০৭:৪৬ পি.এম
নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে জলাবদ্ধতার কারণে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় মৃত্যু হয়েছে এক প্রসূতির ও তার নবজাতকের। প্রসূতির নাম নাজমা আক্তার(৩০) এবং তার মৃত্যু ঘটে বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামে।
নিহত নাজমা আক্তার ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. হক সাবের স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৈরী আবহাওয়া ও উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের কারণে অস্বাভাবিক জোয়ারে নিঝুমদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। ইসলামপুর গ্রামের সড়ক ও চলাচলের পথ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে যোগাযোগ সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়ে যায়।
এ অবস্থায়, সকালে নাজমা আক্তারের প্রসববেদনা শুরু হলে তার স্বজনরা তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে যাতায়াতের একমাত্র নৌকাটি ভাঙা থাকায় এবং জলাবদ্ধতার কারণে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে ঘরেই প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে নাজমা আক্তার ও তার অনাগত নবজাতকের মৃত্যু ঘটে।
আরও পড়ুন: রংপুর ও রাজশাহী সফর সম্পন্ন করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লাভলী বেগম বলেন, নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নে কোনো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বা হাসপাতাল নেই। চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সবাইকে হাতিয়া পৌরসভা এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু জোয়ারের পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় নাজমাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে ঘরের ভেতরেই তার সন্তানসহ মৃত্যু হয়েছে। তার এর আগে দুইটি সন্তান রয়েছে, এবং এটি ছিল তার তৃতীয় সন্তান।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিঝুমদ্বীপ এলাকায় চিকিৎসাসেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন