প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড)-এর নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাওয়া যাবে প্রায় ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লাখের বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) ভাইস প্রেসিডেন্ট লি চাংগুই এবং বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনকিয়ান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
অনুষ্ঠানে প্রায় ৭০ জন চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এসময় সিইআইজেডের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন, কয়েকটি সাব-লিজ চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে এবং বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেন, দেশের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে বিনিয়োগ। সিইআইজেডের অগ্রগতি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত। সিইআইজেডের নির্মাণকাজের সূচনা কেবল একটি প্রকল্পের উদ্বোধন নয়, বরং এটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের নতুন ভিত্তি।
চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন মন্তব্য করেন, চট্টগ্রামে সিইআইজেডের নির্মাণকাজের সূচনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সফলতার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি যোগ করেন, দুই দেশের নেতৃত্বের ঐকমত্যকে বাস্তব উন্নয়নে রূপ দেবার জন্য চীন বাংলাদেশকে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী জুন মাসের বেইজিং ও দালিয়ান সফরের পরে ৩০টির বেশি চীনা কোম্পানি এই জোনে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে নতুন শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন ১৪ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা চালু করা হবে।
প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে সিইআইজেড, যা সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগে নির্মিত হচ্ছে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ ৩০ শতাংশ এবং চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন (সিআরবিসি) ৭০ শতাংশ মালিকানায় বাংলাদেশ সিইআইজেড কোম্পানি লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
বিশ্বমানের শিল্প অবকাঠামো গড়ে তুলতে সিইআইজেডের সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণে প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এর আওতায় জেটি, চার লেন সড়ক, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি), গ্যাস ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সাবস্টেশন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
প্রকল্পটির অবকাঠামো নির্মাণকাল ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এ অর্থনৈতিক অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্প বিনিয়োগের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বেজা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সিইআইজেড বাস্তবায়নের মাধ্যমে রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চট্টগ্রামকে আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন