ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মধ্যপ্রাচ্যে ফিরতে শুরু করেছে মার্কিন কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা


মধ্যপ্রাচ্যে ফিরতে শুরু করেছে মার্কিন কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা

ইরানের যুদ্ধের রেশ কিছুটা স্থবির হতেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোতে ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করেছেন আমেরিকান কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। গত মার্চ মাসে ইরান ও তার মিত্রদের সাথে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করার পর নিরাপত্তার কারণে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই দেশগুলোতে কর্মরত কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্য এবং জরুরি নয় এমন কর্মীদের বাধ্যতামূলক বা অনুমোদিত প্রস্থান নির্দেশের আওতায় নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়েছিল। 

তবে মানবসম্পদ নীতির আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর ভাতা ও আবাসনের সুবিধা হারাতে বসার আইনি জটিলতার কারণে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখন এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে শুরু করেছে। যদিও বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের নীতি ইরান সংকটের ক্ষেত্রে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে মূলত অর্থনৈতিক চাপের ওপরই বেশি কেন্দ্রীভূত রয়েছে, তবুও এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে প্রশাসনিক বাধ্যবাধকতা।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার দিনটিতে কাতার, কুয়েত এবং বাহরাইনের মার্কিন দূতাবাসগুলো ঘোষণা দেয় যে, কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যরা দেশগুলোতে ফিরে আসতে পারবেন। তবে কুয়েত ও বাহরাইনের ক্ষেত্রে এই অনুমতি কেবল আঠারো বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য প্রযোজ্য। 

আরও পড়ুন: মুম্বাইয়ে বাংলাদেশি স্ত্রী সোনিয়া খাতুনকে হত্যা: স্বামী রঞ্জিত গ্রেপ্তার

এর আগে চলতি সপ্তাহের অন্যান্য দিনে ইসরায়েলে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মীদের সব পরিবারের সদস্য এবং লেবাননে কর্মরত কর্মীদের একুশ বছরের বেশি বয়সীদেরও নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। 

গত মার্চ মাসে যখন ইরান মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানার হুমকি দিয়ে পুরো অঞ্চলে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল, তখন থেকেই এই দূতাবাসগুলোকে বাধ্যতামূলক বা অনুমোদিত প্রস্থান স্ট্যাটাসে রাখা হয়েছিল।

বাধ্যতামূলক প্রস্থান বলতে বোঝায় যে সকল অ-প্রয়োজনীয় কর্মী এবং তাদের পরিবারকে অবিলম্বে দেশ ত্যাগ করতে হবে, আর অনুমোদিত প্রস্থান হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে কর্মীরা স্বেচ্ছায় সরে যেতে পারেন। তবে মার্কিন সরকারি প্রবিধান অনুযায়ী এই বিশেষ স্ট্যাটাসগুলোর একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে, যা ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর প্রায় শেষ হয়ে আসছিল। এই মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার অর্থ দাঁড়াত যে ক্ষতিগ্রস্ত কূটনীতিক ও তাদের পরিবারগুলো তাদের সরকারি আবাসন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা হারাতেন, যা এই বিশাল কর্মীবাহিনীর মধ্যে মারাত্মক মানবিক ও আর্থিক সংকট তৈরি করছিল। এই জটিলতা উত্তরণে স্টেট ডিপার্টমেন্ট 'সীমাবদ্ধ অপারেশন' নামের সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মাধ্যমে প্রতিটি দূতাবাস তাদের নিজস্ব বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে উপযুক্ত জনবল নিয়োগ, পরিবারের উপস্থিতি এবং বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

যদিও মধ্যপ্রাচ্যের সমস্ত মার্কিন দূতাবাসে এখনই পুরোপুরি স্বাভাবিক জনবল ও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে না, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার এই উদ্যোগ একটি বড় অগ্রগতি। স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা তাদের কর্মীবাহিনী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা এবং কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই এই প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আপডেটগুলো যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। এছাড়া এই অঞ্চলের আরও বেশ কয়েকটি দেশের দূতাবাসে যেখানে কূটনীতিকদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, সেখানেও আগামী দিনে এই নীতিমালার আলোকে অনুরূপ পরিবর্তন আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অব্যাহতি

সূত্র: গালফ নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুম হওয়া দুই শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে দিতে ইবি ছাত্রশিবিরের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইবি প্রতিনিধি

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৩ পি.এম


গুম হওয়া দুই শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে দিতে ইবি ছাত্রশিবিরের হুঁশিয়ারি

২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভার থেকে অপহৃত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থীর এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। গুম হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র মো. ওয়ালিউল্লাহ এবং আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগের ছাত্র আল মোকাদ্দাস। ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শাখা ছাত্রশিবির।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুব আলী দুই শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এবং সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা তুলে ধরেন।

শাখা শিবির সভাপতি লিখেছেন, "৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। রাষ্ট্রীয় মদদে এবং ফ্যাসিবাদের নগ্ন থাবায় বিশ্বস্ত ও প্রিয়জনদের হারানোর বেদনায় যে পরিবারগুলো বছরের পর বছর প্রহর গুনছে, তাদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা। এই দিনে আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করছি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র, আল মুকাদ্দাস এবং ওয়ালিউল্লাহ ভাইদের।"

মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহ কেবল তাদের নিজ নিজ বিভাগে অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেননি, বরং তাদের প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও মানবিক গুণাবলির কারণে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এবং পার্শ্ববর্তী সাধারণ মানুষের হৃদয়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে তাদেরকে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে ২০১২ সালে তৎকালীন স্বৈরাচারী খুনি শেখ হাসিনা সরকারের, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নীতিভ্রষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং ছাত্রলীগের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই দুই মেধাবী ছাত্রনেতাকে গুম করা হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার অকাতর ত্যাগের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ বিপ্লব-উত্তর বাংলাদেশে দাঁড়িয়েও আমরা আমাদের এই প্রিয় ভাইদের কোনো সন্ধান পাইনি। এটি শুধু রাষ্ট্রের নয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও চরম ব্যর্থতা ও উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ। যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তা এই বর্বরোচিত গুমের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা এখনো স্বপদে বহাল আছেন, যা শহীদ ও গুম হওয়া পরিবারের সঙ্গে এক চরম নির্লজ্জতা ও তামাশার শামিল। আজও মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহ ভাইয়ের বৃদ্ধ ও অসুস্থ বাবা-মা পথ চেয়ে বসে আছেন-মৃত্যুর আগে অন্তত একবার হলেও আদরের সন্তানের মুখটি দেখার আশায়।"

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন, "স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই, অনতিবিলম্বে এই গুমের নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং আমাদের ভাইদের সন্ধান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।"

সতর্ক করে দিয়ে তিনি লিখেছেন, "এই ঐতিহাসিক দিনে আমরা এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি যে, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো মায়ের বুক খালি হতে দেওয়া হবে না। কোনো স্বাধীনচেতা নাগরিক যেন আর গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার না হন। একই সঙ্গে, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে দেশের আনাচে-কানাচে যে নতুন ফ্যাসিবাদের অপছায়া বা গন্ধ আমরা পাচ্ছি, তা অঙ্কুরেই উপড়ে ফেলতে দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।"

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, তারা একসাথে ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী (হানিফ এন্টারপ্রাইজের ৩৭৫০ নম্বর) বাসে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হন। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাসটি সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৮ থেকে ১০ জন আল মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহকে নামিয়ে নিয়ে যান। মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহ ক্যাম্পাসে না ফেরায় তাঁদের বন্ধুরা পরিবারকে অবহিত করেন। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, তারা ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালের বন্যায় নিহত বেড়ে ৬৭৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৮ পি.এম


নেপালের বন্যায় নিহত বেড়ে ৬৭৫

সম্প্রতি হিমালয়ের বরফ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) সর্বশেষ আপডেটে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটি। গত বুধবার চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলার ভোটেকোশি নদী দিয়ে তীব্র শক্তি নিয়ে ছুটে আসে ঢল। যারসঙ্গে ছিল বড় বড় পাথর ও কাদা। এসব পাথর ও কাদার নিচে পড়েই সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

অপরদিকে তিব্বতে সাতজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে চীন সরকার। এতে দুই দেশ মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৮২ জনে।

ভয়াবহ বন্যার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো নিখোঁজ আছেন তিন হাজার মানুষ। তারা বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন সেটিও অজানা। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, আকস্মিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি এত বেশি হয়েছে যে উদ্ধারকারীরা সব জায়গায় যেতে পারছেন না। কিছু জায়গায় শুধুমাত্র হেলিকপ্টারই পৌঁছাতে পারছে। ফলে অনেক মানুষের কাছে উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতেও পারেনি।

ওই বন্যার পানির এতই শক্তি ছিল যে এটিকে পাহাড়ের সুনামি হিসেবে অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বন্যার পানির শক্তি অনেক বেশি থাকায় কিছু মরদেহ ভাসতে ভাসতে কয়েকশ মাইল দূরের ভারতেও চলে গেছে। ভারত থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত আটটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নদীর নিম্নাঞ্চলের অন্যান্য জায়গাতেও মরদেহ ভেসে চলে গেছে।

যেখানে এ দুর্ঘটনা ঘটে সেখানে হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্টের কাজ চলছিল। নেপাল জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৯৩৩ হাইড্রোপাওয়ার প্রজেক্ট কর্মী নিখোঁজ আছেন।

সূত্র: এএফপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যবিপ্রবিতে শুরু হতে যাচ্ছে আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৯ পি.এম


যবিপ্রবিতে শুরু হতে যাচ্ছে আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা

ক্যাম্পাসে ক্রীড়াঙ্গনের ব্যস্ততা বাড়াতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শুরু হতে যাচ্ছে ‘আন্তঃবিভাগ ফুটবল (ছাত্র-ছাত্রী) প্রতিযোগিতা-২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে। ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীদের জন্যও থাকছে অংশগ্রহণের সুযোগ, ফলে নারী-পুরুষ উভয় শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে জমে উঠবে এবারের আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতা।

শনিবার (২৯ আগস্ট) শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. অভিন্ন কিবরিয়া ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহী বিভাগগুলোকে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক বরাবর সম্মতিপত্র পাঠাতে হবে। সম্মতিপত্র প্রদানকারী বিভাগগুলোকে নিয়ে পরবর্তীতে প্রতিযোগিতার ফিক্সচার প্রস্তুত করা হবে।

এতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো বিভাগের সম্মতিপত্র পাওয়া না গেলে ওই বিভাগকে বাদ দিয়েই প্রতিযোগিতার ফিক্সচার প্রস্তুত করা হবে। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না।

শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের আয়োজনে এবারের প্রতিযোগিতায় ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীদের অংশগ্রহণের বিষয়টিও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আন্তঃবিভাগীয় এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্র ও ছাত্রী উভয়ের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নীলফামারীতে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩০ পি.এম


নীলফামারীতে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৫

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে শহরের মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) থেকেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিস্ত্রিপাড়া শাখাওয়াত তালাও (পুকুর) এলাকার কিশোর গ্যাং গ্রুপের সাথে মিস্ত্রিপাড়া নবীনগর এলাকার গ্রুপের বিরোধ চলছে। এনিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ঘটনার সমাধানে বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শনিবার দুপুরে নবীনগর এলাকার সাহিদের ছেলে রাজা (১৮) মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে যায়। সেখানে শাখাওয়াত তালাও এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য সাদ্দাম, গোল্ডেন, সালাউদ্দিন ও জুয়েলের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন তার (রাজা) ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাৎক্ষণিক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।

এর প্রেক্ষিতে নবীনগর এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি-সোঁটা নিয়ে প্রতিপক্ষের এলাকায় গিয়ে মহড়া দিয়ে মিস্ত্রিপাড়া মোড়ে অবস্থান করে। আর এর ফাঁকেই শাখাওয়াত তালাও এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা উল্টোপথে নবীনগর এলাকায় গিয়ে বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর করাসহ সেখানকার নারী-পুরুষের উপর হামলা চালায়। এতে প্রায় ৫ জন আহত হয়। এঘটনায় এলাকার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সেখানকার লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

নবীনগর এলাকার আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী গুলশান আরা বলেন, শাখাওয়াত তালাও এলাকার ছেলেরা অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তারা আমার বাড়িতেও চড়াও হয় এবং আমাকে মারধর করেছে। অথচ দুই পক্ষের গ্যাঞ্জামের সাথে আমার পরিবারের কেউ জড়িত নয়। আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। এমনকি সাহিদের ছেলে রাজাকে যে কোপানো হয়েছে। সে এসবের মধ্যে ছিলনা। সে খুবই সাধারণ ও ভদ্র ছেলে। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাকেই মেরেছে। একারণেই এলাকার ছেলেরা ক্ষিপ্ত হয়েছে। আমরা এমন দুর্বৃত্তদের হাত থেকে বাঁচতে চাই। নিরীহ লোকজনকে নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।

মিস্ত্রিপাড়া মোড় এলাকার সাহিদের ছেলে ইমরান বলেন, একটা ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুক্রবার গ্যাঞ্জাম হয়। সে সময় তানভির নামে একটি শিশুকে শাখাওয়াত তালাও এলাকার ছেলেরা আটক করে মারধর করছিল। আমি এর প্রতিবাদ করে তানভিরকে ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। একারণে তারা আমাকে প্রতিপক্ষ মনে করে আমার বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে। অস্ত্র দিয়ে দরজায় ও জানালায় আঘাত করে প্লেনসিট বাঁকা করে ফেলেছে এবং বাড়িতে ঢুকে জিনিসপত্র তছনছ করেছে। আমরা পুলিশকে খবর দিলেও আসেনি। বরং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে যাওয়া যাবে না। কারণ এক নেতা নিষেধ করেছে।

নবীনগর এলাকার গৃহিণী নিপু বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কথা আমরা টিভির পর্দায় দেখেছি। কিন্তু আজ চোখের সামনে অস্ত্র নিয়ে ১৫-২০ জনের মহড়া দেখলাম। তারা আমাদের ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়েছে। এমনকি মহিলাদের গায়েও হাত তুলেছে। বাধা দেওয়ায় প্রায় ৫ জনকে এলোপাথাড়ি মারধর করে জখম করেছে। একারণে আমরা চরমভাবে আতঙ্কিত। তারা এলাকার রাজাকে নৃশংসভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে। সে এখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এই সন্ত্রাসীদের উচিত বিচার দাবি করছি।

সৈয়দপুর পৌরসভার ১৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক তারিক আজিজ বলেন, মূলত কী কারণে এই ঘটনা তা জানি না। তবে শনিবার সকালে শাখাওয়াত তালাও এলাকার ছেলে সাদ্দাম সাহেবপাড়া আমিন মোড় এলাকায় তার কর্মস্থল দর্জি দোকানে গেলে তাকে দোকান থেকে বের করে নবীনগর এলাকার ছেলেরা আটক করে মারপিট করে। এর প্রেক্ষিতেই পাল্টা হামলা চালানো হয়। বিষয়টা মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। সার্বিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%