প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভার থেকে অপহৃত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থীর এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি। গুম হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র মো. ওয়ালিউল্লাহ এবং আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগের ছাত্র আল মোকাদ্দাস। ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শাখা ছাত্রশিবির।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. ইউসুব আলী দুই শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এবং সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা তুলে ধরেন।
শাখা শিবির সভাপতি লিখেছেন, "৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। রাষ্ট্রীয় মদদে এবং ফ্যাসিবাদের নগ্ন থাবায় বিশ্বস্ত ও প্রিয়জনদের হারানোর বেদনায় যে পরিবারগুলো বছরের পর বছর প্রহর গুনছে, তাদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা। এই দিনে আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে স্মরণ করছি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র, আল মুকাদ্দাস এবং ওয়ালিউল্লাহ ভাইদের।"
মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহ কেবল তাদের নিজ নিজ বিভাগে অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখেননি, বরং তাদের প্রজ্ঞা, নেতৃত্ব ও মানবিক গুণাবলির কারণে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এবং পার্শ্ববর্তী সাধারণ মানুষের হৃদয়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। আদর্শিক ও গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে তাদেরকে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে ২০১২ সালে তৎকালীন স্বৈরাচারী খুনি শেখ হাসিনা সরকারের, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু নীতিভ্রষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং ছাত্রলীগের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই দুই মেধাবী ছাত্রনেতাকে গুম করা হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবে ছাত্র-জনতার অকাতর ত্যাগের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ বিপ্লব-উত্তর বাংলাদেশে দাঁড়িয়েও আমরা আমাদের এই প্রিয় ভাইদের কোনো সন্ধান পাইনি। এটি শুধু রাষ্ট্রের নয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও চরম ব্যর্থতা ও উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ। যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তা এই বর্বরোচিত গুমের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা এখনো স্বপদে বহাল আছেন, যা শহীদ ও গুম হওয়া পরিবারের সঙ্গে এক চরম নির্লজ্জতা ও তামাশার শামিল। আজও মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহ ভাইয়ের বৃদ্ধ ও অসুস্থ বাবা-মা পথ চেয়ে বসে আছেন-মৃত্যুর আগে অন্তত একবার হলেও আদরের সন্তানের মুখটি দেখার আশায়।"
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বর্তমান সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন, "স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই, অনতিবিলম্বে এই গুমের নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং আমাদের ভাইদের সন্ধান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ইসলামী ছাত্রশিবির কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।"
সতর্ক করে দিয়ে তিনি লিখেছেন, "এই ঐতিহাসিক দিনে আমরা এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি যে, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো মায়ের বুক খালি হতে দেওয়া হবে না। কোনো স্বাধীনচেতা নাগরিক যেন আর গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার না হন। একই সঙ্গে, বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে দেশের আনাচে-কানাচে যে নতুন ফ্যাসিবাদের অপছায়া বা গন্ধ আমরা পাচ্ছি, তা অঙ্কুরেই উপড়ে ফেলতে দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।"
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, তারা একসাথে ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকা থেকে কুষ্টিয়াগামী (হানিফ এন্টারপ্রাইজের ৩৭৫০ নম্বর) বাসে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হন। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাসটি সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৮ থেকে ১০ জন আল মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহকে নামিয়ে নিয়ে যান। মুকাদ্দাস ও ওয়ালিউল্লাহ ক্যাম্পাসে না ফেরায় তাঁদের বন্ধুরা পরিবারকে অবহিত করেন। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তাঁদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, তারা ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন