জামিরুল হক সুজন লালমনিরহাট প্রতিনিধি
০৫:৫৭ পি.এম
লালমনিরহাট সদর উপজেলার দুরাকুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ হাজার পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ দল দুরাকুটি এলাকায় তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মোগলহাট থেকে লালমনিরহাটগামী একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিকালে দুই আরোহীর মাঝখানে রাখা একটি শপিং ব্যাগ থেকে ২ হাজার পিস ‘টাপাল-১০০’ ব্র্যান্ডের ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন সদর উপজেলার উত্তর তালুক খুটামারা (বানভাসা) এলাকার মোঃ মনির হোসেন (৩৫) ও মোঃ ইউসুফ আলী (২৮)। উদ্ধারকৃত ট্যাবলেটগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ আশরাফুল হক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটের অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী লালমনিরহাট সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠনের আওতাধীন আওয়ামী লীগের প্রচারণামূলক লিফলেট তৈরি করার অভিযোগে স্থানীয় একটি সাবেক নারী ইউপি সদস্য এবং এক দোকানের কম্পিউটার অপারেটরকে পুলিশে সোপর্দ করেছে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এটি सोमवार (৮ জুন) রাতে উপজেলা সদরের বিবিরহাট গরুর বাজারের সামনে অবস্থিত এএইচ শপিং কমপ্লেক্সে ঘটেছে।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন বক্তপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামীলীগের নেত্রী সুমি আক্তার এবং কম্পিউটার অপারেটর উজ্জ্বল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কম্পিউটার অপারেটর উজ্জ্বলের দোকানে নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রচারণামূলক লিফলেট তৈরি করার ঘটনা জানতে পারে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে তারা সumi আক্তার এবং উজ্জ্বলকে আটক করে ফটিকছড়ি থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানিয়েছেন, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে তাদের দুজনকে কোর্টে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক অনুদান প্রদান করেছেন।
আজ মঙ্গলবার (০৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে বাজেট অধিবেশনের এক ফাঁকে, প্রধানমন্ত্রী নিজ কার্যালয়ে ঋতুপর্ণা চাকমার হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেন। এ সময় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অতীতেও ঋতুপর্ণা চাকমা এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ২০২৫ সালে তার ক্যান্সার আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তার প্রয়োজন হলে, তখনকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত ঋতুপর্ণার বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
বাংলাদেশ ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ঋতুপর্ণা চাকমা দেশের নারী ফুটবলের সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা। এছাড়া ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার অভিযানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
পাহাড়ি এলাকার একটি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে ঋতুপর্ণা চাকমা আজ দেশের অসংখ্য নারী ফুটবলারের অনুপ্রেরণার নাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ব শ্রমব্যবস্থাকে আরো গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যহীন করার জন্য বাংলাদেশ তাগিদ দিয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি তথা শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষায় বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করার দাবি জানানো হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চলমান আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম বার্ষিক সম্মেলনের মূল অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে এসব দাবিগুলো তুলে ধরেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। মঙ্গলবার (৯ জুন) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে বিশ্বনেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিদের শুভেচ্ছা জানান শ্রমমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহানকে আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনের সহসভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তিনি বিশ্বসম্প্রদায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ, চলমান যুদ্ধবিগ্রহ এবং জলবায়ু সংকটের কারণে বৈশ্বিক শ্রমবাজার গভীর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করে শ্রমমন্ত্রী বলেন, এর ফলে বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি ও রোহিঙ্গা শ্রমিকেরা চরম মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। এই সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধনী দেশগুলোর আধিপত্যের সমালোচনা করেন আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কোনো দেশের অর্থনীতির আকার দিয়ে শ্রমের মূল্য নির্ধারণ করা সমীচীন নয়।’ তিনি অভিযোগ করেন, ১২৯টি দেশের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও মাত্র কয়েকটি দেশের আপত্তির কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঝুলে রয়েছে। এ বৈষম্য দূর করতে আইএলওর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরো গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার দাবি জানান তিনি।
দেশের শ্রম খাতের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী সম্মেলনে জানান, বাংলাদেশে শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে ইতিমধ্যে শ্রম আইন সংশোধন এবং ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। এমনকি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোকে (ইপিজেড) নতুন শ্রম আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। এ ছাড়া শ্রম বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তিতে নতুন আরও ছয়টি শ্রম আদালত গঠন এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে কলকারখানা পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
নারীদের ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে একটি ‘জেন্ডার রোডম্যাপ’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি মেয়েদের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তির সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এশিয়ায় শীর্ষে রয়েছে এই তথ্য উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি আরও তিনটি আইএলও কনভেনশন অনুমোদনের মাধ্যমে এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে সব মৌলিক কনভেনশন অনুসরণের মর্যাদা পেয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দেশের অনুমোদিত আইএলও কনভেনশনের সংখ্যা ৩৯টি, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে সর্বাধিক।
উরুগুয়ের শ্রমমন্ত্রী হুয়ান কাস্তিলোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী এবং শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ও রাশিয়া জনশক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের জন্য কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে, রাশিয়ায় বর্তমানে কর্মরত প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা আগামী এক বছরের মধ্যে এক লাখে উন্নীত করার প্রস্তাব ঢাকা দিয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, রাশিয়ায় তিন দিনের সরকারি সফরে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এই প্রস্তাবটি দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, রুশ কর্তৃপক্ষ এই প্রস্তাবের ওপর দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। উভয় পক্ষ আশা করছে শিগগিরই প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। দুই দেশের আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি ১০ গুণ বাড়ানোর বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উঠে এসেছে।
জনশক্তি খাতে সহযোগিতার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ও রাশিয়া একমত হয়েছে যে, বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম এবং তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো উচিত।
রাশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও ওষুধসামগ্রী বাজারে বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও খলিলুর রহমান তুলে ধরেন।
বাণিজ্যের নতুন সুযোগ সন্ধান ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একটি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলকে রাশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তাব রুশ পক্ষ স্বাগত জানিয়েছে।
এ ছাড়া, দুই দেশের আলোচনায় প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়টিও বেশ গুরুত্ব পেয়েছে।
কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি রুশ প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ সফরের প্রস্তাব দেন। এই প্রস্তাবেও রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
এ ছাড়াও, বাংলাদেশের জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নীতিমালা প্রণয়ন ও এই খাতে ‘সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ বা উৎকর্ষকেন্দ্র স্থাপনে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মস্কো।
খলিলুর রহমান ৭ জুন থেকে রাশিয়া সফরে রয়েছেন এবং এই সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ