ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পরিবেশ রক্ষায় কুলিয়ারচরে ‘হেল্প সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস’-এর বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ


পরিবেশ রক্ষায় কুলিয়ারচরে ‘হেল্প সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস’-এর বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই বৃক্ষরোপণ ও বিনামূল্যে চারা বিতরণ কর্মসূচিটি শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ মোড় বাজারে পালিত হয়।

সামাজিক ও মানবিক সংগঠন ‘হেল্প সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন’-এর কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা এই উদ্যোগটি পরিচালনা করেছে। কর্মসূচিটি অত্যন্ত উদ্দীপনা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। চারা বিতরণের পাশাপাশি স্থানীয় নানা সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেগুলোর নিরসনে সচেতনতামূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার

এসময় বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী শামসুল আলম তৌফিকের সভাপতিত্বে এবং হেল্প সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি সাংবাদিক এম. এ বাতেন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য মো. ওয়াহিদুজ্জামান, বিশিষ্ট সমাজ সেবক নূরে আলম ভূইয়া (ফারুক), জাফরাবাদ বায়তুশ শরফ জামে মসজিদের সহ-সভাপতি এবং বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো. ছমির উদ্দিন, গোবরিয়া আবদুল্লাহপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও পল্লী চিকিৎসক মো. আকরাম হোসেন, বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো. সজীব মিয়া ও মো. রতন মিয়া।

এছাড়া, হেল্প সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক মোছা. নিলুফা আক্তার নীলা।

সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তারা জানান, "পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। মানবাধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি আমাদের চারপাশের পরিবেশ ও সমাজকে সুন্দর রাখা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।"

সভা শেষে উপস্থিত সকলের হাতে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া, এলাকার যেকোনো সামাজিক সমস্যা নিরসনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’-আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান কামরুল ইসলাম দাউদের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীঘিনালায় সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০৯ পি.এম


দীঘিনালায় সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় আদালতের সাজা পরোয়ানাভুক্ত সুব্রত ত্রিপুরা (৪৩) নামক এক আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চাপ্পাপাড়া এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীঘিনালা থানার এসআই (নিঃ) মোস্তাক আহম্মদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চাপ্পাপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। ওই সময় এসটি-১০৫/২২, সিআর-৩০৩/২২ মামলায় Negotiable Instruments Act, 1881-এর ১৩৮ ধারায় সাজা পরোয়ানাভুক্ত সুব্রত ত্রিপুরাকে তার বসতবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া সুব্রত ত্রিপুরা চাপ্পাপাড়া এলাকার ধনীপূর্ন ত্রিপুরার ছেলে। তিনি দীঘিনালা উপজেলার ৩১ নম্বর বোয়ালখালী মৌজার স্থায়ী বাসিন্দা।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, "আদালতের সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে সুব্রত ত্রিপুরাকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।" পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে বিধি অনুযায়ী আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর সুব্রত ত্রিপুরাকে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সীতাকুণ্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড: শিল্প সচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:০৯ পি.এম


সীতাকুণ্ডে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড: শিল্প সচিব

চট্টগ্রাম, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে বিষক্রিয়ায় নয় শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় জাহাজের ভেতরে মাত্রাতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে বিস্ফোরক অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের প্রাথমিক ধারণা হলো, বিষাক্ত এই গ্যাসের কারণেই শ্রমিকদের মৃত্যু ঘটেছে। তবে, এর বাইরে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শনিবার দুর্ঘটনাকবলিত শিপ ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান।

ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শিল্প মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং বোর্ড (বিএসবিআর) এর পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিল্প সচিব বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ১১ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ সদস্যের তদন্ত কমিটি এবং বিএসবিআর এর পাঁচ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, এর সঙ্গে কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি ছিল কি না- তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখতে কমিটিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে তাদের বলা হয়েছে। তদন্তে কারও অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাস বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিরাপদে অপসারণ করা হবে। আব্দুন নাসের খান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনায় যাতে আর কোনো প্রাণহানি না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।

এদিকে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরীক্ষার বরাত দিয়ে শিল্প সচিব জানান, জাহাজটিতে স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের পরিদর্শক এস এম সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিস্ফোরক অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক এসএম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি, ঘটনার মূল কারণ হাইড্রোজেন সালফাইডের বিষাক্ততা। আমাদের সমন্বিত কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়েছে, জাহাজ থেকে হাইড্রোজেন সালফাইড অপসারণ করা হবে।’

বিষাক্ত গ্যাস অপসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, হাইড্রোজেন সালফাইড সাধারণত পানিতে দ্রবীভূত হয়। এ কারণে সমন্বিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পানি দিয়ে জাহাজের ভেতরের অংশ ধুয়ে গ্যাস অপসারণ করা হবে।

এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুরোনো একটি এলএনজি পরিবহনকারী জাহাজ কাটার সময় জাহাজের বদ্ধ অংশে বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে শ্রমিকদের মৃত্যু ঘটে।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় ইয়ার্ডে ৩৪ জন শ্রমিক ও কর্মচারী কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে জাহাজের ভেতরে থাকা দুই শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধারে অন্য শ্রমিকেরা এগিয়ে গেলে তারাও বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন। পরে একে একে নয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়। আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের দুই ভাই মনসুর আহমেদ ও নাসির উদ্দিন রয়েছেন। অন্যরা হলেন সানি দাস, পলাশ দাস, রানা মিয়া, হাবিবুর রহমান, খোকন মিয়া, আব্দুল আলিম সুজন ও ১৭ বছর বয়সি মতিউর রহমান সাজ্জাদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১১ পি.এম


ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া

একদিনে দুবার জোড়া ভূমিকম্পে কাঁপল ইন্দোনেশিয়া। ভোরে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূকম্পনের পর একই দিনে ফের ৬.৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে এখনো অনেকে আটকে আছেন। এরই মধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

প্রথম ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে পূর্বঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপে। উদ্ধার কর্মকর্তা ফাথুর রহমান জানান, দ্বীপের চারটি শহরে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশী মাংগারাই অঞ্চলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে দুজন জীবিত আটকে আছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন। এখন মূল লক্ষ্য চাপা পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধার করা। তবে ভূমিধসে কয়েকটি সড়ক বন্ধ থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর সুনামির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উৎপত্তিস্থলের কাছের এলাকা নাগেকেওর বাসিন্দারা সমুদ্রের পানি সরে যেতে দেখে দ্রুত উঁচু স্থানে আশ্রয় নেন। পরে আবহাওয়া সংস্থা (বিএমকেজি) সুনামির সতর্কতা তুলে নেয়। তবে আফটারশকের কারণে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরতে নিষেধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৬.১ মাত্রার আফটারশকসহ ডজনখানেক কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।

ভোরের ঝাঁকুনি বেশ বড় ছিল বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা ইয়োহানেস বাবো। আরেক বাসিন্দা লুকাস লোতার জানান, আতঙ্কে হাসপাতালের রোগীরা বাইরে বেরিয়ে আসেন। তিনি ভবনের দেয়ালে ফাটলও দেখতে পান। ওই এলাকাগুলোতে মূলত ছোট শহর ও গ্রাম থাকায় বহুতল ভবন তেমন নেই।

ভূমিকম্পপ্রবণ ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে থাকায় দেশটিতে প্রায়ই এমন দুর্যোগ ঘটে। ১৯৯২ সালে এই ফ্লোরসেই ভূমিকম্প ও সুনামিতে আড়াই হাজার মানুষ মারা যান। আর ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামিতে দেশটিতে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

র‍্যাবের পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৬:১১ পি.এম


র‍্যাবের পরিবর্তে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে

ঢাকা, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ : সরকার ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে একটি নতুন বিশেষায়িত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে পরিচালিত হবে।

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুযায়ী এ বিশেষায়িত সংস্থাটি গঠন করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে, গত ৪ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জনগণের মতামত প্রদানের জন্য খসড়া আইনটি প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে [email protected] ইমেইল ঠিকানায় মতামত পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে র‌্যাবের বিদ্যমান আইনি কাঠামো প্রতিস্থাপন করে নতুন ইউনিটের অধীনে এর কর্মক্ষম সম্পদ, জনবল এবং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বসমূহ অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্যান্য সুশৃঙ্খল বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে পদায়ন, প্রেষণ বা সাময়িক সংযুক্তির মাধ্যমে এসআরবি গঠন করা হবে। এসআরবি গঠনের জন্য প্রেষণ বা সংযুক্তির মেয়াদ সাধারণত ন্যূনতম দুই বছরের জন্য হতে পারে।

এদিকে, ইউনিটের সদরদপ্তর ঢাকায় অবস্থিত হবে। তবে সরকারের অনুমোদনক্রমে দেশের অন্যান্য স্থানে এর অধীনস্থ কার্যালয় স্থাপন করা যাবে। এটি বিভিন্ন সেকশনে বিভক্ত থাকবে, যেমন ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি ও প্লাটুন।

এসআরবি প্রধান হিসেবে একজন মহাপরিচালক (ডিজি) থাকবেন, যিনি বাংলাদেশ পুলিশের কর্মরত অন্তত অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে সরকারের দ্বারা নিয়োগ করা হবে।

মহাপরিচালক পুলিশ মহাপরিদর্শকের সাধারণ নিয়ন্ত্রণের অধীনে প্রশাসনিক, আর্থিক ও পরিচালনাগত ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

প্রস্তাবিত এসআরবি-কে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদ, সংগঠিত অপরাধ, সাইবার অপরাধ, মাদকপাচার ও অবৈধ অস্ত্রসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ মোকাবিলার দায়িত্ব প্রদান করা হবে।

এছাড়া এর কার্যাবলিতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রতিরোধ, অপহরণ, হত্যা, গুম, জমি দখল রোধসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সহায়তা করাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আদালত, সরকার অথবা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশ পেলে এই ইউনিট মামলা দায়ের এবং ফৌজদারি তদন্ত পরিচালনা করার সুযোগ পাবে।

ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইন সাপেক্ষে এসআরবি কর্মীরা মাদক, অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসবাদ, মানবপাচার, সংগঠিত অপরাধসহ অন্যান্য আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা সহকারে নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। তবে খসড়ায় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি এবং জব্দকৃত আলামত অবিলম্বে নিকটস্থ থানায় হস্তান্তর এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিলের বিধান রাখা হয়েছে।

ফৌজদারি তদন্তের জন্য অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যাবে।

খসড়ায় এসআরবি সদর দপ্তরে আটক কেন্দ্র, মালখানা এবং জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ স্থাপনের বিধান রেখেছে। ‘এসআরবি’ কর্মীদের জন্য খসড়াটিতে বিস্তারিত শৃঙ্খলা কাঠামোর রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।

বৈধ আদেশ অমান্য করা, কর্মস্থল ত্যাগ করা, সহকর্মীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দায়িত্ব পালন, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, অবহেলা এবং অবিলম্বে অর্থ আদায়ের মতো অসদাচরণের জন্য শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

অবস্থার কারণে অভিযুক্ত কোনো সদস্যকে সুনির্দিষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থা সাপেক্ষে আটক রাখা যাবে। এই সুরক্ষাব্যস্থায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে আটক সত্ত্বেও কাউকে লিখিত নোটিশ প্রদান, তদন্ত শুরু করা এবং প্রাথমিক কোনো প্রমাণ না পাওয়া গেলে মুক্তি দেয়া।

নাগরিকদের অভিযোগ এবং এসআরবি কর্মীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ সমাধানের জন্য একটি পৃথক ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কমিটি গঠনের মধ্যে সরকারের প্রতিনিধি, এসআরবির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার বিভাগীয় প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

কমিটিকে অভিযোগ তদন্ত করার, অভিযোগ প্রমাণিত হলে পদক্ষেপের সুপারিশ করার এবং অসন্তোষ পরীক্ষার ক্ষমতা দেওয়া হবে।

এটি ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনও সরকারকে জমা দিতে পারবে।

অন্তর্বর্তীকালীন বিধানের অধীনে, র‌্যাবের সম্পদ, তহবিল, ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি, রেকর্ড এবং চুক্তির বাধ্যবাধকতা এসআরবিতে স্থানান্তরিত হবে।

র‌্যাবের বিদ্যমান সকল কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র কর্মীরা এসআরবির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। নতুন আইনের অধীনে পরবর্তীতে সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিদ্যমান চাকরির শর্তাবলী অপরিবর্তিত থাকবে।

নতুন আইনের সাথে সঙ্গতি রাখা সাপেক্ষে, বিদ্যমান র‌্যাবের মামলা, আইনি প্রক্রিয়া, বিভাগীয় কার্যক্রম এবং শৃঙ্খলা অব্যাহত থাকবে।

নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত, বিদ্যমান ‘র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যবস্থাপনা (কোর্ট প্রসিডিউর ও ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিংস) রুলস, ২০০৫’ প্রযোজ্য হতে থাকবে।

প্রস্তাবিত আইনটিতে এসআরবি-র কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে এবং কার্যক্রম ও তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণের জন্য সদর দপ্তরে একটি বিশেষ গবেষণা ইউনিট গঠনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আইনটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিধি ও প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা সরকারের হাতে রাখা হবে। প্রস্তাবিত আইনটি পাস হলে, এটি র‌্যাব থেকে এসআরবিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে একটি বড় প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হবে।

একইসাথে, বাংলাদেশ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকা নতুন কাঠামোর আওতায় বিদ্যমান বাহিনীর জনবল, সম্পদ ও আইনি দায়িত্বের বড় একটি অংশ অক্ষুণ্ন থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%