০৯:০২ পি.এম
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বহুল আলোচিত ৭২ একর খাস জমি বন্দোবস্ত কান্ডের অভিযোগে কলাপাড়ার সাবেক ইউএনও আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হককে অবশেষে শাস্তি দেয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৫ শাখা ২৩ জুলাই এই শাস্তি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, শহিদুল হক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন না করেই ওই ৪২টি ভুয়া কবুলিয়তে স্বাক্ষর করে দেন। এর ফলে মোট ৭১ দশমিক ৬৩ একর সরকারি খাসজমি অব্যবস্থাপনার শিকার হয় এবং এটি সরকারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়।
সোমবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সালে কলপাড়ায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে বিপুল অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে ২৫ কোটি টাকা মূল্যের ৭২ একর খাস জমি তিনি বন্দোবস্ত দেন ৪২ বিত্তবানের নামে। এ সময় ইউএনও'র দায়িত্বের পাশাপাশি শহিদুল হক সহকারী কমিশনারের (ভূমি) অতিরিক্ত দায়িত্বেও ছিলেন। খাস জমি বন্দোবস্ত কাণ্ডের বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ার পর জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে একটি দায়সারা গোছের ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। দ্রুততার সঙ্গে অভিযুক্ত ইউএনও নিজে বাদী হয়ে সার্ভেয়ার মো. হুমায়ুন কবিরকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কলাপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সার্ভেয়ার হুমায়ুনকে গ্রেফতার করে জেলা কারাগারে পাঠানোর পর মামলার অভিযোগ দুদক আইনের আওতায় থানা থেকে তদন্তের জন্য দুদক জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর দুদক অনুসন্ধানে নামে এবং এটা দীর্ঘকাল অবধি প্রক্রিয়াধীন থাকে। রহস্যজনক কারণে দুদকের কাছে এ সম্পর্কিত আর কোন তথ্য জানা যায়নি। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই কাজকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ২০২৫ সালে শহিদুল হকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগের জবাবে তিনি লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন জানান।
সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর তাঁর শোনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে শোনানিতে দেওয়া তার বক্তব্য সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একজন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে অনুমোদিত সীমার বাইরে গিয়ে অস্বাভাবিক সংখ্যক কবুলিয়ত তৈরি হওয়া, জমির পরিমাণে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে দৃশ্যমান কাটাছেঁড়ার চিহ্ন থাকা। তদন্ত কর্মকর্তার মতে, এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ঠিকভাবে যাচাই না করেই স্বাক্ষর দেওয়া প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে স্পষ্ট অবহেলার চিহ্ন প্রকাশ করে। এই পর্যবেক্ষণে ভিত্তি করে তিনি প্রতিবেদনে জানান, শহিদুল হকের বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। সেজন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় শহিদুল হকের এক বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার লঘুদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বেগমগঞ্জে তরুণ কামরুল হাসানকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন