝুঁকিপূর্ণ স্থান এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের অসমাপ্ত কাজগুলো পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন অলিদ বলেন, কুলাউড়া উপজেলার মনু নদীর সব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। তাজপুরের ভাঙনস্থলও দেখা হয়েছে এবং সপ্তাহের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে জলাবদ্ধতার কারণে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় মৃত্যু হয়েছে এক প্রসূতির ও তার নবজাতকের। প্রসূতির নাম নাজমা আক্তার(৩০) এবং তার মৃত্যু ঘটে বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামে।
নিহত নাজমা আক্তার ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. হক সাবের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈরী আবহাওয়া ও উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের কারণে অস্বাভাবিক জোয়ারে নিঝুমদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। ইসলামপুর গ্রামের সড়ক ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে যোগাযোগ সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়ে যায়।
এ অবস্থায়, সকালে নাজমা আক্তারের প্রসববেদনা শুরু হলে তার স্বজনরা তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে যাতায়াতের একমাত্র নৌকাটি ভাঙা থাকায় এবং জলাবদ্ধতার কারণে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে ঘরেই প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে নাজমা আক্তার ও তার অনাগত নবজাতকের মৃত্যু ঘটে।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী বেগম বলেন, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল নেই। চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সবাইকে হাতিয়া পৌরসভা এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু জোয়ারের পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় নাজমাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ঘরের ভেতরেই তার সন্তানসহ মৃত্যু হয়েছে। তার এর আগে দুইটি সন্তান রয়েছে, এবং এটি ছিল তার তৃতীয় সন্তান।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিঝুমদ্বীপ এলাকায় চিকিৎসাসেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে অপহরণ করার পর হত্যার অভিযোগে আসামিকে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলো টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে সাব্বির মিয়া (২১)।
টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট ওমরাও খান দীপু জানান, সখিপুরের দাড়িয়াপুর গ্রামের রনজু মিয়ার মেয়ে সামিয়া আক্তার (৯) দাড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রাইভেট পড়ার পর বাড়ি ফেরার পথে আসামি সাব্বির তাকে অপহরণ করে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে সামিয়া যখন নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছিল, তখন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি ধানক্ষেতের ড্রেনে কাদামাটি দিয়ে ঢাকা হয়।
এরপর আসামি সাব্বির নিজেকে গোপন করে একটি ইমু আইডি থেকে ভয়েস এসএমএস-এর মাধ্যমে সামিয়ার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
এই ঘটনার পর পরই ৭ সেপ্টেম্বর সামিয়ার বাবা রনজু মিয়া সখিপুর থানায় মামলা করেন। মামলার পর দিন ৮ সেপ্টেম্বর, পুলিশ সেই ধানক্ষেতের ড্রেন থেকে সামিয়ার লাশ উদ্ধার করে। তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সাব্বিরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
পরে সাব্বির আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়। ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।
বিচার শেষে স্কুলছাত্রীর হত্যার জন্য আসামি সাব্বিরকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া অপহরণের অভিযোগে তাকে ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুকে আটক রাখার জন্য যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
তদুপরি, হত্যার পরে লাশ গুমের চেষ্টাসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত পুড়িয়ে ফেলার অপরাধে আসামিকে আরও পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ দেন বিচারক।
আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন (স্টেট ডিফেন্স)। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাব্বিরকে টাঙ্গাইল কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকেও জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণের প্রমাণ দিতে হবে, এ মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন।
তিনি বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলবেলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশক্তি আয়োজিত ‘স্মরণগাথায় জুলাই: বিপ্লবের দিনগুলি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এই মন্তব্য করেছেন।
সেই সময় তিনি জুনের আন্দোলনকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মসূচি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন।
নাহিদ ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, গণতান্ত্রিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা, নিয়মিত ডাকসু নির্বাচনের আয়োজন এবং নির্দলীয় উপাচার্য ও শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
এভাবে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে, জুলাইয়ের চেতনা ও আদর্শের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই গণঅভুত্থ্যানকে ইতিহাসের পাতায় তুলে ধরার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, এ কাজটি সরকারের মাধ্যমেই করতে হবে। এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী রয়েছেন, তিনিই বিষয়টিকে গুরুত্ব প্রদান করবেন। এছাড়া জুলাই অধিদফতরের উদ্যোগে শহীদদের প্রোফাইল এবং আহত ও পঙ্গু ব্যক্তিদের তথ্য ইতিহাসের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করার যে কার্যক্রম চলছে, সেটিকে আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
বুধবার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। সংসদের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, সরকারি দল থেকেও বলছি, জুলাই আমাদের; বিরোধী দল থেকেও বলছি, জুলাই আমাদের। তাই জুলাই যেন সত্যিকার অর্থেই সবার হয়ে ওঠে, সেটাই আমরা দেখতে চাই।
প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ প্রদান করে তিনি আরও জানান, আগামী ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি দেশের আপামর মানুষের দীর্ঘদিনের একটি প্রত্যাশা ছিল। এছাড়া জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন গঠনের বিষয়েও সরকারের আশ্বাসকে স্বাগত জানিয়ে আগাম ধন্যবাদ জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদ একটি ব্যতিক্রমী সংসদ। এটি সবসময়ই ‘মজলুমের মিলনমেলা’ হিসেবে পরিচিত। সংসদের কার্যক্রম যতই সুন্দর ও গঠনমূলক হবে, ততই মানুষের হতাশা দূর হবে, রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা বাড়বে এবং দেশ গঠনে সকলের জন্য আরও বেশি অনুপ্রাণিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ